বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৯:১৫ অপরাহ্ন

পীরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আন্ডার রেটে দলিলে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি

পীরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আন্ডার রেটে দলিলে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি

আল আমীন সুমন
পীরগঞ্জে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে সরকারকে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দলিল সম্পাদনের অভিযোগ উঠেছে। দলিল লেখকের একটি প্রতারক চক্র সাব-রেজিস্ট্রিার শামসুজ্জামান সর্দারকে মোটা অংকের উৎকোচক দিয়ে এই কাজটি করছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় তদন্ত চেয়ে এক দলিল লেখক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা রেজিষ্টার, ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি শামসুজ্জামান সর্দার অফিসে জয়েন্ট করার পর থেকে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘুষ দূণীর্তির ও অনিয়মের মহা উৎসবে মেতে উঠেছে। সাব-রেজিস্টার সাহেব কতিপয় দূনীর্তি গ্রস্থ্য অফিস ষ্টাফ ও দলিল লেখকদের ম্যানেজ করে তার নিজের জন্য দলিল প্রতি ১৩’শ টাকা, অন্ডার রেটের (শ্রেণী পরিবর্তন করে) দলিলে ৫ থেকে ২০ হাজার এবং অনেক ক্ষেত্রে তার ঘুষ নিয়ে প্রতিনিয়ত দলিল সম্পাদনে করে আসছেন। অনিয়মের ফলে সাব-রেজিষ্টারের পকেট ভর্তি হলেও সরকার প্রতিনিয়ত রাজস্ব হারাচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, ৪১৬৮/১৯. ৫৭১৬/১৯, ৫৭১৬/১৯, ৬২১৪/১৯, ৬৮২৫/১৯, ৭১৪২/১৯ ও ৭১৭৩/১৯ এছাড়াও শতাধিক দলিল শ্রেণী পরিবর্তন করে সরকারকে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজাস্ব ফাঁকিয়ে দিয়ে দলিল করা হয় হয়েছে। যে সব দলিল লেখক তার এই অনিয়েমর অংশিদার হয় তার দলিল দ্রæত পার করে দেয়া হয়। আর যারা তাকে ঘুষ দিয়ে খুশি করতে পারেন না তার দলিল আটকে দেয়া হয়।
দেখা গেছে, ৩ জানুয়ারী ২০১৯ ইং তারিখে পীরগঞ্জ সাব-রেজিস্টি অফিসে ৬৩/১৯ নং দলিল মূলে মৃত্যু জলিলের পালক পুত্র ইদ্রিস আলী আমোদপুর ও জাহাঙ্গীরাবাদ দুই মৌজায় ৩ একর ২৮ শতক জমির দলিল সম্পাদন করেন। আমোদপুর মৌজায় দলা ৪৮৬৫ টাকা, ডাঙ্গা ৪৪৮১ টাকা, ভিটা ২৯০০ টাকা এবং জাহাঙ্গীরাবাদ মৌজায় দলা ৮৩৪৬ টাকা ডাঙ্গা ১১৩৮৮ টাকা ভিটা ৩০৩৫ টাকা সরকারী নির্দ্ধারিত মূল্য ধার্য্য থাকার পরেও। জমি গ্রহিতা ইদ্রিস আলী ,দলিল লেখক, ও সাব-রেজিষ্টার যোগ সাজস করে জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে মূল্য কমে ১১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকায় জমি রেজিষ্ট্রি সম্পাদন করেন। সেখানে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয় এক লক্ষ ৮ হাজার টাকা।

আর এই দলিল সম্পাদনে সাব-রেজিষ্টার শামসুজ্জামান সর্দার ঘুষ গ্রহণ করেন ৫০ হাজার টাকা। এ ভাবে তিনি পীরগঞ্জ সাব-রেজিষ্টি অফিস থেকে প্রতিদিন ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা বাড়তি আয় করেন বলে ভোক্তভোগীরা বলেন।এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার শামসুজ্জামান বলেন, আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে একটি মহল এরকম উঠে পড়ে লেগেছে। আমি কোন অনিয়ম দূনীর্তির সাথে জড়িত নই।

এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা টি এম মমিন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতিতে তদন্ত চলছে তদন্ত শেষে বলা যাবে দূনীর্তি হয়েছে কিনা। দূনীর্তি করলে কেউ ছাড় পাবে না।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah