রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন

প্রস্তাবিত বাজেট বর্তমান সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দেওয়ার বাস্তবসম্মত দলিল : ওবায়দুল কাদের

প্রস্তাবিত বাজেট বর্তমান সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দেওয়ার বাস্তবসম্মত দলিল : ওবায়দুল কাদের

ফাইল ছবি

ডেস্ক রিপোর্ট/ ঢাকা ১২ জুন

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট করোনার বিদ্যমান সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দেওয়ার বাস্তবসম্মত দলিল।
তিনি বলেন, ‘এবারের বাজেট প্রস্তাব ভিন্ন বাস্তবতায়, ভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রণীত হয়েছে। বাজেট করোনার বর্তমান সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দেওয়ার বাস্তবসম্মত দলিল। জীবন-জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনা সরকারের সময়োচিত সাহসী চিন্তার ফসল।’
ওবায়দুল কাদের আজ শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মলনে এ কথা বলেন।
২০২০-২০২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ্য থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংসদ ভবনের নিজ বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মণি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে করোনার কবল থেকে ‘অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের’ এক ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট হচ্ছে এবারের বাজেট। এটি একটি জনবান্ধব ও জীবন ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা। যার মাধ্যমে দেশের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উৎসাহ পাবে।
তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এডিবি’র সাময়িকীর হিসাবে আশঙ্কা করা হয়েছে- করোনা পরিস্থিতির কারণে ১৪ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাতে পারে। ফলে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকার বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। করোনার কারণে কয়েক মাস ধরে বিপর্যয়ের পরও বাজেটের আকার কমেনি, বরং বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রীসহ বাজেট প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা মোকাবিলার পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা, মানুষ যেন কষ্ট না পায়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সব প্রতিকূলতাকে জয় করে বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দুর্যোগে-দুর্বিপাকে এ দেশের মাটি ও মানুষের পাশে থেকে কাজ করে আসছে আওয়ামী লীগ।এই দলটির নেতৃত্বেই দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এদেশের জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি অর্জিত হয়েছে। স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে কয়েক মাস ধরে বিপর্যয়ের পরও আমাদের বাজেটের আকার কমেনি বরং বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত ১১ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির ধারাবাহিক অগ্রগতির সুফল এই বাজেট।
ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেকে এটাকে উচ্ছাভিলাষী মনে করতে পারেন। তবে, আওয়ামী লীগের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেশি। এই প্রত্যাশা পূরণে যত ঝুঁকি নিতে হয় শেখ হাসিনা তা নিবেন।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে আগের উন্নয়নের ধারাবাহিকতার কাক্সিক্ষত ভিত রচনাই এবারের বাজেটের লক্ষ্য। করোনার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজস্ব আয় হ্রাস পেয়েছে। ফলে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গত অর্থবছরে ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রা ৩ লক্ষ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা থেকে ২৯ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা হ্রাস করে ৩ লক্ষ ৪৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছর অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার প্রথম বছর। সুতরাং এই বাজেটে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অধিকতর গুরুত্ব পাবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্ছ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ ৪১ হাজার ২৭ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। করোনা মোকাবেলায় বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ সম্মুখযোদ্ধাদের সম্মানীবাবদ ৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় যে কোন জরুরী চাহিদা মেটানোর জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাজেটে কৃষিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্ছ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অধিক খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ ও বীজে প্রণোদনা, কৃষি পুনর্বাসনে জোর প্রদান, সারের উপর ভর্তুকি প্রদান অব্যাহত রাখাসহ বিভিন্ন কর্মদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আগামী অর্থবছরে কৃষি খামার যান্ত্রিকীকরণে ৩ হাজার ১৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষিতে ভর্তুকির জন্য ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী অর্থবছরে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য নিরাপত্তা খাতে গত অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ২১ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা করা হয়েছে। দীর্ঘ সাধারণ ছুটি ও লকডাউন জনিত কারণে সৃষ্ট দরিদ্র্য কর্মজীবী মানুষের কষ্ট লাঘবে সামাজিক নিরাপত্তার আওতা সম্প্রসারণ করে এই খাতকে তৃতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণের এই সময়ে কর্ম ঝুঁকিতে পড়া দরিদ্র কর্মজীবী মানুষের কষ্ট লাঘবে ৫০ লক্ষ মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন শেখ হাসিনা। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা এবং অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার আওতা সম্প্রসারণসহ নতুন করে উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা এই বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে ১১ লক্ষ ৫ হাজার জন নতুন উপকার ভোগী সংযুক্ত হবে এবং এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৩৯ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।
ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা সংকটের মধ্যেও সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। বাজেটে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘আমার গ্রামÑ আমার শহর’ বাস্তবায়ন এবং ‘সুনিল অর্থনীতির সম্ভাবনা’ কাজে লাগানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মেগাপ্রকল্পসহ এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিশীলতা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, করোনায় সৃষ্ট সংকট বিবেচনায় ব্যক্তিশ্রেণী ও কর্পোরেট লেভেলে করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে এ বাজেটে। লোয়ার কর্পোরেট ট্যাক্সের হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩২.৫ শতাংশে এবং ব্যক্তিশ্রেণীর ট্যাক্সের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ করা হয়েছে। শিল্প ও ব্যবসাখাতকে প্রতিযোগিতা সক্ষম করার লক্ষ্যে ব্যাংক ঋণের উপর সুদের হার ১ অংকের মধ্যে নামিয়ে আনা হয়েছে।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, সরকার পুঁজিবাজারকে গতিশীল ও উজ্জ্বীবিত করার লক্ষ্যে ৬টি স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এছাড়াও বিদ্যুৎখাতে গত এক দশকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যাপক বিনিয়োগের কারণে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করবে। যা কল-কারখানা, শিল্প-প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে এবং জীবনের সকল পর্যায়ে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সকল সঙ্কট ও সমস্যা মোকাবিকলা করে এগিয়ে যাবেই আশা প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, জয় আমাদের হবেই বাঙালির স্বপ্নজয়ের সংগ্রামে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গৌরবোজ্জ্বল অভিযাত্রা অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাবে ইনশাল্লাহ্। পরম করুণাময় আমাদের সহায় হোন।
বাজেট ঘোষণার সাথে সাথে কোনো ধরনের বিচার-বিশ্লেষণ না করেই বিএনপিসহ কতিপয় মহল আগে-ভাগে প্রস্তুত করা ও মনগড়া, পুরনো ও গতানুগতিক গল্পের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে দাবী করে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বলেন, বিএনপি নেতারা গত ১১টি বাজেট ঘোষণার পর বাজেট নিয়ে নানা ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন এবং বরাবরই বলেছেন বাজেট বাস্তবায়ন হবে না।অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে এ ধরনের বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতে দেখা গেছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, এবারও বিএনপি সংকট জয়ের সুপরিকল্পিত কর্মোদ্যোগ এই বাজেটের বিরুদ্ধে চিরায়ত ভঙ্গিতে মিথ্যাচার করছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় মাত্র ৫০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করেছিল আর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকের বাংলাদেশে করোনা মোকাবেলায় শুধুমাত্র স্বাস্থ্যখাতেই ৪১ হাজার ২৭ কোটি টাকা এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের পক্ষে এই বাজেটের ব্যাপকতা ও সম্ভাবনা অনুধাবন করা সম্ভব নয়। এটাই স্বাভাবিক।

সূত্র:  (বাসস)

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah