মঙ্গলবার, ১৫ Jun ২০২১, ১২:১১ পূর্বাহ্ন

আমার শেষ রক্তবিন্দু থাকতেও আমি নগরবাসিকে না খেয়ে থাকতে দেব না: সিটি মেয়র মোস্তফা

আমার শেষ রক্তবিন্দু থাকতেও আমি নগরবাসিকে না খেয়ে থাকতে দেব না: সিটি মেয়র মোস্তফা

এনপিনিউজ৭১/নিজেস্ব প্রতিবেদক/ ৪ মে

হয় খাবার, নয় রিকশাসহ অন্যান্য ছোট যানবাহন চালানোর অনুমতির দাবিতে সোমবার রংপুর সিটি করপোরেশনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেছে রিকশা, ইজিবাইক ও ভ্যান চালকরা। এসময় একজন রিকশা চালক গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েন।পরে সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার হস্তক্ষেপে অবরোধকারীরা ফিরে যান।মেয়র তাদের বলেন, আমি বেঁচে থাকতে একজন নগরবাসিও না খেয়ে থাকবে না।

সোমবার বেলা সোয়া ১২ টায় রংপুর সিটি করপোরেশনের সামনে অবস্থান নেয় নগরীর প্রায় ৫ শতাধিক ইজিবাইক, রিকশা ও ভ্যান চালক। একারণে নগরীর প্রধান সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। এসময় তারা গাড়ি চালানোর সুযোগ, নয়তো খাবার দেয়ার দাবি জানান।

এসময় অবরোধকারীরা বিক্ষোভ করেন। অবরোধের সময় বিপুল পরিমান মানুষের উপস্থিতি ও গরমে একজন রিকশা চালক নগরভবন ক্যাম্পাসে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। পরে তার মাথায় পানি ঢেলে তাকে সুস্থ্য করা হয়।

তারা দাবি জানিয়ে বলেন, লকডাউনে যানবাহন নিয়ে বের হলেই টায়ার ফুটো করে হাওয়া ছেড়ে দিচ্ছে পুলিশ। এতে গাড়ি অকেজো হয়ে যাচ্ছে।এমনিতেই গাড়ি চালাতে না পারায় তাদের রোজগার বন্ধ। ফলে পরিজন নিয়ে উপোষ থাকতে হচ্ছে তাদের। গত দেড় মাসে তারা সরকারী ১০ কেজির বেশি চাল পান নি। এমতাবস্থায় এসব ছোট যানবাহন চালানোনের অনুমতি দিতে হবে। তা না হলে আমরা বাঁচবো না। যদি গাড়ি চালানোর অনুমতি না পাই তাহলে আমাদেরকে খাবারের জন্য মিনিমাম চালটুকু দিতে হবে।

এসময় অনেক রিকশা চালক অভিযোগ করেন, অনেক জায়গা থেকে নুডলসসহ বিভিন্ন সামগ্রী দেয়া হচ্ছে। এসব নুডলস নিয়ে আমরা কি করবো। আমাদের চাল ডাল আলু চাই। পেটে দিতে হবে আমাদের। প্রায় ঘন্টাখানেক অবরোধের মুখে থাকার পরে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্স শেষ করে আসেন নগর পিতা মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। এসময় তার সাথে ছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাফিউর রহমান শফি ও সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডলসহ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা।

নগরপিতা মোস্তফা অবরোধকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহনের কারণে আপনাদের কাছে আসতে দেরি হলো। আমি যা পাচ্ছি তা দিচ্ছি। যারা বঞ্চিত হয়েছেন তাদের তালিকা তৈরি করার জন্য তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, আমি বেঁচে থাকতে আমার করপোরেশনের কোন শ্রেনি পেশার মানুষ না খেয়ে থাকবে না। আমি যেখান থেকেই পারি সেখান থেকে নিয়ে এসেই তাদের খাবারের ব্যবস্থা করবো। আপনারা শুধু আমাকে জানাবেন। কোথাও কেউ খাবার নিয়ে ধান্দাবাজি করলে সেটাও আমাকে জানাবেন।পরে অবরোধকারীরা মেয়রের আশ্বাসে আস্থা রেখে অবরোধ তুলে নেন।

রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানিয়েছেন, চলমান লকডাউনে সিটি করপোরেশন থেকে সরকারী সহযোগিতার ৬০০ মেট্রিক টন এবং সিটির নিজস্ব তহবিলের ১৬২ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। চাল বিতরণে যেসব অভিযোগ এসেছে। আমরা তা খতিয়ে দেখছি। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন আমার শেষ রক্তবিন্দু থাকতেও আমি নগরবাসিকে না খেয়ে থাকতে দেব না। এজন্র তিনি সরকার এবং বিত্তবানদেও সহযোগিতা কামনা করেন।

এনপ৭১


© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah