মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১৩ অপরাহ্ন

দিনাজপুর চিরিরবন্দরে জাল দলিল তৈরী করে জমি দখলের পাঁয়তারা: থানায় মামলা

দিনাজপুর চিরিরবন্দরে জাল দলিল তৈরী করে জমি দখলের পাঁয়তারা: থানায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুর চিরিরবন্দরে চক সন্যাসী গ্রামে সন্ত্রাসী সুমনগংরা জাল দলিল তৈরী করে জোর পূর্বক অসহায় আব্দুল জব্বারের জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। এই ঘটনায় আদালত ও থানায় একাধিক মামলা হলেও জবর দখলকারীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সন্ত্রাসী সুমনের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকি ও মারপিটের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, দিনাজপুর চিরিরবন্দরে চক সন্যাসী গ্রামের ইসমাইল হোসেনের পুত্র সুমনগংরা জাল দলিল তৈরী করে একই এলাকার এফাজ উদ্দিনের পুত্র আব্দুল জবাবারের বিভিন্ন দাগে ৭৩ শতক জমি জবর দখল করার পাঁয়তারা করছে। সুমনের সন্ত্রাসী বাহিনী , আলমগীর হোসেন ,ইয়াকুব আলী, আলেমা বেগম, বিউটি, শাপলা, ও মনিরাসহ গত ২৫ মে ওই জমি জোর পূর্বক জব্বর দখল করা চেষ্টা করে। এ সময় নিরীহ আব্দুল জব্বার মিয়া বাধা নিষেধ করিতে গেলে তাকে বেদম মারপিট করে। এ ঘটনায় চিরিবন্দর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসাবে গন্য না করায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সুমন গংরা।
আব্দুল জব্বার মিয়া বলেন, গত ৫/০২/১৮ ইং তারিখে জমি দেখা শুনার জন্য আমি ওই এলাকই যাই। সেখানে সুমনের সন্ত্রাসী বাহিনীর অন্যতম সদস্য আলমগীর হোসেন গংরা আমাকে তাদের বাড়িতে ঘরের দরজা বন্ধ করে জবাই করার উদ্দেশ্যে আটকে রাখে। পরে তার ছেলে দেলোয়ার হোসেন ১৯৯ নম্বরে কল দিয়ে সহযোগিতা চাইলে পুলিশ তালাবদ্ধ ঘর থেকে তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন ও শাপলাকে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় জব্বার মিয়া মামলা করতে চাইলে সে সময় ৪নং কেশবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিটন মিয়া বিয়য়টি কৌশলে মিমাংসার দায়িত্ব নিয়ে মামলাটি ঠেকে রাখে। পওে মিমাংসার নামে টালবাহনা করে কালক্ষেপন করে।
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আব্দুর জব্বার মিয়া চিরিবন্দর থানায় একটি সাধারন ডাইরী করেন (যার নং-৬৮৩ তাং১৮-৩-১৮)।
আব্দুল জববারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন বলেন, সুমন বিজিপির একজন সদস্য সে ৪ মাস পর পর ছুটিতে এসে এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সে এখন যশোরে ঝুন ঝুনপুর বিজিপি ক্যাম্পে আছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুমনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এই জমির আমাদের রিতিমত জমির সকল কাগজ পত্র আমাদের আছে। আমরা অন্যকারো জমি দখল করেনি। যারা আপনাদের এ তথ্য দিয়েছে তারা ভূল তথ্য দিয়েছে।
সন্যাসী গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, সুমন গংরা অত্যান্ত দূদান্ত প্রকৃতির, এদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খোলার সসাহস পায় না। তারা অনেক লোকের ক্ষতি সাধন ও জমি জব্বর দখল করে আসছে। এর আগে তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ভাংচুর করায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে (যার নং ০৭ তাং ০৪/০৩/১৮)।
ইশ্ববপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোক্তার মন্ডল বলেন, জববার (অবসর) আরমি একটি মেন্টাল লোক। তিনি বার বার তার ভাতিজা এবং ভাতিজি জামাইয়ের উপর একাধিক অহেতুক মামলা করেন। তবে জব্বার আরমিকে তালা বদ্ধ করে আটকানোর খরবটি সত্য। এ ঘটনায় আলমগীর কে থানায় ধরে নিয়ে গেলে আমরা মিমাংসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আলমগীরকে ছেড়ে নিয়ে এসেছি। তবে কোন কারণে মিমাংসা হয়নি।
ইশ্ববপুর ইউনিয়নের চেয়রম্যান লিটন মিয়া জানান, আসলে জব্বার মিয়ার এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে না থাকায় এলাকার মানুষের সাথে কোন রকম মিশে না। তিনি তার ভাই-ভাতিজা সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। জব্বার সাহেবকে আটকে রাখার অপরাধে আলমগীর ও শাপলাকে পুলিশ থানায় ধরে নিয়ে গিয়েছিল। আমি বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি।
চিরিবন্দর থানার ওসি হারিছ চৌধূরী বলেন, আমরা মামলা নিয়ে তদন্ত করছি। তদন্তের পরে ঘটনার সত্যাতা উম্মেচন হবে।

এনপিনিউজ/আছ/এ এস


© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এনপিনিউজ৭১.কম
Developed BY Rafi It Solution