শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

কাউনিয়ায় রাষ্ট্রীয় খরচে আওয়ামীলীগ নেতার সেচ পাম্পের পানি বের করতে বানানো হলো ইউড্রেন

কাউনিয়ায় রাষ্ট্রীয় খরচে আওয়ামীলীগ নেতার সেচ পাম্পের পানি বের করতে বানানো হলো ইউড্রেন

রংপুরের কাউনিয়ায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি প্রতিশ্রুত একটি রাস্তা ও ইউড্রেন নির্মানে সিডিউল বহির্ভূতভাবে স্টিমেটের চেইনেজের বাইরে গিয়ে সরকারি টাকায় আওয়ামীলীগ নেতার বাণিজ্যিক সেচ পাম্পের পানি বিক্রির সুবিধার্থে ইউড্রেন নির্মানের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় সিডিউল বহির্ভূতভাবে নির্মান করা হচ্ছে প্যালাসাইড। এতে ওই এলাকার জলাবদ্ধতা আগের মতই থেকে যাওয়ায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসি এলজিইডির উপজেলা অফিসের একজন এসওকে দায়ি করে নকশা অনুযায়ি ইউড্রেন নির্মানের দাবিতে প্রধান প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দেয়া লিখিত আবেদনে এলাকাবাসি অভিযোগ করেছেন, উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের চন্ডিপুরগামি রোডের ১৭৩৫ মিটারের মধ্যে ১ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজ চলমান। এর মধ্যে ২ টি ইউড্রেন নির্মানের কাজ চলছে। এরমধ্যে একটি ইউড্রেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ময়েশা চন্ডিপুর এলাকার প্রেম চন্দ্রের ব্যক্তিগত স্বার্থে তার বাণিজ্যিক সেচ পাম্পের পানি বের করে দেয়ার জন্য সিডিউল বহির্ভূতভাবে স্টিমেটের চেইনেজের বাইরে নির্মিত হচ্ছে। এতে এলাকার মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনে কোন কাজ আসবে না। ইউড্রেনটি ২০০ গজ পশ্চিমে নির্মান করা হলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং জনগন উপকৃত হবেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ করে একজন আওয়ামীলীগ নেতার ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধারে এলজিইডি কাজ করায় এলাকাবাসি ক্ষুব্ধ। অবিলম্বে সেটি বাতিল করার দাবি তাদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ময়েশা চন্ডিপুর এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা প্রেমচন্দ্র রায়ের আধাপাকা বিল্ডিংয়ের পাশেই ইউড্রেনটি নির্মান করা হয়েছে। ওই ইউড্রেনটি প্রেম চন্দ্রের বাণিজ্যিক সেচপাম্পের ড্রেনের সাথে সোজা সংযোগ করে দেয়া হয়েছে। পাশেই সেচপাম্পের ঘর । ওই ইউড্রেনটি দিয়ে তিনি রাস্তার দক্ষিণ পার্শের জমিতে পানি বিক্রি করতে পারবেন। রাস্তার উত্তরপার্শ্বে যে জমিতে সেচ পাম্পের ঘর সেখানে কখনই কোন জলাবদ্ধতা তৈরি হয় না। জলাবদ্ধতা তৈরি হয় ওই ইউড্রেনটি থেকে আরও ২০০ মিটার পশ্চিমে রাস্তার উত্তরপাশে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসি আরেক আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মজিদ জানান, নির্বাচনের আগে মাননীয় বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি মহোদয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি এমপি হলে ওই রাস্তাটি করে দিবেন। তিনি তার প্রতিশ্রুত অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাটি বরাদ্দ দেয়ার ব্যবস্থা করে কাজ শুরু করান। কিন্তু উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের এসও বেলাল হোসেনের যোগসাজসে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা প্রেম কান্ত রায় রাস্তা এবং ইউড্রেন নির্মান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিতর্কিত কর্মকান্ড করে যাচ্ছেন। এসও বেলালের সহযোগিতায় রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করে প্রেমকান্ত রায় নিজের বাণিজ্যিক সেচ পাম্পের পানি নির্বিঘেœ পার করার জন্য নকশা বহির্ভূতভাবে নিজের ঘরের পাশে নির্মান করে নিয়েছেন। অথচ নকশায় প্রেম কান্তের বাড়ি থেকে ২০০ গজ পশ্চিমে ইউড্রেনটি ছিল। সেখানে করা হলে আমাদের এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হয়ে যেতো। কিন্তু এখন জলাবদ্ধতা নিরসনে ওই ইউড্রেনটি ন্যুনতম উপকারে আসবে না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সিডিউলে ১৭ লাখ টাকার প্যালাসাইডের বরাদ্দ থাকলেও অপ্রয়েজনীয় স্থানে সিডিউল বহির্ভূতভাবে প্যালাসাইড নির্মান করা হচ্ছে। এমনকি উচু স্থানের সুপারির গাছের কাছেও প্যালাসাইড নির্মান করা হয়েছে। প্যালাসাইড নির্মানে একনম্বর ইট দেয়ার কথা থাকলেও তিন নম্বর পিকেট ব্যবহার করা হচ্ছে। রাস্তাটিও সিডিউল বহির্ভূতভাবে নি¤œমানের ইট খোয়া ও বালু দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। তিনি জানান, মাননীয় বাণিজ্য মন্ত্রী মহোদয়ের প্রতিশ্রুত এই রাস্তাটি নির্মানে এভাবে অনিয়ম করায় এলাকাবাসি বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

এ ব্যপারে অভিযুক্ত আওয়ামীলীগ নেতা প্রেম চন্দ্র রায় জানান, নকশায় আমার ঘরের পাশে সেচ পাম্পের ড্রেনের সাথে মিলে গেছে। সেকারনে এসও বেলাল সাহেব সেটি সেখানেই করেছেন। তার সাথে আমার কোন আর্থিক লেনদেন হয় নি।

কাউনিয়া উপজেলা প্রকৌশল অফিসের এসও বেলাল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, নিয়ম অনুযায়ী সেখানে ইউড্রেনটি নির্মান করা হয়েছে। নকশায় না থাকা, ওই স্থানে জলাবদ্ধতা না হওয়া সত্বেও শুধু একটি সেচ পাম্পের পানির যাওয়ার সুবিধার্থে ইউড্রেনটি কেন করা হলো এ প্রশ্নের কোন উত্তর দেন নি তিনি।

তবে উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল ইসলাম জানান, এলাকাবাসির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেখানে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ আমি সরেজমিনে গিয়েছিলাম। ইউড্রেনটি সেখানে হওয়ার কারনে সেচ পাম্পের পানি সহজে বের হয়ে যাবে। সেখানে ইউড্রেনটি না দিলে রাস্তা ডেবে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। জলাবদ্ধতার ব্যপারে তিনি বলেন, সেখানে আরও একটি ইউড্রেন দেয়া যোতে পারে। প্যালাসাইড নির্মান সিডিউল বহির্ভূত হয়েছে কিনা সেটি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, মূলত ওই এলাকার দুই নেতার দ্বন্দ্বের কারনে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ হচ্ছে। তুবও বিষয়টি খতিয়ে দেখে আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১ কিলোমিটার ওই রাস্তা ও ইউড্রেন নির্মানে ৮৭ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩ টাকা ব্যয়ে বরাদ্দ দেয় এলজিইডি।


© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এনপিনিউজ৭১.কম
Developed BY Rafi It Solution