মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:১৩ অপরাহ্ন

পীরগঞ্জের রায়পুর স্কুলে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের তদন্ত টিম

পীরগঞ্জের রায়পুর স্কুলে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের তদন্ত টিম

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

রংপুরের পীরগঞ্জের রায়পুর বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্বাচন ছাড়াই গোপনে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে স্থানীয় এক প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতার সভাপতি হওয়ার অভিযোগের ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে অবশেষে তদন্ত শুরু হয়েছে। বুধবার দুপুরে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডেও তিন সদস্যেও একটি তদন্ত টিম স্কুলে সরেজমিন তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

 

দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান বোর্ডের উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক আলতাব হোসেন জানান, হাইকোর্টের আদেশে স্কুলটির নির্বাচন ছাড়াই গোপনে ভয়া কাগজপত্র তৈরি করে পরিচালনা কমিটির তথ্য সংগ্রহের জন্য শিক্ষা বোর্ড একটি তদন্ত কমিটি করেছে। সেই আলোতে আমরা তিন সদস্যেও তদন্ত টিম বুধবার দুপুওে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে আসি। এসময় অভিযোগের বিষয়ে প্রতিটি শিক্ষক, কর্মচারী, কিছু শিক্ষার্থী, অভিভাবক, অভিযুক্ত কমিটি ও অভিযোগকারীদের বক্তব্য লিখিত এবং মৌখিক ভাবে গ্রহন করি। ফিরে গিয়ে যথাসমম্ভব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা তদন্ত রিপোর্ট চেয়ারম্যানের কাছে দাখিল করবো।

দীর্ঘ সাত মাস থেকে বিষয়টি নিয়ে স্কুলটিতে অচলাবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আশাকরি খুব সময়ের মধ্যেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। এবং কমিটি নিয়ে সৃষ্ট ঘটনার সঠিকতা বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, এখানে কাউকেই কোনভাবে কোন ধরনের অবৈধ সুবিধা দেয়া হবে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুরে তদন্ত কমিটির প্রধান আলতাব হোসেন অপর সদস্য বোর্ডের সহকারী সচিব ইব্রাহিম আজাদ ও সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক শাহ মো: ফয়জুল ইসলাম একটি সাদা রংয়ের কারে করে বিদ্যালয়ে আসেন। এসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও বিপুল পরিমান এলাকাবাসি উপস্থিত ছিলেন। তদন্ত কমিটি প্রধান এলাকাবাসি ও অভিভাবকদের সাথেও কথা বলে বিস্তারিত শোনেন।

এর আগে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক আবু হেনা মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক পত্রে বুধবারের তদন্ত পরিচালনার বিষয়ে চিঠি ইস্যু করা হয়।

প্রসঙ্গত: গতবছর ২৯ আগস্ট থেকে বর্তমান সভাপতিকে অবৈধ দাবি করে তার অপসারন এবং নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবিতে অনির্দিস্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন করে শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তার পদ থেকে ইস্তফা দেন। ৩০ জুন নতুন সভাপতি নান্টু মিয়া খায়রুল ইসলাম খয়বর নামের এক আওয়ামীলীগ নেতাকে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠে।

৪ সেপ্টেম্বর ওই পদে যোগদানও করেন খয়বর। প্রধান শিক্ষক না থাকায় গত ৬ সেপ্টেম্বর সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম নান্নু ও পীরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি খলিলুর রহমান খলিলের নেতৃত্বে শতাধিক বহিরাগত ব্যক্তি খয়বরকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে চার্জ বুঝে দেয়ার জন্য আসলে এর প্রতিবাদ জানায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এসময় সভাপতি নান্নু মিয়া দশম শ্রেনীর ছাত্রী নাফিসা তাবাস্সুমকে ধাপ্পর মাড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এনিয়ে বিক্ষোভ মানববন্ধন চলতে থাকে স্কুলটিতে।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী স্কুলের সাবেক সভাপতি ও অভিভাবক মাহমুদুল হক তুষার জানান, আওয়ামীলীগের রংপুর জেলা সদস্য, পীরগঞ্জ উপজেলা উপদেস্টা সদস্য এবং রায়পুর ইউনিয়ন আহবায়ক মোঃ রেজাউল করিম নান্নু নির্বাচন ছাড়াই জোড়পুর্বক গোপনে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে স্কুলের সদ্য প্রয়াত প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে বাধ্য করে একটি ভুয়া কমিটি দিনাজপুর বোর্ড থেকে পাশ করে এনে ওই স্কুলের সভাপতি হন। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে অভিভাবকদের পরামর্শে ওই ভুয়া কমিটি বাতিল করে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আমি দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত আবেদন করি গত ১৬ জুলাই। এদিকে সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা নান্নুর চাপ সহ্য করতে না পেরে গত ১৭ জুলাই প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম হার্ট এ্যটাকে মারা যান। এ ঘটনার পরের দিনই নান্নু মিয়া স্কুলের অপর শিক্ষক সুনীল চন্দ্র রায়কে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন।

এরপর সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্কুলে জরুরী ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, কম্পিউটার অপারেটর ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী নিয়োগের পাঁয়তারা করতে থাকে। এরপর ২৩ জুলাই দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় (পত্রাদেশ নং-এস/১০৩/১৯৪(০২)। কিন্তু ইউএনওকে প্রভাবিত করে নান্নু মিয়া তদন্ত আটকে রাখে। এরপর বিষয়টি নিয়ে আমি হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করি(৯১৭/১৯)। হাইকোর্টের নির্দেশে আবারও শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশনা(২/এস/১০৩/৮২২(০৩) দেন চলতি মাসের গত ৯ এপ্রিল । কিন্তু ইএনও এরপরেও তদন্ত না করায় শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি বুধবার তদন্ত পরিচালনা করেছে। আমরা অভিভাবক,এলাকাবাসি, শিক্ষক শিক্ষার্থী সঠিক তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত দেয়ার জন্য কমিটির কাছে তদন্তের সময় দাবি করেছি।

এ ব্যপারে স্কুলের অভিযুক্ত পরিচালনা কমিটির সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা রেজাউল করিম নান্নু জানান, আগের প্রধান শিক্ষক আমাকে সব নিয়ম মেনে সভাপতি করেছেন। আমি নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি হয়েছি। কিন্তু আমাকে সাবেক সভাপতি তুষার মেনে নিতে পারছে না। তার উস্কানিতেই এসব হচ্ছে।

এনপিনিউজ৭১/সমামা/আআসু


© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এনপিনিউজ৭১.কম
Developed BY Rafi It Solution