শুক্রবার, ২৫ Jun ২০২১, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

ইয়াঙ্গুনে বিমানের ৩০ যাত্রী আহত,শঙ্কামুক্ত সবাই

ইয়াঙ্গুনে বিমানের ৩০ যাত্রী আহত,শঙ্কামুক্ত সবাই

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। উড়োজাহাজটিতে যাত্রীসহ ৩৩ আরোহী ছিলেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উড়োজাহাজটি অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। এতে পাইলটসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। তবে তারা সবাই শঙ্কামুক্ত। দুর্ঘটনায় বিমানটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ জানান, বুধবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে বিজি-০৬০ উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মিয়ানমারের রাজধানী ইয়াঙ্গুনের উদ্দেশে যাত্রা করে। কানাডার বোম্বার্ডিয়ারের তৈরি ড্যাশ-৮ বিমানটিতে এক শিশুসহ ২৯ যাত্রী ছিলেন। এ ছাড়া ছিলেন দু’জন পাইলট এবং দুই ক্রু। উড়োজাহাজটি বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিটে ইয়াঙ্গুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বৈরী আবহাওয়ার কারণে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। পরে রাত ১০টার দিকে শাকিল মেরাজ  জানান, বিমানের যাত্রীদের মধ্যে যারা দেশে চলে আসতে চান, তাদের আনতে গত রাতে একটি বিশেষ বিমান পাঠানো হয়। এতে বিমানের প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলীরা রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজটির ক্ষতি নিরূপণ করতেই তারা সেখানে গেছেন।
আহত এক নারী যাত্রীকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে- এএফপি
আহত এক নারী যাত্রীকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে-এনপিনিউজ

মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ১৯ জনকে ইয়াঙ্গুনের প্রধান হাসপাতালে এবং ১০ জনকে বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তবে কারও অবস্থাই আশঙ্কাজনক নয়। আশা করা হচ্ছে, তারা দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবেন। রাষ্ট্রদূত জানান, দুর্ঘটনার কারণ জানতে তারা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় বিমানটির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বিমানটিতে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, কানাডা, চীন, ভারত, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের যাত্রী ছিলেন। ইউএনবির খবরে বলা হয়, দুর্ঘটনায় বিমানটির সব আরোহীই আহত হয়েছেন।
ইয়াঙ্গুন থেকে বিমানের একটি সূত্র জানায়, রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ার পরপরই উড়োজাহাজ থেকে যাত্রী ও ক্রুদের নামিয়ে আনা হয়। এর মধ্যে ১৫ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে পাইলট শামীম নজরুলও রয়েছেন। তিনি মাথায় বড় ধরনের চোট পেয়েছেন। বাকি যাত্রীদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
 দুর্ঘটনায় আহত যাত্রীদের নর্থ ওকালাপা হাসপাতাল থেকে ইয়াঙ্গুন জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। ছবি: রয়টার্স
দুর্ঘটনায় আহত যাত্রীদের নর্থ ওকালাপা হাসপাতাল থেকে ইয়াঙ্গুন জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়-এনপিনুজ

সূত্র জানায়, দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটির সামনের অংশ অনেকটাই দুমড়েমুচড়ে গেছে। মিয়ানমারের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পরে ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজকে নেপিদোতে অবতরণ করতে বলা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরটি চালু হয়।

মিয়ানমারের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আসা ছবিতে উড়োজাহাজটিকে ভাঙা ডানা নিয়ে রানওয়ের পাশে ঘাসের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, উড়োজাহাজটির ফিউজিলাজ ভেঙে তিন টুকরো হয়ে গেছে, তলাও ফেটে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উভয় পাখাই। তবে দুর্ঘটনার পর বিমানে আগুন ধরেনি। সংশ্নিষ্টরা জানান, উড়োজাহাজটি অবতরণের সময় আবহাওয়া ছিল খুবই খারাপ, ঘন ঘন বজ্রপাত হচ্ছিল। মিয়ানমারে প্রায়ই সামরিক বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়লেও বেসামরিক বিমান দুর্ঘটনায় খুবই বিরল।
এনপিনিউজ/আশিক


© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah