August 6, 2020, 9:06 pm

Just In : আমাদের দেশের আইনের শাসনের ডেলিভারীকারীরা আপোষকামিতা করে : সুলতানা কামাল
আমাদের দেশের আইনের শাসনের ডেলিভারীকারীরা আপোষকামিতা করে : সুলতানা কামাল করোনা সন্দেহ: রংপুর থেকে একজনকে ঢাকায় স্থানান্তর   
আমাদের দেশের আইনের শাসনের ডেলিভারীকারীরা আপোষকামিতা করে : সুলতানা কামাল
ওসি প্রদীপসহ তিন আসামি সাতদিনের রিমান্ডে নারী, মান রেখো তোমার: রাজীব রাজ অনলাইনে রচনা ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন। এনপিনিউজ সব সরকারি চাকরিজীবীকে অফিস করতে হবে৯টা-৫টা  সৈয়দপুরে মাদক ব্যবসায়ী জঞ্জালু  ২শ’ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেফতার  রসিক মেয়র মোস্তফা ও তার সহধর্মিনীসহ পরিবারের অন্যান্যদের করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি ও সুস্থতা কামনা করে নগর ভবনে দোয়া মাহফিল সৈয়দপুরে পৌর মেয়রের উদ্যোগে মসজিদে ২ লাখ টাকা ও ১০টি সিলিং ফ্যান প্রদান       নীলফামারীতে আরও ৯ জন করোনা পজিটিভ বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সিনহা হত্যাকাণ্ডের দায় সমগ্র পুলিশের নয়
নীলফামারী জেলায় বর্ষায় বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম: চাপে ক্রেতারা

নীলফামারী জেলায় বর্ষায় বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম: চাপে ক্রেতারা

শাহজাহান আলী মনন/নীলফামারী রংপুর ৪ জুন

বর্ষার (আষাঢ়) শুরুতেই নীলফামারীতে বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। এর মধ্যে কাঁচা মরিচ, আদা, রসুন ও শুকনো মরিচের দাম বেড়েই চলেছে। থেমে নেই সবজির বাজার। এইসব পণ্যের লাগামহীন দামে চাপের মুখে ক্রেতারা।
৩ জুলাই শুক্রবার সকালে জেলা শহরের বিভিন্ন কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারী বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা আর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা। গত দুইদিন আগে (বুধবার) ওই মরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছিল ২০০ টাকায়। আর আদা প্রকার ভেদে ৬০ টাকা বেড়ে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বর্ষা ও করোনাকে পুঁজি করে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে।
জেলা শহরের কিচেন মার্কেটে প্রকার ভেদে ৮০ টাকার রসুন ১০০ টাকা, একদিনের ব্যবধানে বেড়েছে ২০ টাকা। ৩৪ টাকার পেঁয়াজ ৪০ টাকা, চিনি ৫৬ টাকার চিনি ৬০ টাকা, খেশারীর ডাল কেজিতে ৮ টাকা বেড়ে ৬৫ টাকা, সোলা বুট ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। আষাঢ়ের শুরুতেই ওইসব পণ্যের দাম লক লক করে বেড়েই চলেছে।
এদিকে, ব্রয়লার ও লেয়ারের দামও উর্দ্ধমুখি। বর্তমানে লেয়ার মুরগী বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ টাকায়, ব্রয়লার ১৭০, সোনালী ২২০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪০ টাকা, দেশী মুরগী ৩৮০, গরুর মাংস প্রকার ভেদে ৫০০ থেকে ৫২০ এবং খাসির মাংস ৫০ টাকা বেড়ে ৭০০ টাকায়।
ওই মার্কেটে মাছের বাজারের সাথে অবস্থিত হোটেল ব্যবসায়ী রহমত আলী  বলেন, গত মাসের চেয়ে মাছের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে, রুই প্রতি কেজি ২৫০, কাতল ২৫০, তেলাপিয়া ১৮০, শিং মাছ ৩৫০ টাকা, সরপুটি ১৮০, পাঙ্গাশ ১১০, ইলিশ প্রতি কেজি প্রকার ভেদে ৮০০ টাকা। এ ছাড়াও দেশী মাগুর ৬৮০, হাইব্রীট মাগুর ৩২০, পাবদা ৩৬০, গলদা চিংড়ী প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা।
এদিকে, ওই মার্কেটের কাঁচামালের খুচরা ব্যবসায়ী ইলিয়াজ আলী (৩২) ও তাহের মিয়া (৬০) জানান, আদা,রসুন ও কাঁচা মরিচের চাহিদার তুলনায় সরবারহ কম, তাই বেশী দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ ছাড়াও বন্যার পানিতে মরিচের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কেজিতে দাম বেড়েছে ৭০-৮০ টাকা। আপরদিকে, আদাও কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ৬০-৭০ টাকা। তারা বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মরিচ একেবারেই বন্ধ। বন্যার পানিতে পুরাতন আদা পচে যাওয়ায় এমনটি হয়েছে। আবার অনেকেই করোনার দোহাই কাজে লাগিয়ে বাড়তি পয়শা হাতিয়ে নিচ্ছে। বর্ষা বেরিয়ে গেলে তখন বাজার পরিস্থিতি কমে আসবে।
জেলা শহরের উকিলের মোড়, মাধার মোড়, আনন্দ বাবুর পুল, বাদিয়ার মোড় ও কালিতলা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি আলু প্রকার ভেদে ১০ টাকা বেড়ে ৩০ টাকা, পটল কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০, ৩৫ টাকার পেয়াঁজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, শুকনো মরিচ প্রকার ভেদে ১৬০ টাকার স্থলে ২০০, ৮০ টাকার রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, ২০ টাকার শসা ৩৫ টাকা, কুচ কুমড়ো প্রতি পিচ ১০ টাকা বেড়ে ৩০, চিচিঙ্গা ২০ টাকা বেড়ে ৪০, ঝিঙ্গা ১০ টাকা বেড়ে ৪০, লেবু প্রতি হালি ১০ টাকা বেড়ে ২০, কাঁচকলা প্রতি হালি ৫ টাকা বেড়ে ২০ টাকা, পুঁই শাক আঁটি ২০, কচুর লতি ২০, লালশাক ১২ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।
বর্ষায় বাজার উর্দ্ধগতির ব্যাপারে, ক্রেতা মৌরী বেগম ও আলেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, লকডাউনের ধুয়া তুলে ব্যবসায়ী কিছুদিন আগে লুটেপুটে খেল। আর এখন বন্যার পানির উসিলা দিয়ে বাজার গরম করে রেখেছে। আমাদের আয় কম। তাই আয়ের সাথে ব্যয়ের মিল রেখে বাজার ঘাট করতে হয়। এভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তড় তড় করে বেড়ে গেলে বাঁচার উপায় নেই। তারা বলেন, বাজারে নিয়ন্ত্রণ না থাকায় দোকানদাররা নিজের মতো করে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে।
জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা এটিএম এরশাদ আলম খান জানান, দোকানদের মূল্য তালিকা টাঙ্গানোর জন্য বলা হয়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ শিকার করে তিনি বলেন, দেশি আদা, রসুন ও কাঁচা মরিচের সরবারহ কমায় বাজার একটু বেড়েছে। বন্যার পানিতে মরিচের ক্ষেত ও আদার জমি তলিয়ে যাওয়ায় এমনটি হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতি বছর এ সময় ওইসব পণ্যের বাজার বেড়ে যায়।
এ ছাড়াও বর্ষাকে পুঁজি করে কিছু ব্যবসায়ী ওইসব পণ্যের দাম বেশী নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের ধরতে আমাদের বাজার মনিটারিং অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah