Just IN :

ছাত্র রাজনীতি রাজনৈতিক দলগুলোর লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত হয়েছে

ছাত্র রাজনীতি রাজনৈতিক দলগুলোর লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত হয়েছে

ছাত্র রাজনীতি রাজনৈতিক দলগুলোর লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত হয়েছে

ছাত্র রাজনীতি এখন রাজনৈতিক দলগুলোর লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত হয়েছে, পেশী শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভক্তির জায়গায় এখন ভয়ভীতি, শ্রদ্ধার জায়গায় আতঙ্কে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য জিএম কাদের।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) আইইবি মিলনায়তনে জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জিএম কাদের আরও বলেন, আমাদের ছাত্র রাজনীতির গর্বিত ঐতিহ্য রয়েছে। এমন ইতিহাস রয়েছে, দেশের জন্য ছাত্ররা জীবন দিতে দ্বিধাবোধ করেননি। সেই ঐতিহ্য ম্লান হতে বসেছে। আগে ছাত্র নেতারা সাধারণ মানুষের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র ছিল। ছাত্র রাজনীতির কাছ থেকে নেতারাও কিছুটা গ্রহণ করত। সেই রেকর্ড রয়েছে। আমরা দু’টি ধারার রাজনীতি, চিরাচরিত ছাত্র রাজনীতি পরিবর্তন করতে চাই। ছাত্র রাজনীতির অতীত ঐতিহ্য ফেরাতে চাই।

ছাত্রদের আমরা লাঠিয়াল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই না। তারা নীতি আদর্শ দিয়ে মানুষের মন জয় করবে, ভয় দেখিয়ে নয়। নেতৃত্ব তৈরির মানসিকতা তৈরি করতে হবে, যোগ করেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, ছাত্ররা যুক্তির চেয়ে আবেগ দিয়ে পরিচালিত হয় বেশি। যে কারণে তারা জীবন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। যে কারণে কখনও কখনও ভুল পথে পরিচালিত হতে পারে। যে কারণে তাদের সঠিক গাইড লাইন দিতে হবে।

ক্যাম্পাস ভিত্তিক ছাত্র সংগঠন করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি চাই না সেখানে পেশী শক্তি ব্যবহার হোক। আমরা চাই, ছাত্ররাই নেতৃত্বে আসুক। কিছু দিন আগে আওয়ামী লীগ করেছে। আমাদেরও করতে হবে। বাবা জাতীয় পার্টি করে, ছেলে অন্য রাজনীতি করে, এমন কথা এসেছে। আমরা সেই নেতার সঙ্গে কথা বলব। যেন তারা একই আদর্শে অনুগত থাকে। তবে একজন পূর্ণবয়স্ক লোকের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়াটা আমি সঠিক মনে করি না।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের নামে চাঁদাবাজি, হল দখল, টেন্ডারবাজির অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু ছাত্র সমাজের নামে কোনো অভিযোগ নেই।

জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে অংশ নেন জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারা,
ছাত্র সমাজের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ। ওই সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন সৈয়দ ইফতেখার আহসান হাসান, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন মিজানুর রহমান মিরু। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ২০১৮ সালের নভেম্বরে ওই কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে সস্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়।
প্রস্তুতি কমিটিতে মোড়ল জিয়াউর রহমানকে আহ্বায়ক ও ইয়াছিন মেজবাহকে সদস্য সচিব করা হয়।

প্রস্তুতি কমিটি সম্মেলন করতে ব্যর্থ হওয়ায় চলতি বছরের ২৮ জুনে ওই কমিটি বাতিল করে নতুন প্রস্তুতি কমিটি করা হয়। সে কমিটিতে জামাল উদ্দিনকে আহ্বায়ক ও ফয়সাল দিদার দীপুকে সদস্য সচিব করা হয়। তাদের আয়োজনে পাঁচ বছর পর বুধবার এ সম্মেলন হচ্ছে।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু, এসএম ফয়সল চিশতী, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ছাত্র সমাজর সদস্য সচিব ফয়সাল দিদার দীপু

Related Posts