বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৪:২০ অপরাহ্ন

করোনায় কাবু ‘ঢাকা’,এ যেন বাংলার ‘উহান’

করোনায় কাবু ‘ঢাকা’,এ যেন বাংলার ‘উহান’

ফাইল ছবি

এনপিনিউজ৭১/ মোকাররম হোসাইন /৪ মে

দেশে করোনা সংক্রমনের শুরু থেকেই কোভিড -১৯ এর চোখ রাঙ্গানী ছিলো ঢাকার দিকে। দিন যত যাচ্ছে ঢাকার প্রতি করোনার বিরাগ ততই বাড়ছে। গত ৩’রা মে পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্ত মোট রোগী ৯৪৫৫ জন।এরমধ্যে বেশিরভাগ ঢাকা শহরের অধিবাসী। ইতিমধ্যে রাজধানীর ৫০টি থানা এলাকার মধ্যে ৪৮টিতেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। পরিসংখ্যান ই বলে দিচ্ছে রাজধানী ঢাকা- যেন এখন বাংলার উহান।

আইইডিসিআর এর ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, রাজাধানীর শুধুমাত্র পুরান ঢাকা এলাকায় পাঁচ শতাধিক রোগী রয়েছে,আর পুরান ঢাকায় সবচেয়ে বেশি রোগী রয়েছে লালবাগে। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় ৭৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি বংশালে ৫৮, চকবজারে ৩২, গেন্ডারিয়ায় ৪৮, মিটফোর্ডে ৩৮, ওয়ারিতে ৪২, চানখাঁরপুলে ৩১ জন করোনা রোগী রয়েছেন।

এদিকে বৃহত্তর মিরপুর এলাকায় প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা ১৫১ জন।এছাড়া যাত্রাবাড়ীতে ১০১ জন, বাড্ডায় ৪১, বাসাবোতে ৩৪, ধানমন্ডিতে ৩৮, হাজারীবাগে ৩৮, খিলগাঁওয়ে ৩৯, মালিবাগে ৬২, গুলশানে ৩২, মগবাজারে ৪৩, জুরাইনে ৩২, মহাখালীতে ৭১, মোহাম্মদপুরে ৮১, মুগদা ৮০, পুরানা পল্টনে ২৭, পল্টনে ২৯, শাহবাগে ৫১, শ্যামলীতে ২৯, তেজগাঁও ৫৫, স্বামীবাগে ৩৬ ও উত্তরায় ৬৩ জনসহ প্রায় সব এলাকাতেই করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছে। সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের আবাসস্থল, হাসপাতাল, মন্দির এখন পর্যন্ত রাজধানীর ৪১৩টি এলাকার ১ হাজার ২২৩টি বাড়ি লকডাউন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। যে বাড়িগুলো লকডাউন হয়েছে, সেই বাড়িগুলোর মধ্যে ৮৫১টি পুরান ঢাকায় ও ওয়ারী থানায় ৪৫৪ টি।

এদিকে ২রা মে পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে রোগী প্রায় ৮৪ শতাংশ। এর মধ্যে ঢাকা শহরেই ৫৬ দশমিক ০২ শতাংশ। ঢাকা বিভাগে ২৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ঢাকা শহরে মোট আক্রান্ত – ৪,৩০৯,মারা গেছেন ৯৫ জন ওদিকে ঢাকা বিভাগেও মারা গেছেন ৫৪ জন আর মোট আক্রান্ত ২,১০৬ ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলার মধ্যে ২রা মে পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে ৯৮৭ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরপর সবচেয়ে বেশি রোগী গাজীপুরে ৩২২ জন। এতো গেলো সর্বসাকুল্য পরিসংখ্যান, করোনার ছোবল এখন সেবাদাতাদের দিকে। একে একে করোনা যেন ভেদ করছে প্রতিরোধের সবগুলো দেয়াল। শনিবার ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি অ্যান্ড রাইটস (এফডিএসআর) সাধারণ সম্পাদক ডা. শেখ আবদুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় কোভিড-১৯ ভাইরাসে সারা দেশে এ পর্যন্ত ৫২৩ চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চিকিৎসক আক্রান্ত হহয়েছেন ঢাকায়,সংখ্যাটা ৩৮৯।

করোনাভাইরাসের নতুন হটস্পট গাজীপুর। জেলার পাঁচটি উপজেলায় এ পর্যন্ত ৩৩৩ জনের দেহে শনাক্ত হয়েছে করোনাভাইরাস। নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ৯১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন,যার মধ্যে চিকিৎসকও রয়েছেন বেশ কয়েকজন । এছাড়াও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর এসেছে। ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ জেলায় এখন করোনার চারণভূমি। আর তাই করোনাভাইরাস সংক্রমণের হটস্পট হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলাকে চিহ্নিত করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর। ২রা মে সকাল ৮.০০ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাসহ ৯৮৭ জন। অদেখা করোনা ভাইরাস এবার হানা দিয়েছে পুলিশ বাহিনীতে, আর সেটিও ঢাকা ও আশপাশের জেলায়।

সর্বশেষ শনিবারের তথ্য অনুযায়ী পুলিশ বাহিনীর ৬৭৭ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। আর গত ৪৮ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও কনস্টেবলসহ রয়েছেন বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্য। সর্বাধিক ৩২৮ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন রাজধানীতে। পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত পাঁচ পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বশেষ শনিবার ভোরে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে মারা যান ডিএমপির, পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট -পিওএম এর পশ্চিম বিভাগে কর্মরত ৪৪ বছর বয়ষী এসআই সুলতানুল আরেফিন।

এর আগে শুক্রবার রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে মারা যান পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এসআই নাজিম উদ্দিন। ২৮ এপ্রিল প্রথম করোনা আক্রান্ত হয়ে জসিম উদ্দিন নামে পুলিশ সদস্য মারা যান। কনস্টেবল জসিম উদ্দিন ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী থানায় কর্মরত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার মারা যান ঢাকা মহানগর পুলিশের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট দক্ষিণ বিভাগে কর্মরত এএসআই আবদুল খালেক এবং ডিএমপির ট্রাফিক উত্তর বিভাগের এয়ারপোর্ট জোনে কর্মরত কনস্টেবল আশেক মাহমুদ ।

ঢাকা বিভাগের,গাজীপুরে মেট্রোপলিটন পুলিশে জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের ৫২ জন সদস্য ও নারায়ণগঞ্জের ১১জন পুলিশ করোনায় আক্রান্ত রয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে র্যাবের ৪২ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এমন অবস্থায় প্রতিরোধ জোরদার করা না গেলে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে রাজধানীবাসী আর এটি ছড়াবে পুরো দেশে।

 

লেখক

মোকাররম হোসাইন

গণমাধ্যম কর্মী

(ঢাকা)

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah