শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৪১ অপরাহ্ন

অনুভুতি প্রকাশ করলেন বার্তা-২৪ এর সেরা সাংবাদিক ফরহাদুজ্জামান ফারুখ

অনুভুতি প্রকাশ করলেন বার্তা-২৪ এর সেরা সাংবাদিক ফরহাদুজ্জামান ফারুখ

রংপুর অফিসঃ

অনুভুতি প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। কিভাবে শুরু করব, সেটাই ভাবছি। তবু দুই লাইন না বললেই নয়। আমি ক্ষুদ্র হলেও এই অর্জনটা অনেক বড়। অনেক বড় মাপের এক জনকের কাছ থেকে কিছু নিতে পারাটা সত্যি সৌভাগ্যের। বলছি- আমার কর্মস্থল barta24.com- এর আদর-স্নেহ, যত্ন আর ভালোবাসার কথা।

বার্তার সাথে আছি প্রায় আট মাস ধরে। এই পথচলায় বার্তাকে কতটুকো দিতে পেরেছি, তার যোগ গুণ ভাগ করার সাহস আমার নেই। তবে বার্তা থেকে যা পেয়েছি, তা অফুরান। কখনো ভাবিনি জিরো থেকে হিরো হওয়া যায়। বার্তা আমাকে তাই বানিয়েছে।

অনলাইন জগতে নিজেকে আবিষ্কার করার সুযোগটা অর্থ সূচক.কম থেকে শুরু। এরপর একে একে বাংলামেইল২৪.কম, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি, সোনালী নিউজ.কম, গোনিউজ.কম। এসবের ভিতরে স্থানীয় নিউজ পোর্টাল উত্তর বাংলাতেও আমার সময় গেছে।

আমি উত্তরবাংলায় একবার সেরা রিপোর্টার এর পুরষ্কার পেয়েছিলাম। সেটা ২০১৩ সালের অর্জন। ওই বছরেই জাতীয় পর্যায়ে শিশুপাতা সম্পাদনার জন্য পিআইবি-সেভ দ্য চিলড্রেন পুরষ্কার পেয়েছিলাম দাবানল এর শিশুপাতা ‘‘শিশু ভুবন’’ এর সম্পাদক হিসেবে। সেবার আমি দাবানল এর বর্ষ সেরা প্রতিবেদকের পুরষ্কারটাও লুফিয়ে নিয়েছিলাম। বাংলামেইল-এ কাজের শুরুতে দ্য বেস্ট কোয়ালিটি রিপোর্টারের সম্মান বার্তা পেয়েছিলাম।

এসব অর্জন ছিল আমার এগিয়ে যাবার জন্য অনুপ্রেরণা- প্রণোদনা। আর যা কিছুই সফলভাবে পেয়েছি সবই সম্ভব হয়েয়ে সহকর্মিদের ভালোবাসা, পরামর্শ এবং স্নেহমুখর শুভাশীসের জন্য। এরজন্য আমি কৃতজ্ঞ যার হাতে আমার সংবাদ হাত খড়ি শ্রদ্ধেয় তৌহিদুল ইসলাম বাবলা চাচার প্রতি। শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি মরহুম শেখ কল্লোল আহমেদ এবং ইকবাল হোসেন আংকেলকে। কৃতজ্ঞতা আব্দুল হালিম আনছারী আংকেল, দাবানল সম্পাদক খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুল বস, মেরিনা লাভলী আপা, জাভেদ ইকবাল ভাই, আলী আশরাফ চাচা, শাহাজাদা মিয়া আজাদ চাচা, সরকার মাজহারুল মান্নান শ্বশুড়, মোস্তফা ইমরুল কায়েস ভাই সহ অনেকের প্রতি।

২০১৫ সালের পর থেকে প্রাপ্তির খাতাটা শুন্য ছিল। তবে থেমে ছিলাম না লেখা-লেখি থেকে। পত্রিকাতে দীর্ঘ এক যুগের লেগে থেকে যা, পাইনি তার চেয়ে বেশি পেয়েছি অনলাইন জগতে ডুব দিয়ে।

অনলাইন জগতের প্রাণ পুরুষ, যার হাত ধরে বাংলাদেশের অনলাইন মিডিয়ার উদ্ধাবন। সেই জনকের সাথে দেখা করতে পারা, তার কাছে যেতে পারা বা তার অধিনে কাজ করার সুযোগ পাওয়াটা আমার কাছে অনেক বড় কিছু পাওয়ার মতই।

সেটা নিয়ে আমার স্বপ্নও ছিলো। চেষ্টাও করেছিলাম বাংলানিউজ-এ। কিন্তু কপাল সায় মেলেনি। তবে হাল ছাড়িনি। অবশেষে বাংলাদেশের অনলাইনের জনকের আরেক বিস্ময়কর সৃষ্টি ‘‘barta24.com”-এ সেই সুযোগটা তৈরি হলো। যেটা কিনা আমার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন। শুরু থেকেই পুরোনো সহকর্মি প্রিয় আপু মিলিথা মুন্নি আমাকে যথেষ্ট সাহস যুগিয়েছেন। সব সময় ভালো কিছু করবার জন্য পরামর্শ দিয়ে গেছেন। আর দূরে থেকে সবসময় কাছে থাকা মানুষগুলোর মত আমার কাজের খোঁজ খবর রাখতেন শ্রদ্ধার আরেক নাম নিয়ন ভাই।

আসলে সবার ভালোবাসা না থাকলে শুধু একা একা বড় হওয়া যায় না। যেটা কিনা এই বার্তায় আমি শিখেছি। কারো সুপারিশে নয়, শুধু ভালোবাসা, পরামর্শ আর নিজের প্রতি আস্থা রেখে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম আমি নদীতে সাঁতার কাটতে না পারলেও বর্তমান ভার্চুয়াল জগতের অনলাইন মহাসাগরে ডুব দিয়ে থাকতে পাবর। এখনো অনেক বড় বড় ঢেউ আসবে, সেই ঢেউগুলো হবে আমার জন্য নতুন আইডিয়া। বিচিত্র রকমের সংবাদ তৈরির কলা-কৌশল। সেটা আমি রপ্ত করতে পেরেছি। এর জন্য আমি কৃতজ্ঞ চামেলী আপুর প্রতি।

সত্যি আমার বিশ্বাস হয়নি আমি অনলাইন মিডিয়ার পথের দিশারী আলমগীর হোসেন স্যারের সামনা-সামনি যেতে পারব। খুব ভয় পেতাম তাকে ফোন দিতে। একারণে প্রায় এক বছর আগে তার নম্বরটা মুঠোফোনে আগলে রাখলেও কথা বলার সাহস করিনি। ভাবতাম যদি ভালো কাজ করতে পারি, হয়তো স্যারই আমাকে একদিন ফোন করবেন।

সেই ভাবনাটাই যে সত্য হবে, এটা এখনো আমার কাছে অবিশ্বাস্য। সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষটি আমাকে ফোন দিলেন। কথার ফাঁকেজুড়িয়ে দিলেন একটা এ্যাসাইনমেন্ট। যদিও আমি সেটি করতে পারি নি। কিন্তু চেষ্টা ছিলো।

আলমগীরের কথা অনেক শুনেছি। সবশেষ ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকা থেকে রংপুরে এসেও মুঠোফোনে তার কাছ থেকে গুড শব্দটি শুনতে পেরেছি। গুড মানে ভালো। ওনি সত্যি ভালো কিছু করতে চান। এদেশের অনলাইন জগতকে ভালোর সাথে আলোতে রাখতে চান। যেকারণে গুড শব্দটি তার কাছে বেশি মানান সই। স্যারের সাথে প্রথম দেখা ৮ ফেব্রুয়ারি। তাও আবার স্যারের আমন্ত্রণে ভালোবাসার আতুর ঘর barta-য় গিয়ে। দীর্ঘ সময় স্যারের সাথে থাকার সময় না হলেও যেটুকো সময় পেয়েছি, সেটা নিজেকে এগিয়ে রাখার জন্য অনেক লম্বা সময়। তার পরামর্শ, কথা বলার স্টাইল, নিউজ আইডিয়া এবং ভালোর কাজের মূল্যায়ন নীতি সত্যি অনবদ্য ইতিহাস। এই মানুষটির হাত দিয়েই দেশের প্রথম অনলাইন পোর্টাল বিডিনিউজ এর যাত্রা হয়েছিল। তিনি তো সফল মানুষ। তা না হলে মাত্র আট মাসের barta24.com কি আলোচনার মাধ্যম হত। হ্যা, বার্তা এখন সবচে অল্প সময়ে স্বল্প পরিসরে কম জনবল নিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে থাকা দেশের একমাত্র মাল্টিমিডিয়া অনলাইন নিউউ পোর্টাল। এটা আমার বিশ্লেষণ। এতে কারো আপত্তি থাকলে, সেটা হবে তর্কের খাতিরে তর্ক করার মত।

যাই হোক, স্যারের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বার্তায় যা পেলাম, তা আমার কাছে অকল্পনীয়। আমি ভাবতেও পারছি, তিনি এভাবে ভালোবেসে কাছে নেন। সত্যি ঢাকার বাইরের সংবাদকর্মীদের এমন বড় মূল্যায়ন হয়তো হাতে কিছু প্রতিষ্ঠানই করে থাকে। তবে স্যার যেখানে ছিলেন সেখানেই এই ধারাটার প্রচলন করেছিলেন। আমি বার্তার কাছে ঋণী। আমার মনে বার্তাকে আমি এখনো তেমন কিছু দিতে পারিনি। কিন্তু আমাকে বার্তা যা দিয়েছে, এটা আমার জন্য অনেক অনেক বড় পাওয়া। এই বড় অর্জনের ওপর ভর করে সারাদেশে বার্তাকে ছড়িয়ে দিতে আমি থাকতে চাই। চাই সবার ভালোবাসা। যেমনটা নিউজ রুমে বসে সবার কাছ থেকে পেয়েছি।

আসলেই বার্তা শুধু নিউজ পোর্টাল নয়। এটা একটা ভালোবাসার পূণ্যসেতু। আমার ইচ্ছে করে টেলিভিশনে কাজ করতে। এটা দীর্ঘ দিনের ইচ্ছে। সেই ইচ্ছেটাও পূর্ণতা পেয়েছে বার্তা-তে। বার্তায় হয়তো টেলিভিশনের মত করে খবর পরিবেশন হয় না। কিন্তু খবর তৈরি হয়।
যেখানে আমি-আমরা ভিজুয়্যাল সংবাদ তুলে ধরছি। কখনো কখনো টিভি রিপোর্টারদের মত নির্ভয়ে দিয়েছি-দিচ্ছি এবং দিব পিটিসি। এটাও কি কম পাওয়া।

আমি জানি সব অর্জন ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তবে এটুকো জানি- আলমগীর হোসেন স্যার শুধু গুড বলেন না, গুড মানুষ তৈরিও করেন। সেই গুড মানুষটি হতে সংবাদ জগতে থাকতে চাই। বেঁচে থাকতে চাই কাজের মধ্য দিয়ে সবার হৃদয়ে।


© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এনপিনিউজ৭১.কম
Developed BY Rafi It Solution