বুধবার, ২৮ Jul ২০২১, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

নীলফামারী পুলিশ সুপারের বদান্যতায় অবশেষে ত্রাণ পেলো কাজের মেয়েটি

নীলফামারী পুলিশ সুপারের বদান্যতায় অবশেষে ত্রাণ পেলো কাজের মেয়েটি

এনপিনিউজ৭১/শাহজাহান আলী মনন/ ২ মে রংপুর

অবশেষে ত্রাণ পেলো এতিম কাজের মেয়ে লাকি আক্তার। ২ এপ্রিল শনিবার সকালে তার বাড়িতে ত্রাণ পৌছে দেয় জেলা পুলিশ সুপারের সহ যোদ্বারা। পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে এসআই মাহাবুব এ রাব্বী ও হারুন অর রশিদ স্থানীয় সাইদুল ইসলামকে নিয়ে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন তার হাতে।
সরকারের খাদ্য সহায়তা না পেয়ে দুর্বিসহ জীবনের কথা বর্ননা করতে গিয়ে লাকি আক্তার বলেন, মাকে হারিয়েছি অনেক আগে আর বাবাকে হারিয়েছি প্রায় এক যুগ আগে। তার পর শুরু হয় জীবন যুদ্ধ। স্থানীয় একজনের সহযোগিতায় সংস্থান হয় বাসার কাজের মেয়ে হিসেবে। সেখানে কষ্টে আর দুঃখে দিন কাটলেও শুরু হয় করোনা ভাইরাস ।

এই মহামারী ভাইরাস জীবনটাকে করে দিলো লন্ড ভন্ড আর থাকা হলো না আর সেই বাসায়। জীবিকার তাগিদে করোনা আতঙ্কে মাথায় নিয়ে বাধ্য হয়ে মুখে খাবার তুলে দিতে জনপ্রতিনিধিদের একাধিকবার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটো কপি আর নামের তালিকা নিলেও আজও জোটেনি সরকারী ত্রাণ।
শুক্রবার রাতে বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ ২৪ এর জেলা প্রতিনিধি আব্দুর রশিদ শাহ নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেন ‘একটি এতিম মেয়ে বাসায় কাজ করতেন সেটাও বন্ধ হয়েছে। একজন কমিশনার বলেছেন ওকে কোন কিছু দেওয়া যাবেনা। তাহলে ত্রানটা পাবে কে?’ এমন পোস্ট দৃষ্টি গোচর হয় জেলা পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমানের। রাতেই তিনি সংগ্রহ করেন মেয়েটির নাম ঠিকনা। সে অনুযায়ী আজ তার বদন্যতায় মেয়েটি পেলো ত্রাণ সামগ্রী।

নীলফামারী সদর পৌরসভার প্যানেল চেয়ারম্যান ঈসা আলী বলেন, চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল ত্রাণ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। সময় হলে লাকিও পাবে।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানালেন, এসব শ্রমজীবি মানুষের মধ্যে এ পর্যন্ত ৫৯ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া সম্ভব হয়েছে। দারিদ্র পীড়িত নীলফামারী জেলার মানুষের হাতে সরকারী ত্রান যাতে নিরপেক্ষভাবে পৌছে সে লক্ষ্যে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি আর সুশিল সমাজের লোকজনকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, নীলফামারী জেলার ৩ লাখ ৫ হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা পেয়েছে মাত্র ৫৯ হাজার পরিবার। যা চাহিদার তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। খাদ্য সহায়তা না পাওয়া অন্তত আড়াই লাখ পরিবার দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে। তাদের দিন কাটছে অনাহারে-অর্দ্ধাহারে।
দিন এনে দিন খাওয়া এসব শ্রমজীবি মানুষ কাজে যেতে না পারায় তাদের ঘরে মজুদ নেই কোন খাবার। বন্ধ হয়ে গেছে আয় রোজগার আর ধার-দেনার করার সব পথ। হাত পেতে যা পাচ্ছেন তা দিয়ে একবেলার খাবারের জোগান হলেও বাকী দুই বেলা থাকছে অভুক্ত। এভাবেই খেয়ে না খেয়ে কাটছে তাদের দিন। এনপি৭১/ নীলফামারী


© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah