মঙ্গলবার, ১৫ Jun ২০২১, ০১:১২ পূর্বাহ্ন

গ্রামের মানুষের পল্লী চিকিৎস করাই একমাত্র ভরসা

গ্রামের মানুষের পল্লী চিকিৎস করাই একমাত্র ভরসা

এনপিনিউজ৭১/শরিফুল ইসলাম সুমন/ ২৪ এপ্রিল রংপুর
মহামারি করোনা ভাইরাসের ভয়ে বড় বড় ডাক্তারা যখন সেবা দিতে অস্ব কৃতিজ্ঞাপন করছেন। তখন পল্লী চিকিৎস করা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শহর থেকে গ্রাম, পাড়া, মহল্লায় তৃণ মূল মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামের মানুষের পল্লী চিকৎস করাই একমাত্র রোগীদের ভরসা হয়ে দাড়িয়েছে। সেই চিকিৎসক রাই আবার প্রতিনিয়ত হয়রানীর স্বাকীর হয়ে থাকে। করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে পল্লী চিকৎসকদের সংগঠন বিপিডি এ তহবিল হতে কিছু সংখ্যক চিকিৎসকে ফ্রি পিপিই ও মাকর্স সরবরাহ করা হয়েছে। পল্লী চিকিৎসকদের সুরক্ষা নিশ্চিত কওে তারা মাঠে নিরলস ভাবে চিকিৎসা সেবার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার টেপা মধুপুর বাজারে পল্লী মঙ্গল সেবালয়ে বসে পল্লী চিকিৎসক গোলাম সরোয়ার নিজের থেকে করোনা প্রটেক্ট সংগ্রহ করে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। পল্লী চিকিৎসক গোলাম সরোয়ার রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে মটরসাইকেল দূর্ঘটনায় পা ভেঙ্গে যায়। তারপরেও তিনি তার পল্লী মঙ্গল সেবালয়ে পিপিই মার্ক সপরে বসে প্রতিদিন অর্ধ শত রোগীর সেবা দিচ্ছেন। তার সাথে কথা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, ভাই কি করব দেশের এই ক্লান্তি লগ্নে বাড়িতে যদি বসে থাকি তাহলে এই অসহায় রোগী গুলো কোথায় যাবে। সেখানে কথা হয় কাউনিয়া উপজেলা বালা পাড়া গ্রামের রোগী আলমগীর হোসেনের সাথে তিনি বলেন, এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিসবা সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে তাই পল্লী চিকিৎসক রাই একমাত্র ভরাসা। পল্লী মঙ্গল সেবা লয়ে চিকিৎসক গোলাম সরোয়ার সকাল ৯ টা থেকে রোগী দেখা শুরু করেন। তারপর চলে বিরাম হীন ভাবে রোগী দেখা। প্রতিদিন তিনি ৫০ থেকে ৬০ জন রোগীর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। কখনও কখনও তিনি ভাঙা পা নিয়ে রোগীদের বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন।


এরপর পীরগাছা উপজেলা পাকা মাথা নামক স্থানে গিয়ে দেখা যায় পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রহিম রিফাত চিকিৎসালয়ে বসে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। তার পর তিনি উপজেলার বড়পান সিয়া গ্রামে মটরসাইকেল যোগে রোগী দেখতে চলেযান। সেখানে দেলোয়ার হোসেন খুশি নামের এক রোগী ডায়বেটিস ও পেশার চেক আপ কওে ব্যবস্থা পত্র দেন তিনি।

পীরগাছা উপজেলার বিশাল ফার্মেসীতে বসে রোগী দেখছেন পল্লী চিকিৎসক মনিরুজ্জামান বিদ্যুৎ। তারকাছ থেকে জানা যায় তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে করোনার উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে গ্রাম গঞ্জে করোনার উপসর্গ রোগীর সন্ধান পান তাহলে তারা রোগীদের উপজেলাবা জেলা হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশ প্যারামেডিকেল ডাক্তার এসোসিয়েশন (বিপিডিএ) কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব রাকিবুল ইসলাম তুহিন বলেন, পল্লী চিকিসৎকরা স্বাধীনতার আগ থেকে বর্তমান সময় অবধি দেশের ক্লান্তি লগ্নে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা দিয়ে দেশের চিকিৎসা সেবায় অগ্রণী ভূমিকা পালন কওে আসছে। তথচ তাদের আবার বিভিন্ন সময় হয় রানীর স্বীকার হতে হয়। বিপিডিএ সংগঠনের মাধ্যমে সারা দেশে প্রায় ১ লক্ষ পল্লী চিকিৎসক, রংপুর বিভাগে প্রায় ১০ হাজার ২’শ ও রংপুর জেলাতে ৪ হাজার ২’শ ৯০ জনচিকিৎসক সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

আমরা সরকারকে ম্যাসেচ দিতে চাই দেশের বিভিন্ন ক্লান্তি লগ্নে আমরা সরকারের সাথে ছিলাম, বর্তমানেও আছি ভবিষ্যতেও থাকব। তবে আমাদের প্রানের দাবি সরকার যেন পল্লী চিকিৎসকদের সকল প্রকার হয় রাণী থেকে মুক্তি ও ডাক্তার হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।
রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার হিরম্ব কুমার বলেন, আমাদের এই জনবহুল দেশে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স না থাকায় পল্লী চিকিৎসকরাও চিকিৎসা সেবা ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

এনপি৭১/মেহি


© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah