শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

চলে গেলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ম্যারাডোনা

চলে গেলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ম্যারাডোনা

স্পোর্টস ডেস্ক,

বাংলাদেশ গ্লোবাল: চলে গেলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনা। বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন এই ফুটবল মহানায়ক। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০ বছর।

ম্যারাডোনার আইনজীবী ম্যাথিয়াস মারলাহোস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে) এই খবর নিশ্চিত করে আর্জেন্টাইন গণমাথ্যম ক্লারিন। এরপরই তা ছড়িয়ে পড়ে আর্জেন্টিনার মিডিয়ায়। এরপর তা শিরোনাম হয় সারাবিশ্বের মিডিয়ায়।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ শিরোপা জিতিয়েছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। সেবার ৮৫ মিনিটে বিতর্কিত এক পেনাল্টি গোলে জার্মানির কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় আর্জেন্টিনার। এছাড়া ইউরোপিয়ান ফুটবলে ইতালিয়ান ক্লাব নেপোলির অবিসংবাদিত কিংবদন্তি ছিলেন তিনি।

দুই সপ্তাহ আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান ডিযেগো ম্যারাডোনা। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হলেও ডাক্তাররা বলেছিলেন, আশাতীত দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। যদিও মাদকাসক্তির কারণে তাঁকে বাড়িতে নয়, পাঠানো হয়েছিল বুয়েনস আয়ারসের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে। এরপর তাঁকে নেয়া হয় নিজের বাড়ি তিগ্রেতে। সেখানেই আজ হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক করেন তিনি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই কিংবদন্তি।

আর্জেন্টাইন ক্লাব বোকা জুনিয়র্স থেকে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ম্যারাডোনা। এরপর ইতালিয়ান ক্লাব নেপোলি ছিল তাঁর সোনালী যুগের ক্লাব। খেলেছেন বার্সেলোনার জার্সিতেও। কিন্তু ছিয়াশির বিশ্বকাপে একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে অবিসংবাদিত কিংবদন্তিতে পরিণত হন তিনি।

কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে দু’টি গোল করেছিলেন, সে দু’টিই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নিয়েছে। প্রথমটি করেছিলেন হাত দিয়ে। যে কারণে এটাকে বলা হয় ‘দ্য হ্যান্ড অব গড’। অন্যটি করেছিলেন মাঝমাঠ থেকে এককভাবে টেনে নিয়ে গিয়ে। সেই গোলটারই নাম হয়ে যায় ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’।

মাদকাসক্তির কারণে বারবার শিরোনামে আসেন ম্যারাডোনা। তবে সর্বশেষ মস্তিষ্কে জমাট বাঁধা রক্ত অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর গত ১১ নভেম্বর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রিলিজ দেয়ার পর তিনি ওলিভোস ক্লিনিক থেকে বের হয়ে আসেন। এসময় শত শত ভক্ত-সমর্থক এবং ফটোগ্রাফার চেষ্টা করেছিলেন তাঁর একটি ছবি তোলার জন্য। কিন্তু সঠিকভাবে কেউই ছবি তুলতে পারেনি এবং ভিডিও করা যায়নি।

ম্যারাডোনার আইনজীবী ম্যাথিয়াস মারলাহোস ওই সময় জানিয়েছিলেন, মাদকাসক্তি থেকে ফেরাতে তাঁকে নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। তিগ্রের একটি নিরাময় কেন্দ্রে কয়েকদিন থাকার পর নিজের বাসায় নেয়া হয়। যেখানে তাঁর বড় মেয়ে থাকতেন। আজ বিকেলেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। কিন্তু কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে যায়।

তাঁর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই পুরো ফুটবল বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে আসে। অগণিত ভক্ত-সমর্থক সোশ্যাল মিডিয়ায় ম্যারাডোনার ছবি দিয়ে শোক প্রকাশ করতে শুরু করেন। বাংলাদেশের মানুষের কাছেও সব সময়ই এক ভালোবাসার নাম ডিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah