মঙ্গলবার, ২৭ Jul ২০২১, ০৬:৫২ অপরাহ্ন

নীলফামারী তে প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ২৭ শতক জমি দিয়ে বিদ্যালয় বাঁচালেন সাবেক প্রধান শিক্ষক

নীলফামারী তে প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ২৭ শতক জমি দিয়ে বিদ্যালয় বাঁচালেন সাবেক প্রধান শিক্ষক

নিউজ ডেক্সঃ

নীলফামারী-ডোমার সড়ক প্রশস্তকরণে শালমারা বন্দরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনসহ সব জায়গা সরকারিভাবে অধিগ্রহণ করা হয়। এতে আর কোনো জায়গা না থাকায় বিদ্যালয়টি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা শিক্ষা কমিটি।

ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশের অন্যান্য বিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে, বিদ্যালয় বিলুপ্তির বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি ওই বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক জগদিশ চন্দ্র রায়। যখন বিদ্যালয়টি রক্ষা করা যাচ্ছে না, সেই সময় তিনি বিদ্যালয়ের পাশে প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের নিজের ২৭ শতক জমি দান করে দেন।

বুধবার (১৬ জুন) বিকালে সাব-রেজিস্ট্রি কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজার রহমান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমীর হোসেনসহ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে ২৭ শতক জমি বিদ্যালয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। আর এতেই প্রাণের প্রতিষ্ঠান শালমারা বন্দরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিলুপ্তি আটকে দিলেন সাবেক প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয়টি টিকে থাকায় মহা খুশি ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষকসহ গোটা শালমারা এলাকার মানুষ। সেইসঙ্গে সাবেক প্রধান শিক্ষক জগদিশ চন্দ্র রায়কে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহামায়া দেব বর্মা জানান, ১৯৮৯ সালে এলাকার কিছু মানুষ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করে। এরপর ১৯৯৬ সালে বিদ্যালয়টি নিবন্ধিত হয়। ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করে সরকার। ১৯৯০ সালে জগদিশ চন্দ্র রায় প্রধান শিক্ষক হিসাবে এ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। আর ২০১৮ সালে অবসরে যান।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মাসুদ রানা ও জিয়ন রায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলে, যখন দেখলাম আমাদের বিদ্যালয়ের উপর দিয়ে রাস্তার কাজ চলছে। কয়েক দিন পরে শুনলাম বিদ্যালয়টি আর থাকবে না। তখন খুবই মন খারাপ হয়েছিল। আমাদের বিদ্যালয়টি বিলুপ্ত হবে না শুনে খুব ভালো লাগছে। নিজের বিদ্যালয়ে আমরা আবার ক্লাস করতে পারবো, এটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের।

জমি দাতা ও সাবেক প্রধান শিক্ষক জগদিশ চন্দ্র রায় বলেন, ২৮ বছর ধরে আমি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলাম। নিজের সন্তানের মতো করে বিদ্যালয়টি সাজিয়েছি। জমির কারণে বিদ্যালয়টি বিলুপ্ত হবে, তা আমি মানতে পারি নাই। সেজন্য সিদ্ধান্ত নেই যত মূল্যবান জমিই হোক না কেন, বিদ্যালয়টি বিলুপ্তি বন্ধে আমি জমি দান করবো। জমি দানের বিষয়টি পরিবারের সবার সঙ্গে আলোচনা করলে, সবাই আমাকে জমি দানে উৎসাহ দেয়। আমার দেওয়া জমিতে বিদ্যালয়টি টিকে থাকায় মনে হচ্ছে, নিজের সন্তানকে বাঁচাতে পেরেছি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমীর হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের উপর দিয়ে সড়ক প্রশস্তকরণে জমির অভাব পড়ে, এতে বিদ্যালয়টি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাবেক প্রধান শিক্ষক জগদিশ চন্দ্র রায় জমি দান করায় বিদ্যালয়টি আর বিলুপ্ত করা হবে না।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ জানান, জগদিশ চন্দ্র রায় মহান একটি কাজ করেছেন। তিনি সাবেক এ প্রধান শিক্ষকের মহৎ একাজে নিজেও অনুপ্রাণিত হয়েছেন এবং সমাজের সবাইকে এ মানুষটিকে অনুসরণ করার আহবান জানিয়েছেন।


© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah