মঙ্গলবার, ১৫ Jun ২০২১, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

প্রতিবন্ধীকে ঘিরে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের আবেগঘন স্ট্যাটাস, আর্থিক সহায়তা প্রদান

প্রতিবন্ধীকে ঘিরে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের আবেগঘন স্ট্যাটাস, আর্থিক সহায়তা প্রদান

শাহজাহান আলী মনন/ নীলফামারী ৮ জুন 

প্রতিবন্ধী আরিফুজ্জামানকে ঘিরে নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান এক আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যা জেলা প্রশাসন, নীলফামারী এর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়েছে। এই পোস্টে তিনি কর্মকালীন সময়ের বিভিন্ন হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা শেয়ার করে স্মৃতিচারণ করেন।
৮ জুন সোমবার দেয়া পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ”সকালে অফিসে প্রথম পা রাখতে গিয়েই আরিফুজ্জামানের সাথে দেখা। স্টেশন থেকে কুড়িয়ে এক রিক্সাওয়ালা তাকে রেখে গিয়েছে ডিসি অফিসের নিচ তলায়। আরিফুজ্জামান হাটতে পারেনা। জন্ম থেকে তার দুটি পা অকার্যকর। বিধাতার ইচ্ছায় তার শরীরটাও স্বাভাবিক কাজকর্মের উপযোগী নয়। কথাও অস্পষ্ট মনে হল। বাবা তাকে আর দেখে না। আর কোনো ভাই বোন নেই তার। আত্মীয় স্বজন সবাই তার জীবনটাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের সাথেই দেখে। এই অদ্ভুত পৃথিবীতে সুস্থ মানুষের সাথেই মানুষ অনেক সময় ভাল ব্যবহার করেনা।ছোটোবেলা থেকেই আরিফুজ্জামান নানা রকম বৈষম্য ও ভাগ্যবিড়ম্বনার শিকার। মানুষের বাসায় কাজ করে তার মা তাকে লেখাপড়া শিখিয়েছে। ভর্তি করিয়েছে কলেজে। পৃথিবীতে মা ই তো সন্তানের সর্বাপেক্ষা আপন জন, সবচেয়ে বড় যোদ্ধা।
আরিফুজ্জামান যখন সকালে আমার সাথে কথা বলতে চায় আমি তাকে আমার কক্ষে আসতে বলি। কিছুক্ষণ পরে যখন বুঝতে পারি সিড়ি ভেঙে ওর তো উপরে উঠতে কষ্ট হবে তখন সাথে সাথেই নিচে নেমে যাই। ওর সব কথা শুনি। ওর মুখে মায়ের কথা শুনি। মনের ভেতর কেমন জানি খচ করে ওঠে। আমি ওর মা কে সশ্রদ্ধ সালাম জানাই। ওর এলাকার ইউ এন ও কেও জানাই বিষয়টি। আর স্রষ্টার কাছে ওর জন্য দুয়া করি। একজন মায়ের পাশে দাড়াবার সামান্য চেষ্টা করি। চাইলেই তো ওর সবকিছু ফিরিয়ে দিতে পারব না।
উপরে উঠে আসার সময় ভেবেছি স্রষ্টা অসীম দয়ালু। নিদারুণ কষ্টে কত মানুষের বেঁচে থাকা। এখনও কত মানুষ খাবারের সন্ধানে ক্ষেত-খামার, ডোবা-নালায় সংগ্রাম করে চলেছে। এইতো প্রায়ই শুনি বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যুর খবর। কত মানুষ দিন আনে দিন খায়। ফুটপাতের ল্যাম্পপোস্টের আলোয় পলিথিনে ঘেরা কত মানুষের রাত্রিযাপন। কত মানুষের সাজানো সংসার নদীভাঙনে চুরমার হয়ে যায়। পাহাড়ের ঢলে মাটি ভেঙে মরে গেছে কতজন। কত কত মেধাবী শিক্ষার্থী ভাল ভাল সাবজেক্ট থেকে পাস করে অন্তত যেকোনো একটি চাকরির আশায় বাড়ি আসেনা বহুদিন। এই মায়াবী পৃথিবীতে কত মানুষের জন্ম হয় আলোহীন, কন্ঠহীন। যার চোখে আলো নেই কিংবা পা দুটি অকার্যকর পৃথিবীতে তার ব্যাথা তার মত করে বোঝার সাধ্য আর কার আছে? এত এত দুঃখ, এত এত না পাওয়া,এত এত যন্ত্রণার মধ্যেও স্রষ্টা আমাদের সুস্থ রেখেছেন। পরম করুনাময় স্রষ্টার অনুগ্রহে আমরা চোখ মেললে দেখতে পাই, আমরা মা বলে ডাকতে পারি, হাত দিয়ে সন্তানদের জড়িয়ে ধরি। এটাই কি মানুষের বড় পাওয়া নয়?
উল্লেখ্য যে, উক্ত প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান জেলা প্রশাসনের নিজস্ব তহবিল থেকে নগদ অর্থও প্রদান করেন। আরিফুজ্জামান জেলার ডোমার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী।

এনপি৭১


© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah