শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:২৮ অপরাহ্ন

পীরগঞ্জে শানেরহাট ইউনিয়নে ১০ টাকা চালের অনিয়ম ও দূর্নীতি

পীরগঞ্জে শানেরহাট ইউনিয়নে ১০ টাকা চালের অনিয়ম ও দূর্নীতি

আল আমীন সুমন, রংপুর

আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহার ১০ টাকা কেজির খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নামে নজিরবিহীন দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে মাঠ পর্যায়ে। খোদ স্পিকারের নিবাচনী আসন রংপুরের পীরগঞ্জের শানেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সেই দুর্নীতির মডেল। এখানে এক ব্যক্তির আইডি কার্ড বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ব্যবহার, ব্যক্তি না থাকলেও নাম ব্যবহার, মৃত ব্যক্তির নামে বরাদ্দ, ভূয়া আইডি কার্ড নম্বর ব্যবহার, কখনও আইডি কার্ড নম্বরের ডিজিট বেশি কখনও কম, আইডি কার্ড নম্বর বিহীন ব্যক্তি, সম্পদশালীদের বরাদ্দ, নাম একজনের আইডি কার্ড নম্বর অন্যজনের, একই ব্যক্তির নামে একাধিক কার্ডসহ অন্তত ১৯ ধরনের অনিয়মের সত্যতা মিলেছে মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে। বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। আর জেলা প্রশাসন বলছেন, অনিয়মের ঘটনায় কেউ পার পাবে না। সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নজীরিবিহীন অনিয়মের এই চিত্র।

২০১৬ সালে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের ৯ টি ওয়ার্ডে ১০ টাকা দরে চাল বরাদ্দ দেয়া হয় ১ হাজার ৩৫০ জনের নামে। প্রতিটি উপকারভোগি বছরে ৫ দফায় ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু শানেরহাট ইউনিয়নের নৌকা প্রতিকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মন্টু ১৯ ধরনের নজিরবিহীন অনিয়মের মাধ্যমে পুরো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

গত তিন দিন ধরে অনুসন্ধান চালিযে পাওয়া গেছে ১০ টাকার চালের অনিয়মের চাঞ্ছল্যকার সব তথ্য। অনিয়মে দেখা গেছে মৃত ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দিয়ে সেই চাল তুলে পুরো টাকাটাই আত্মসাত করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে ১ নং ওয়ার্ডের পার্বতীপুর গ্রামের রহিম মন্ডল (কার্ডনং ১১৯০), শহিদুল (১০), সৈয়দ আলী (২৮), সামাদ (২১২), রহিম (১৯৮), দামোদারপুরের আনারুল (১১৭), ৩ নং ওয়ার্ডের ঘোষপুরের মহির(৩৩৩), ৪ নং ওয়ার্ডের মেস্টাগ্রামের রাশেদুল (৪৪৮), মিঠু (৩৫০), বারি মন্ডল (৪০২), রওশন আরা (৪৭৬), গোলাপ (৪৬১), এন্তাজ (৪৮২), লাবলু (৪৫৪), ৫ নং ওয়ার্ডের রাউতপাড়ার রাজেকা (৪৯৩), ৬ নং ওয়ার্ডের পবন পাড়ার হক মন্ডল (৬৮২), পালানু সাহাপুরের সাত্তার মিয়া (১২৯৪) ও সপুর (৫৭৭), ৭ নং ওয়ার্ডের ধরলাকান্দির শিবধারী রাম(৮৫২), ৮ নং ওয়ার্ডের প্রথম ডাঙ্গা গ্রামের জোহরা (৯৭৩), মনুছর (৯৮৮), ছোট পাহাড়পুর গ্রামের ফুলমতি (৮৬৩),৯ নং ওয়ার্ডের বড়পাহারপুর গ্রামের ছাবাত (১০৮৮), মনোরঞ্জন (১১২৩), পাহারপুর গ্রামের সাহা (৯৪৮) ও সুখি চন্দ্র(১০৬১) অন্যতম। এসব মৃত ব্যক্তির নামে গত তিন বছর ধরে ১০ টাকার চাল ১১ টন ৭০০ কেজি চাল বরাদ্দ নিয়ে এবং তা তুলে আত্মসাত করা হয়। যার বাজার মুল্য (১০ টাকা দরে ক্রয় মূল্য বাদে) প্রায় ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান এসব মৃত নামের জায়গায় নতুন নাম প্রতিস্থাপন করেন।

এ ব্যপারে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার আব্দুল মান্নান মন্ডল জানান, মৃত ব্যক্তির নামের তালিকা আমার কাছে আসার পর আমি সেসব তালিকা ফেরত দিয়েছিলাম। সেই তালিকায় চাল দেই নি। কিন্তু পরবর্তীতে চেয়ারম্যান সুপারিশ করে আমাকে বাধ্য করেছে মৃত ব্যক্তির নামে চাল দিতে। সেকারণে আমি গত তিনবছর থেকে মৃত ব্যক্তির নামেও চাল দিতে বাধ্য হয়েছি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একই ব্যক্তির এনআইডি কার্ড বিভিন্ন গ্রামের বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ব্যবহার করে এই চাল উত্তোলন করা হয়েছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য মতে, ১ নং ওয়ার্ডের দামোদারপুর গ্রেেমর আবুল কাশেমের স্ত্রী ফজিলতার (এনআইডি নং ৮৫১৭৬৮৮৫৪০০১০) এনআইডি ব্যবহার করে ৬ নং ওয়ার্ডের পালানুসাহাপুর গ্রামের চম্পা( কার্ড নং ৫৭২), লোকমান (৫৯৯), রায়তী সাদুল্যাপুর গ্রামের সুমি (৬৭১), ৫ নং ওয়ার্ডের রাউৎপাড়া গ্রামের প্রানেশ্বরীর (৫৩০) নামে চাল বরাদ্দ দিয়ে তা তোলা হয়েছে। একইভাবে ১ নং ওয়ার্ডের দামোদারপুর গ্রমের তাজরুলের ( এনআইডি নং ৮৫১৭৬৮৮৫৫৪০০১) এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে ৬ নং ওয়ার্ডের রায়তী সাদুল্যাপুর গ্রামের বিজলী (৬২৪), ৩ নং ওয়ার্ডের ঘোষপুর গ্রামের খারামোহন (৩০০), ৫ নং ওয়ার্ডের দিগদারি গ্রামের মকিম খান(৩২২), ৪ নং ওয়ার্ডের মেস্টা গ্রামের সাহেব (৪২১), ১ নং ওয়ার্ডের দামোদারপুর গ্রামের আলম(৭২); ৬ নং ওয়ার্ডের পবনপাড়া গ্রামের রবি মিয়ার স্ত্রী সম্পার (এনআইডি নং ৮৫১৭৬৮৮৫৫৫০০২) এনআইডি ব্যবহার করে ৬ নং ওয়ার্ডের ধল্যাকান্দির নিরঞ্জণ(৮০২), ৮ নং ওয়ার্ডের ছোট পাহাড়পুর গ্রামের আমজাদ (৮৫৮) এবং ৩ নং ওয়ার্ডের ঘোষপুরের দছিম উদ্দিনের পুত্র সৈয়দ আলীর (এনআইডি নং ৮৫১৭৬৮৮৫৪১৬২৬) এনআইডি ব্যবহার করে ১ নং ওয়ার্ডের সৈয়দ আলী (২৮) ও দামোদারপুর গ্রামের সামাদ(৪৬) নামে বরাদ্দ দিয়ে চাল উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন।

এ ব্যাপারে ঘটনার স্বীকার দামোদারপুর গ্রামের আবুল কাশেমের স্ত্রী ফজিলতা জানান, আমি কোনদিনও ইউনিয়ন পরিষদে আমার এনআইডি কার্ড ও ছবি জমা দেই নি। তারপরেও তালিকায় আমার এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে ৪ জন তিন বছর ধরে ১০ টাকার চাল উত্তোলন করছেন। বিষয়টি অমার্জনীয় অপরাধ। আমার আইডি কার্ড দিয়ে কেন একাধিক মানুষ চাল পাবে। এব্যপারে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি করছি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে ইউনিয়নটির ১৭ টি গ্রামেই ভূয়া নাম ও আইডি ব্যবহার করে চাল উত্তোলন করে তা আত্মসাত করা হয়েছে। অথচ ওই নামে ওই গ্রামে কোন লোকই বসবাস করেন না। সরেজমিনে দেখা গেছে ৮ নং ওয়ার্ডের ছোট পাহাড়পুর গ্রামের ফুল মিয়া ( ৬১৯), কাশে মিয়া (৮০১৩), আকমল (৮০৪), আনিছা (৮০৫), জরি বেগম (৮০৬), মালতী রানী (৮০৯), সাজু (৮১১), হেরেন (৮১২), আকলিমা (৮১৩), রমিও বালা (৮১৪), শাহীন (৮১৫), শাহের আলী (৮১৬), কুলসুমা (৮১৭), তাসমা (৮১৮), হাসনা (৮১৯), মিন্ট ু(৮২০), সেতারা (৮২১), মোখলেছার (৮২২), ছাকা (৮২৩), লুৎফর (৮২৪), শহিদুল (৮২৫), জুয়েল (৮২৬), মাহাবুল (৮২৭), দেলওয়ার (৮২৮), গিনিমাই (৮২৯), জোসনা (৮৩০), রাবেয়া (৮৩১) ২৭ জন ; ৫ নং ওয়ার্ডের রাউৎপাড়া গ্রামের কুলসুমা (৫২৪), তারাজুল (৫২৫), মমেনা (৫২৬), আব্দুল ওয়াদুদ (৫২৭), আনজুয়ারা (৫২৮, হালিমা ( ৫২৯), প্রাণেশ্বরী (৫৩০), শেফালী (৫৩১), অনিতা রানি (৫৩২), আসতারা (৫৩৩), শিপন (৫৩৬), সাজু (৫৩৭), দেবেন(৫৩৮), মিজানুর (৫৩৯), বিনয় (৫৪০), ইমরান(৫৪১), হামিদা (৫৪২), আইয়ুব(৫৪৩), রফিক(৫৪৪) ১৯ জন এবং ৩ নং ওয়ার্ডের গ্রামের জয়নাল(৩২১), নুরমল হক(৩২৩), মকিম খান(৩২২), জেলেখা(৩২৪), মজিদুল(৩২৫), হাজির(৩২৬), হোসনে আরা(৩২৭), জাহানারা (৩২৮), মোসলেমা (৩২৯), সাবেরা (৩৩০), শামসুল(৩৩১), আশরাফুল (৩৩২), মহির(৩৩৩), আফসার(৩৩৪), মোশাররফ (৩৩৫), মোহাম্মদ আলী(৩৩৬), আশরাফুল (৩৩৭) এবং বাদল (৩৩৮) নামে ১৮জন তিন গ্রামের ৬৪ জন লোকের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ওই তিন গ্রাম তাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় নি। এই ৬৪ জন এসব গ্রামে না থাকলেও তাদের নামে চাল তোলা হয়েছে। তিন বছরের হিসেবে এই ৬৪ জনের নামে উত্তোলনকৃত চালের বর্তমান বাজার দর ( ১০ টাকা হারে ক্রয়মুল্য বাদে) ৪৩ লাখ কুড়ি হাজার টাকা।

এব্যপারে ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ কলিম উদ্দিন জানান, আমার দিগদাড়ি গ্রামে যে ১৮ জনের নাম দিয়ে চাল তোলা হচ্ছে। ওইসব নাম ভুয়া। এই গ্রামে ওই নামের কোন ব্যক্তি নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিকে বিতর্কিত করতেই ইউপি চেয়ারম্যান প্রতিটি গ্রামেই ভুয়া নাম দিয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকা তৈরি করে তা আত্মসাত করছেন। এ বিষয়ে এখনই তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নিতে হবে।

অন্যদিকে ৫ নং ওয়ার্ডের রাউৎপাড়া গ্রামের বাসিন্দা, শানেরহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য মোঃ মেজবাহুর রহমান জানান, বর্তমান চেয়ারম্যান আমার রাউৎপাড়া গ্রামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির যে তালিকায় বরাদ্দ দিচ্ছেন, সেই তালিকার ১৮ জন ব্যক্তি আমার গ্রামের নন। ওই নামে আমার গ্রামে কিংবা ভোটার তালিকায় কোন নাম নেই। সম্পুর্ন ভূয়া নাম ব্যবহার করে এসব ব্যক্তির নামে চেয়ারম্যান সিন্ডিকেট চাল উত্তোলন করে আত্মসাত করছেন। বিষয়টি এলাকায় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। (চলবে)

অন্যদিকে অনুসন্ধানে দেখা গেছে আইডি কার্ড এবং ব্যক্তি সঠিক থাকলেও তারা চাল পায় না। এরা হলেন ১ নং ওয়ার্ডের দামোদারপুর গ্রামের ওসমানের পুত্র আতিয়ার রহমান (১০৪), সাইদুল ইসলামের পুত্র আনারুল (১১৭), মোখলেছারের পুত্র এরশাদ (১০২)ও খোলাহাটি গ্রামের মৃত ছাত্তারের স্ত্রী বেলি (২৩৩), ৪ নং ওয়ার্ডের মেস্টা গ্রামের আবুবক্করের পুত্র সোহেল (৪৭৯), ৬ নং ওয়ার্ডের পালানুসাহাপুর গ্রামের ছাবুর স্ত্রী সাদেকা(৫৬৯) ও রায়তী সাদুল্যাপুর গ্রামের আনারুলের স্ত্রী সুমী এবং ৭ নং ওয়ার্ডের ধরলাকান্দি গ্রামের সালামের স্ত্রী জোড়বানু (৭৭৭)। এদের সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও তাদের চাল দেয়া হয় নি। এভাবে গত তিন বছরের থেকে এই ৮ জনের নামে উত্তোলনকৃত চালের বর্তমান বাজার দর ( ১০ টাকা হারে ক্রয়মুল্য বাদে) ৫৪ হাজার টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে রায়তী সাদুল্যাপুর গ্রামের আনারুলের স্ত্রী সুমী জানান, আমার এনআইডি কার্ড এবং আমাকে ব্যবহার করে চাল তোলা হলেও আমি কখনই চাল পাই নি। তদন্ত কমিটির মাধ্যমে আমি জানতে পারি আমার নামে চাল উঠেছে তিন বছর ধরে। তাহলে আমার চাল কে বা কারা উঠালো, তা আমি জানতে চাই। আমার নামে উত্তোলন হওয়া চাল আমি চাই। অন্যদিকে ধরলাকান্দি গ্রামের সালামের স্ত্রী জোড়বানু (৭৭৭) জানান, আমার নামে ৩ বছর ধরে চাল তোলা হয়েছে। আমি জানি না। বিষয়টি জানার পর সাংবাদিক আমার বাড়িতে আসলে ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলাম আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে জোড় করে ভিডিও করে নেয়। এব্যপারে জোড়বানুর পুত্র জুয়েল জানান, আপনারা (সাংবাদিক) আসার কথা শুনে আমার মাকে মেম্বার জোড় করে তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু আমার মায়ের নামে তিন বছর চাল উঠেছে। কিন্তু তিনি একটি চালও পান নি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তালিকায় ভুয়া এনআইডি কার্ড নম্বর ব্যবহার করে পবন পাড়ার রিপন মন্ডল(৭২৬), নুরজাহান (৬০৩), ধরলাকান্দির লাবলী (৭২৭), শরিফুল (৭৭৮), দামোদারপুর গ্রামের মাহফুজার (১১৫৩), রাউৎপাড়ার ইমরান (৫৪১) নামে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও এনআইডি কার্ডের ডিজিট বেশি দিয়ে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পাবর্তীপুর গ্রামের আবু তালেব (১৯৩), নুরুল মিয়া (৫৫১), ধল্যাকান্দির লাভলী (৭৭২), ঘোষপুরের আব্দুল হালিম (২১৩) কে।

শুধু তাই নয়, এনআইডি কার্ডের ডিজিট কম দেখিয়ে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বড়পাহারপুর গ্রামের সবদেল (১০০৯), রফিক (১০৪০), জেলেখা(১০৪১), শহিদুল (১০৪২), এজাহার (১০৪৩), মোস্তফা (১০৪৪), ওয়েদুল (১০৪৫), রবিউল (১০৪৬), আনারুল (১০৪৭), কোব্বাস (১০৪৮), দবির (১০৪৯), শাহিন মিয়া (১০৩৮), কল্পনা রানি (১০৩৯), রশিদ (১০৫০), মেস্টা গ্রামের আতিয়ার রহমান (১২৫১), হরিরাম সাহাপুর গ্রামের মমিনুল মিয়া (১২৩০), পালানুসাহাপুর নওশাদ (১২৮৯) প্রথমডাঙ্গা গ্রামের শাহ আলী (১৩১৩) কাজিরপাড়ার শামীমা আখতার (১৩২০), পাহারপুর গ্রামের সাউথ (৭৩২), মজনু (৭৩৩) এবং সৈয়দ (৭৩৫) কে। এভাবে গত তিন বছরের থেকে এই ৩১ জনের নামে উত্তোলনকৃত চালের বর্তমান বাজার দর ( ১০ টাকা হারে ক্রয়মুল্য বাদে) ২ লাখ ৯ হাজার ২৫০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যপারে শানেরহাট ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি মোঃ আব্দুল বারী জানান, আমার চিকিৎসার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ১ লাখ টাকা দিয়েছেন। কিন্তু আমার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভুয়া এনআইডি, এনআইডির ডিজিট কম ও বেশি দেখিয়ে ১০ টাকার চাল আত্মসাত করে আমার প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিকে বিতর্কিত করেছেন। এধরনের দুর্নীতিবাজ মানুষ যদি থাকে, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যেকটি ভালোকাজ বিতর্কের মুখে পড়বে। এব্যপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক।

অন্যদিকে এনআইডি কার্ডধারী লোক এক গ্রামের। কিন্তু তাদের এনআইডি ব্যবহার করে চাল তোলে অন্য গ্রামের ব্যক্তি। একারণে মুল এনআইডিধারী ব্যক্তিরা বরাদ্দ থেকে বঞ্ছিত হচ্ছেন। এরকম কার্ডধারীদের নম্বরহগুলো হচ্ছে পার্বতীপুর গ্রামের কার্ড নং ২,১৯,২৮,৩৭,১৫৬,১৭০,১৭২,১৮১,২০১, ২০৭, ৭৪০, খোলাহাটি গ্রামের ৫৫৫ থেকে ৫৬২ নং কার্ড, ঘোষপুর গ্রামের ৩১৩, ৩৪৫, ৩৫৮, দিগদাড়ি গ্রামের ৩২২, ৩২৩,৩২৫, মেস্টা গ্রামের ৩৫৮, রাউৎপাড়া গ্রামের ৪৮৬, ৪৮৭,৪৯০, ১২০৪, হরিরাম সাহাপুর গ্রামের ৪৯৩, ৫১২, ৫১৯, ৫৫৩,৫৫৫, রাউৎপাড়া গ্রামের ৪৯৪, ৪৯৭, ৪৯৮, ৫০১, ৫০৩, ৫৩০, ৫৪১, ৫৪২,৫৪৩, ৫৪৪, ৫৬৩ থেকে ৫৬৭, পালানোসাহাপুর গ্রামের ৫৭২ থেকে ৫৭৪, ৫৮২ থেকে ৫৮৫ পর্যন্ত, ৫৯৯, ৬৩৯ থেকে ৬৪১, ৬৮৯, পবনপাড়া গ্রামের ৬০৬, ৬১২, ৬১৮, ৬৪২, ৬৪৫ থেকে ৬৪৭, ৬৮২, ৬৮৩, হরিরাম সাহাপুর গ্রামের ৫৭৬, রায়তি সাদুল্যাপুর গ্রামের ৫২২ থেকে ৫৩৮ পর্যন্ত, ৬৪৮ থেকে ৬৮১, ৬৮৪ থেকে ৬৮৭, ৮৫০, খামার সাদুল্যাপুর গ্রামের ৭০৮ থেকে ৭১৮, ধল্যাকান্দি গ্রামের ৭২৩, ৭৪৬, ৭৫০, ৭৫২, ৭৫৯, ৭৬২,৭৬৩, ৭৬৫, ৭৭০, ৭৯৭,৮০০, ৮০২, ১২৭৪, ছোট পাহাড়পুর গ্রামের ৮০৫ থেকে ৩১, ৮৫৮, ৮৬২, কাজিরপাড়া গ্রামের ১২৭৪, দামুদারপুর গ্রামের ৪৩, ৪৬, ৫১, ৬০, ৬১, ৬৪, ৭২, ৭৫, ৭৭, ৭৯, ৮১, ৮৫, ৮৭, ৯১, ৯২,৯৫, ১১৭,১২২, ১২৩, ১৪৬, ১৪৭, ১৪৯, ৬৯৪, ৬৯৬, ৭০২, ৭০৪,৭০৫, ৭১৯, প্রথম ডাঙ্গা গ্রামের ৮৬৪, ৮৬৮, ৮৭২,৮৭৩, ৮৭৬,৮৭৭, ৮৮৬, ৮৯৭, ৯১৩, ৯১৫, বড় পাহাড়পুর গ্রামের ১০২৮,১০৩৩, ১০৩৭ এবং মেস্টা গ্রামের ১১৭২ । এ ধরনের সর্বমোট ২৩১ জন কার্ডধারীর বিপরীতে চাল তুলে গত তিনবছরে বর্তমান বাজার দরে ( ১০ টাকা হারে ক্রয়মুল্য বাদে) প্রায় ৫ লাখ ১৯ হাজার ৭৫০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যপারে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য ও দামোদারপুর গ্রামের মো: জয়নাল আবেদীন জানান, খাদ্যবান্ধব তালিকায় নাম আছে ১ হাজার ৩৫০ জনের। এর মধ্যে যদি ২৩১ জন ব্যক্তির আইডি কার্ড ব্যবহার করে চাল উঠানো হয়, কিন্তু ওই আইডিকার্ডধারী ব্যক্তি চাল পান না। বিষয়টি ইউনিয়নে ওপনে সিক্রেট। এটা নজীরিবিহীন দুর্নীতি। কিন্তু তার পরেও আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে চেয়ারম্যান বহাল তবিয়তে থাকেন কিভাবে। যিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিকে বিতর্কের মুখে ফেলেছেন। এ বিষয়ে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

অন্যদিকে এনআইডি নম্বর দেয়া ছাড়াই তালিকায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৭ জনকে। এরা হলেন পার্বতীপুর গ্রামের একরামুল (১৫৩), আনোয়ারা (১৫৪), মনোয়ারা (২১৮), গোলাম রব্বানী (৭৪১), ঘোষপুর গ্রামের সালম া(২৭৭), নায়েব (২৯২), শ্যামলী (৩০৪), মেস্টা গ্রামের মিলন মন্ডল(৪৮৩), সোহরাব (৪৮৪), রাউতপাড়ার জগন্নাথ রায় (৫২৩), পাহাড়পুরের শাহনাজ(৭২৬), সুলতান(৭৩৭), দামোদারপুরের জান্নাতি(৭৩৮), সাবিনা(৭৩৯), কাজিরপাড়ার শিপন(৭৮৯), জোসনা(৭৯০), আনজেরা(৭৯১), ডিপ্টি(৭৯২), হালিমা(৭৯৩), রঞ্জ(৭৯৪), ছোট পাহাড়পুর গ্রামের হামিদ(৮৪৪), সাহাদুল (১০২২), আব্দুর রহিম (১০২১), শুকরাম বাবু (১০২৩),পবনপাড়ার শিবধারী রাম(৮৫২), বড় পাহারপুর গ্রামের সাত্তার (১০৩৫)।

শানেরহাট ইউনিয়নের ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও ৯ জনকে বরাদ্দের তালিকায় রাখা হয়েছে। এরা হলেন নুরমল (৩২৩), মজিদুল(৩২৫), হাজিরন (৩২৬)), হোসনে আরা (৩২৭), আফসার(৩৩৪), সায়ারুল (৪৯৭), আসতারা (৫৩৩), আইয়ুব (৫৩৩), রফিক (৫৪৪)।

তালিকায় একই ব্যক্তির নামে একাধিক কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। এসব কার্ডধারীরা হলেন থামার সাদুল্যাপুরের ছালামের স্ত্রী রুপালী (৭১৫ ও ১২৬৩), হরিরাম সাহাপু গ্রামের সাত্তার মিয়ার স্ত্রী আছতারা (৫১২ ও ৫৩৩)। তারা একই ব্যক্তি হয়ে দুই দফায় চাল তুলছেন।

এদিকে নীতিমালায় না থাকলেও খাদ্যবান্ধব ও কর্মসূচিতে একই ব্যক্তিকে তালিকাভূক্ত করা হয়েছে দুর্ণীতির মাধ্যমে। তারা হলেন পালানু সাহাপুর গ্রামের মিলন(৫৭৯), আতিয়ার(৫৮৯), মুক্তি(৫৯৮), কায়েম(৬৩৪), পবনপাড়া গ্রামের বুলবুলি(৬৫০), হারিছা(৬৫৪), রাউৎপাড়ার জগন্নাথ রায়(৫২৩)।

এসব ব্যাপারে ওই ইউনিয়নের সাবেক রিলিফ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য খবির উদ্দিন জানান, এনআইডি নম্বর ছাড়া তালিকা তৈরি করা, ভোটার তালিকায় নাম না থাকা সত্বেও বিধি ভেঙ্গে বরাদ্দ তালিকায় নাম দেয়া, একই ব্যক্তির নামে একাধিক কার্ড বরাদ্দ দেয়া এবং খাদ্যবান্ধব ও কর্মসূচিতে একই ব্যক্তির নাম দেয়ার মাধ্যমে ইউনিয়নে ১০ টাকার চাল নিয়ে হযবরল পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। এরমাধ্যমে আওয়ামীলীগের সুনাম এখানে দারুনভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের আসন পীরগঞ্জেই যদি একজন আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান এসব বিতর্কিত কর্মকান্ড করেন, তাহলে আমরা কোথায় যাবো। সেই ব্যক্তি আবার কাউন্সিলে আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রার্থী। তিনি বলেন, আশাকারি আওয়ামীলীগের চলমান শুদ্ধি অভিযানে বিষয়টি নজরে আসবে উপজেলা ও জেলা নেতৃবৃন্দের।

এদিকে ৭৭৯ নং কার্ডে রেমা রানী নামে এক উপকারভোগির নাম তালিকায় রাখা হলেও তার পাশে যে এনআইডি (৮৫১৭৬৮৮৫৫৪৪৫৬) নম্বরটি দেয়া হয়েছে সেটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মন্টু মিয়ার ছোট ভাই আখতারুজ্জামানের। আখতারুজ্জামান এলাকায় ধণাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে সবাই জানেন।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য হরিরাম সাহাপুর গ্রামের মন্টু জানান, আমি রিকশা চালিয়ে জীবন যাপন করি। আমি ১০ টাকার চাল তো দুরের কথা, সরকারী কোন সুবিধাই পাই না। অথচ চেয়ারম্যান সাহেবের ভাই কোটিপতি ব্যবসায়ি, তার এনআইডি দিয়ে চাল তোলা হচ্ছে। এ ব্যাপারে দৃষ্টান্তমুলক ব্যবস্থা নেয়া হোক।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ছোটপাহাড়পুর গ্রামে ভোটার ৫৫২ জনের মধ্যে ১৩০ জনকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে ওই গ্রামে তালিকাভুক্ত নামের মধ্যে ২৮ ব্যক্তি নেই। অন্যদিকে হরিরাম সাহাপুর গ্রামে ভোটার ১ হাজার ৪৪৬ জনের মধ্যে তালিকাভূক্ত করা হয়েছে মাত্র ৪৩ জনকে। এতে সুসম বন্টন নিশ্চিত হয় নি।

অনুসন্ধানে এলাকাবাসি জানিয়ছেন, জন্মনিবিন্ধন বিধিমালায় ১ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত ফ্রি, ৪৫ দিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা ৫ বছর থেকে ওপরে ৫০ টাকা নেয়ার বিধান থাকলেও গত তিনবছরে এখানে প্রতিটি জন্ম নিবন্ধন ফি বাবাদ ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে কোন রশিদ দেয়া হয় নি। বিষয়টি ইউনিয়ন বাসির কাছে ওপেন সিক্রেট।

ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয় দু:স্থ অসহায়দের। সেখানেও অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে অনিয়মের নানা চিত্র।

ভূয়া এনআইডি কার্ড দিয়ে ভিজিডির তালিকায় ২২ জনের নাম লিখিয়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরা হলেন পার্বতীপুর গ্রামের দেলোয়ারা খাতুন(কার্ড ২), খোলাহাটির গ্রামের মারুফা বেগম(৩৩), ববিতা বেগম(৪৯), মঞ্জুয়ারা বেগম(৫৪), মেস্টা গ্রামের নিপা বেগম(১০১), নাছিমা খাতুন(১০২), হরিরাম সাহাপুর গ্রামের সান্তনা বেগম (১০৯), একই গ্রামের নাছিমা বেগম(১১৩) পালানু সাহাপুর গ্রামের গোলাপী (১৩৩), কহিনুর বেগম( ১৪১), পবনপাড়ার আনজুায়ারা (১৩৪), অঞ্জলি রানী (১৩৫), জয়ন্তি রানী (১৩৬), বুলবুলি বেগম(১৪২), ধল্যাকান্দি গ্রামের রিনা বেগম (১৪৬), শেফালী বেগম (১৫১), শাপলা বেগম (১৫৪), ছোটপাহারপুর গ্রামের সান্তনা (১৮৭), মাফিয়া বেগম(১৯২), মারুফা বেগম(১৯৫), পাহারপুর গ্রামের অঞ্জনা বেগম(১৯৯), রমিছা বেগম(২০৬)।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে অন্যজনের এনআইডি নাম ব্যবহার করে ১৬ জনকে ভিজিডি তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। এরা হলেন পার্বতীপুরের চামেলী(কার্ড নং ১৬), দামোদারপুর গ্রামের রেনু বেগম (২৮), খোলাহাটি গ্রামের আসতারা(২৯), বিলকিস(৩০), নাজনীন বেগম(৪১), ঘোষপুর গ্রামের আরেফা (৫৯), শিউলি বেগম(৬৩), মাহফুজা (৬৫), রায়তীপুর সাদুল্যাপুর গ্রামের জরিনা বেগম(১৪৩), খামার সাদুল্যাপুর গ্রামের গোলেনুর(১৭০), খামার সাদুল্যাপুর গ্রামের রিক্তা বেগম(১৭৩), ছোটপাহাড়পুর গ্রামের গোলনাহার বেগম(১৮০), শাপলা বেগম (১৯৩)।

এ ব্যপারে চেয়ারম্যানের বন্ধু অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য খন্দকার শহিদুল আলম মিঠু জানান, চেয়ারম্যান সাহেব খাদ্যবান্ধব, ভিজিডি, জন্ম নিবন্ধন, মাতৃকালীন ভাতা, বয়স্কভাতা, ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি, রিলিফসহ সকল সরকারী কর্মসূচিতে যেভাবে অনিয়ম, দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছেন, তাতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বিতর্কিত হচ্ছে। বিষয়গুলো জানিয়ে আমি স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা, দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে গত ১২ জুন সকাল প্রমানাদিসহ লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আবেদনের পর খাদ্য কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে সরেজমিন তদন্ত করলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নি। উল্টো চেয়ারম্যান বলে বেড়াচ্ছেন, কোন অভিযোগই কাজে আসবে না। এতে আমি এবং ইউনিয়নবাসি উদ্বিগ্ন। সাবেক এই সেনা সদস্য আরও বলেন, আমরা ইউনিয়নবাসি চায় যতদ্রতসম্ভব বিষয়গুলো উচ্চতর কমিটির মাধ্যমে সরেজমিন তদন্ত করে দৃষ্টান্তমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক।

এ ব্যাপারে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: সেলিম সরদার জানান, ইউনিয়ন পরিষদের সরকারী সকল বরাদ্দে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের কথা আমার কাছে এসেছে। কিছু কিছু বিষয়ে আমিও সত্যতা পেয়েছি। বিষয়গুলোর তদন্তের মাধ্যমে সুরাহা দরকার ।

এ ব্যপারে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ কাউন্সিলে সভাপতি প্রার্থী মিজানুর রহমান মন্টু জানান, আমার প্রতিপক্ষ আমাকে হযে প্রতিপন্ন করার জন্য আমার নামে এসব কুৎসা রটাচ্ছে। এসব অভিযোগ সঠিক নয়, তবে গত ১৯ সেপ্টেম্বর মৃত, একাধিক ভোক্তা, ঢাকায় অবস্থান, স্বচ্ছল এরধরনের ৬৬ জনের নাম তালিকা থেকে বাদ দিে সেখানে প্রকৃত দু:স্থদের নাম তালিকাভূক্ত করে তালিকা সংশোধন করা হয়েছে। যদি আরও পাওয়া যায়, সেটাও সংশোধন করা হবে।

এবিষযে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মোমিন জানান, ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এখনও তদন্ত রিপোর্ট আসে নি। তিনি বলেন, এর আগেও আমি পীরগঞ্জ অডিটোরিয়ামে একটি আলোচনা সভায়ওই চেয়ারম্যান সাহেবকে বিষয়গুলো নিয়ে অভিযোগের ব্যপারে বলেছিলাম।

এ ব্যপারে রংপুরের ডিসি আসিব আহসান বলেন, যেহেতু এ ব্যপারে একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। সরকারী বরাদ্দে যদি কেউ অনিয়ম করে তাহলে তার বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah