মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ০৫:০৫ অপরাহ্ন

আমাশু কুকরুল এলাকার কলেজ ছাত্রীর মিমের লাশ উত্তোলন

আমাশু কুকরুল এলাকার কলেজ ছাত্রীর মিমের লাশ উত্তোলন

আমাশু কুকরুলের এলাকর কলেজ ছাত্রীর মিমের লাশ উত্তোলন

রংপুরে আদালতের আদেশে দাফনের ১৫ দিন পর উত্তোলন করা হলো কলেজ ছাত্রী ইসরাত জাহান মীমের লাশ্। ডিসি অফিসের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মলিহা খানমের উপস্থিতিতে বুধবার দুপুরে নগরীর মুন্সিপাড়া কবরস্থান থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়।

 

রংপুর ডিসি অফিসের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মলিহা খানম জানান, গত ১৬ জুন রংপুর মেট্রোপলিটন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরশুরাম আমলী আদালত একটি মামলা করেন নগরীর আমাশু কুকরুল এলাকার বাসিন্দা রংপুর সরকারি সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ইসরাত জাহান মীমের মা নার্গিস বেগম। মামলায় বলা হয় গত ৭ জুন মীমকে তার বান্ধবি আইভি বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরের দিন ৮ জুন বাড়ির পাশের পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার হলেও ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফন হয়। কিন্তু লাশের গোসলের সময় বিভিন্ন নির্যাতনের দাগ থাকার কারণে বিষয়টি স্বাভাবিক মৃত্যু নয় হিসেবে আলোচনায় নিয়েই মা নার্গিস বেগম মামলাটি করেন।

তিনি আরও জানান, আদালতের বিচারক মামলাটি গ্রহন করে পুলিশকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনার পাশাপাশি কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের আদেশ দেন। সেই আদেশেই বুধবার দুপুরে নগরীর মুন্সিপাড়া কবরস্থান থেকে মীমের লাশ উত্তোলন করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পাঠানো হয়।

রংপুর মেট্রোপলিটন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের কোর্ট ইনসপেক্টর নাজমুল কাদির এনপি নিউজ ৭১ কে জানান, ১৬ জুন আদালতে মামলা দায়েরের পর ১৮ জুন আদালতের বিচারক শেখ জাবিদ কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন। এরইমধ্যে এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলেশ ১৯ জুন আদালতে হাজির করলে তাদের তিন দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করে।

পরশুরাম থানার অফিসার ইনচার্জ হিল্লোল রায় জানান, আদালতে মামলা দায়েরের পরপরই আমরাই মীমের বান্ধবী আইভি, তার ভাই মুন্না ও বন্ধু আল আমিন টাইগারকে গ্রেফতার করেছি। তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ন তথ্য পাওয়া গেছে। কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। সুরুতহাল রিপোর্ট তৈরি এবং ময়না তদন্ত শেষে লাশ আবারও দাফন করা হবে।

মামলায় অভিযোগ আনা হযেছে, মীম প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আল আমীন টাইগার কৌশলে তার বন্ধু মুন্নার বোনকে দিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষন ও পরে শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য পুকুরে ফেলা দেয়া হয়।

মীমের মা নার্গিস বেগম জানান, আমার নির্দোষ কন্যাকে যারা এভাবে হত্যা করেছে। তাদের আমি ফাঁসি চাই।

মীমের বাবা সবজি বিক্রেতা আব্দুল মালেক। এ ঘটনায় মুর্ছা গেছেন তিনি।

লাশ উত্তোলনের সময় মীমের স্বজন ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।


© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah