বুধবার, ১৬ Jun ২০২১, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন

আসবি না ফিরে??…..মোঃ মাজেদুল ইসলাম

আসবি না ফিরে??…..মোঃ মাজেদুল ইসলাম

আসবি না ফিরে??

-মোঃ মাজেদুল ইসলাম

আমাদের এই বাংলাদেশ সবুজ শ্যামলে ভরা , মাঠ ভরা সোনালী ধান ক্ষেত গ্রামের মানুষের মুখে হাসি জোয়ার ভাটা হয়ে যায় যখন কৃষকেরা ধান কেটে বাড়ি আনে । আনন্দে ভরে উঠে প্রতিটি মানুষের বুক কিন্তু হঠাৎ কেন যে সব মানুষ নিস্তব্ধ হয়ে গেলো। কারো  মুখে হাসি নেই সবাই যেন বোবা হয়ে গিয়েছে তখন ১৯৭১  সাল । পাকিস্তানীরা বাংলাদেশে মানুষের উপর অত্যাচার শুরু করেছে । বাংলার মাঠ রাস্তাঘাট হাট-বাজার সব রক্তে লাল হয়ে গেছে ।  এমনকি তারা  গ্রামের সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার শুরু করে দিল এবং শত শত মানুষকে হত্যা করলো।মরুয়াদহ গ্রামে তখনও পাকিস্তানি সেনারা ঢোকেনি । একদিন হঠাৎ রাতে পাকিস্তানি সেনারা ঢুকে বেশ কয়েকজনকে  হত্যা করলো । গ্রামে রফিকুল নামে  একজন লোক বাস করতো তার স্ত্রীর নাম রাহেলা বেগম । তাদের এক ছেলে নাম রাকিব ও এক মেয়ে  নাম মিম । রাকিব দশম শ্রেণীতে এবং মিম তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে । ওরা এই  সবের কিছুই বোঝে না তার বাবাকে বললেন আজ রাতে কারা যেনো আমাদের গ্রামে অনেক গুলো মানুষকে হত্যা করেছেন। কারা বাবা এরা? রফিকুল চুপ করে থাকেন কোন কথা বলেন  না । কিছুক্ষণ পরে বললেন এরা হলো মিলিটারি এরা আমাদের মায়ের মুখের ভাষাকে কেড়ে নিয়ে তাদের উর্দু ভাষাকে চাপিয়ে দিতে চায় । মিম বলেন  বাবা এদের বিরুদ্ধে কি কেউ প্রতিবাদ করে না??  রফিকুল মিয়া উত্তরে বলেন না।  প্রতিবাদ করতে যে  যাবে তাদেরকে হত্যা করে ফেলবো এবং এরা খুব নিষ্ঠুর এদের সামনে যে মাথা উঁচু করে যাবে তাকে মেরে ফেলবে।  এদের মনে কোন মায়া মমতা বলতে কিছুই নেই।  মিম কথাগুলো শুনে অনেক টাই মনের মধ্যে কষ্ট পেলো। রফিকুল মনের মধ্যে কষ্ট পেয়ে বললেন তোমার মাকে বলো খাবার দিতে  খুব ক্ষুদা লেগেছে । রাহেলা বেগম খাবার নিয়ে এলেন হালকা  একটু খেয়ে রফিকুল মিয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো । রাহেলা খাবার দিয়ে বেড়াতে যান । গিয়ে দেখেন কান্নার রোল পড়ে গেছে তাদেরকে সান্ত্বনা দেবার মত তাদের কাছে কোন ভাষা নেই। তখন রাত হয়ে গেছে দুঃখ ভরা মন নিয়ে বাড়ি ফেরেন রফিকুল মিয়া কাউকে কিছু না বলে বিছানায় ঘুমোতে যান । পরের দিন সকালে রফিকুল  ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই তার ছেলে রাকিব এসে বলল বাবা পাশের গ্রামে মিলিটারিরা ঢুকেছিলো এবং কয়েকজন মেয়েকে ধরেও নিয়ে গেছে । তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে উঠে বললো কি বললি?  তখন রাকিব বললো তাই নয় বাবা  আরো অনেক ঘর বাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং বেশ কয়েকজন লোককে ঘুমের মধ্যে গুলি করে হত্যা করেছে।  এ কথা শুনে  মনে মনে ভাবতে লাগল যে এদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে আর ঘরের মধ্যে বসে থাকলে চলবে না । পরেরদিন দুপুরে রাকিব  উঠানে বসে রেডিওতে খবর শুনছিল হঠাৎ সেই সময় রেডিওতে ভাষন  শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর এর ভাষণ দিচ্ছে । রফিকুল মিয়া ভাষণ শুনে ঘর থেকে বের হয়ে যায় ।  রেডিওর কাছে বসে । তার সাথে আরো কয়েকজন লোক বসে পড়লো।  সেখানে সবাই খুব মনোযোগের সাথে ভাষন শুনছে  তাদের চোখে ভেসে উঠছে  অন্য চাহনি । যখন ভাষণ শেষ হলো তখন রাকিব  ঘরে ফিরে আসে।  রফিকুল মিয়া বাকি লোকদের বলল আমি আজ যুদ্ধে যাবো  কেউ যদি যেতে চাও তাহলে আমার সঙ্গে যেতে পারো ।  তখন সবাই একসঙ্গে বলল আমরাও যাব।  বলল ঠিক আছে তাহলে আজ রাতে সবাই বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে আসো তারপর নৌকায় চড়ে যাব ঐ  পাড় ।ওদের সাথে কথা বলে রফিকুল মিয়া বাড়ি ফিরে আসে। রাতে যুদ্ধে যাওয়ার  জন্য বের হয়ে যায়।  রাকিব আর মিম  ঘুমিয়ে গেছে তাদের কপালে চুমু খেয়ে রাহেলা বেগমের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায় । সকালে ঘুম থেকে উঠে বাবাকে দেখতে না পেয়ে মিম মাকে  জিজ্ঞেস করল বাবা কোথায় গেছে?  রাহেলা কোনো জবাব দেয় না ।

 অনেক দিন কেটে যায় রাকিবের বাবার কোনো খোঁজ নেই।  কিছুদিন পর রাকিব  তার সমবয়সী ছেলেদের ডেকে আলোচনা করে  যুদ্ধে যাওয়ার । সবাই বললো আমরাও যেতে চাই । রাকিব বললো আমি আগামীকাল সন্ধ্যায় সবাই নদীর ঘাটে আসবো । পরের দিন সন্ধ্যায় যুদ্ধে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে এমন সময় রাকিবের মার দেহ কাঁপতে লাগলো কিছুতেই যেতে রাজি নয়।  এমন সময় মিম  এসে বলল কোথায় যাস ভাইয়া?? পাকিস্তানিদের  হাত থেকে দেশ কে  রক্ষা করতে ।

 মিম বললো ভাইয়া আসবি না ফিরে  ?? রাকিব বললো জানিনা , তুই ভালো থাকিস । বলে সামনে এগিয়ে যায় । আর পিছনে ফিরে তাকায় না।

 

 

লেখক : মাজেদুল ইসলাম,৯ম শ্রেনি , শোভাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা।

 

 


© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah