সংবাদ শিরোনাম :

আলোচনার জন্য ডেকেছেন এরশাদ

জাতীয় পার্টিতে (জাপা) জিএম কাদের ইস্যুতে গণপদত্যাগের হুমকি দেওয়া নেতাদের শান্ত করার চেষ্টা চলছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও রওশন ফোন করে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।

এমন তথ্য  নিশ্চিত করেছেন আন্দোলনের অন্যতম নেতা জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

রসিক মেয়র বলেন, ‘আমাকে ম্যাডাম (রওশন এরশাদ) ফোন করেছিলেন। তিনি মাথা গরম করতে নিষেধ করেছেন। বলেছেন, তোমার স্যার (এরশাদ) এটা করেছেন। উনি অসুস্থ চাপ দিও না আমি করিয়ে নিচ্ছি। প্রত্যুত্তরে আমি তাকে বলেছি, আমরা আল্টিমেটাম দিয়েছি, একটা ফিডব্যাক পেতে হবে। না হলে গণপদত্যাগ ছাড়া ফিরছি না।’

মোস্তফা বলেন, ‘স্যারও (এরশাদ) ফোন করেছিলেন আমাকে। বলেছেন ওভার টেলিফোনে আলাপ করা সম্ভব না। তুমি ঢাকায় এসে দেখা কর। তোমার সঙ্গে কথা আছে।’

মেয়র বলেন, ‘আমরা আট জেলার নেতারা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। জিএম কাদেরকে যদি কো-চেয়ারম্যান পদে পুনঃবহাল না করা হয় তাহলে প্রথমে গণপদত্যাগ এরপর জাপার কার্যক্রম প্রতিহত করা হবে। এখান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই। এটা জাপার অস্তিত্বের প্রশ্ন। কিছু নেতা রয়েছে যারা জাপাকে ধ্বংস করে নিজেদের পকেট সংগঠন করতে চায়। আমরা এটা হতে দিতে পারি না।’

জিএম কাদেরকে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কো-চেয়ারম্যান করা হয়। তখন পার্টির গঠনতন্ত্রে এমন পদ ছিল না। কিছুদিনের মধ্যে রওশন পন্থীদের চাপে রওশনকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান করা হয়। পরের কাউন্সিলে দুটি পদ গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এবার নির্বাচনের সময় এরশাদ বেশি অসুস্থ হলে জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যানের অবর্তমানে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ গত ১৮ জানুয়ারি জিএম কাদেরকে পার্টির ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন এরশাদ। একই সময়ে সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা করা হয়। কিন্তু কোনো রকম পূর্বাভাস ছাড়া গত ২২ মার্চ পার্টির ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় জিএম কাদেরকে। চিঠিতে বলা হয়, জিএম কাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ ও পার্টির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছেন।

এ বিষয়ে জিএম কাদের’র বক্তব্য হচ্ছে, ‘আমি পুরোপুরি দায়িত্বই পেলাম না, তাই ব্যর্থ হওয়ার কথা মানতে পারছি না।’ আর যেদিন তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তার একদিন আগে ভাই এরশাদের সঙ্গে তার একান্তে কথা হয়।

তখন এরশাদ বলেছিলেন, ‘কাজ ভালো হচ্ছে, তোকে পার্টির দায়িত্ব দিয়েছি সুন্দরভাবে সংগঠন গুছিয়ে তোল’। এর পরদিনে অব্যাহতি দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন জিএম কাদের।

অব্যাহতির চিঠিতে এরশাদ আরও লিখেছিলেন, জিএম কাদেরের সংসদের উপনেতা পদ প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেবে পার্টির পার্লামেন্টারি ফোরাম। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মত বদলিয়ে নিজেই উপনেতার পদ থেকেও সরিয়ে দেন এরশাদ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রংপুর বিভাগের জাপার নেতারা। ৫ এপ্রিলের মধ্যে জিএম কাদেরকে স্ব-পদে বহাল না করলে গণপদত্যাগের হুমকি দিয়েছে। হাতে মাত্র তিনদিন সময় রয়েছে।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, ‘আমি ঢাকার বাইরে রয়েছি। এসে পার্টির চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে পার্টির চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। এটা কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারে না।’

Related Posts

leave a comment