শনিবার, ৩১ Jul ২০২১, ০৫:২৭ অপরাহ্ন

নীলফামারীতে মজুদ রয়েছে ১ হাজার পিপিই বদলে গেছে জেনারেল হাসপাতালের চিত্র

নীলফামারীতে মজুদ রয়েছে ১ হাজার পিপিই বদলে গেছে জেনারেল হাসপাতালের চিত্র

এনপিনিউজ৭১/শাহজাহান আলী মনন/ ৩১ মার্চ রংপুর

নীলফামারী হাসপাতালের চিরচেনা দৃশ্য বিগত কয়েকদিনে একেবারে বদলে গেছে। নেই কোন সোরগোল কিংবা রোগীদের তেমন চাপ। রোগীদের স্বজনদেরও খুব একটা দেখা মিলছে না হাসপাতালের আশপাশে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় ভরা হাসপাতালের নার্সদের যেন একটু স্বস্তি এসেছে এই পরিবেশে।

কিছুদিন আগে হাসপাতালের নির্ধারিত শয্যার বাহিরেও রোগীদেও মেঝে এমনকি বারান্দায় থেকেও চিকিৎসা নিতে হতো। এখন আর তেমনটি চোখে পড়ছে না। আড়াইশ’ শয্যার হাসপাতালের অনেক বেডই এখন ফাঁকা পড়ে রয়েছে রোগী না থাকার কারণে।

আব্দুল হাকিম নামে একব্যক্তি বলেন, এ রকম চিত্র আমাদের চোখে পড়ে না। করোনার প্রভাবে এমনটি হয়েছে। এই হাসপাতালে অন্তঃবিভাগ আর বহির্বিভাগের রোগীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। সচরাচর শয্যা ফাঁকা থাকার বিষয়টিও দেখিনি আমরা।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স আফরোজা খাতুন বলেন, রোগীদের চাপ আগে সামলানো যেত না। একজনকে যদি ইনজেকশন দিতে যাই আরেকদিকে তিন চারজন ডাকছেন। এখন আর সে রকম পরিবেশ নেই।

তিনি বলেন, হাসপাতালের ওষুধ নিয়ে বাড়িতে থেকে সুস্থ হওয়ার মত রোগীরা এখন এখানে থাকছেন না। যাদের থাকতেই হবে তারাই শুধু থাকছেন। আবার রোগী না থাকলে ভালোও লাগে না, কারণ তাদের সেবার ব্রত নিয়েই আমরা কাজ করি।
২৫০ শয্যার এই জেনারেল হাসপাতালে সোমবার ৮৫ জন, রোববার ৬৯ জন, শনিবার ১০৭জন ভর্তি ছিলেন।

হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার বলেন, বিগত কয়েক দিনের চেয়ে সপ্তাহ খানিক আগে রোগীর সংখ্যা বেশি ছিলো। এখন কমেছে। হয়তো কয়েক দিন পর আবারো স্বাভাবিক হবে এই চিত্র।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে সরকারী ভাবে পাওয়া না যাওয়ায় নিজেদের টাকায় অনেক নার্সই কিনেছেন পিপিই। সেটি ব্যবহার করে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এদিকে হাসপাতালে করোনা সন্দেহে আগত রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা একটি ইউনিটে কাজ করছেন একজন চিকিৎসক, একজন নার্স এবং একজন ওয়ার্ডবয়। এই ইউনিটের দায়িত্বরতরাই আপাতত ব্যবহার করছেন পিপিই।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মেজবাহুল হাসান চৌধুরী জানান, করোনার কারণে অনেকটা প্রভাব পড়েছে হাসপাতালের রোগীদের সংখ্যার তালিকায়। নিতান্তই যাদের এখানে থেকে চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন তারা থাকছেন, এছাড়া আউটডোরে পরামর্শ এবং ওষুধ নিয়ে বাড়িতেই যাদের সম্ভব তারা থাকছেন না। টেলিমেডিসিন এর সেবার কারণে অনেকে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তিনি জানান, এই হাসপাতালের জন্য ১হাজার পিপিইর চাহিদা দেয়া হয়েছিলো পেয়েছি একশ’ এর মধ্যে ৭০টি ব্যবহার হয়েছে। আপাতত যারা করোনা সন্দেহে চিকিৎসা করবেন তারাই এই পিপিই ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছেন।
সিভিল সার্জন জানান, জেলায় ১০০৭টি পিপিই মজুদ রয়েছে। এরমধ্যে ২৭১টি বিতরণ করা হয়েছে। গেল ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কেউ হোম কোয়ারেন্টাইনে যায়নি তবে ৩৪ জনের সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ১৬২জন।

এনপি৭১/মেহি/নীলফামারী


© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah