বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৬:০২ অপরাহ্ন

ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে রংপুরের ফুল ব্যবসায়ীরা

ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে রংপুরের ফুল ব্যবসায়ীরা

এনপিনিউজ৭১/স্টাফ রিপোর্টার/১৪ ফেব্রয়ারী/ রংপুর  

সামনে ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফালগুনকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে রংপুরের ফুল ব্যবসায়ীরা। বাজারে গোলাপের চাহিদা বেশি। গোলাপ আগেই যাতে না ফোটে সেজন্য ক্যাপ পড়ানো শুরু করেছেন এই ফুলচাষিরা।
বাগানে গোলাপে পড়ানা হচ্ছে ক্যাপ। খুবই সাবধানতার সাথে এ ক্যাপ পড়ানো হয়। যাতে গোলাপ আঘাত না পায়। রংপুর মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র ৫ কিলোমিটার দূরে সাতমাথা এলাকার গলাকাটা মোড় এরশাদ ইসলামের বাগানে রজনী গন্ধা, গোলাপ, যারবারা সহ বিভিন্ন ধরনের ফুলের চারা রোপন করে। ফুল বাগানে গিয়ে এ দৃশ্য লক্ষ্য করা হয়।

এরশাদ ইসলাম জানান, প্রতি বছর বসন্তে ফুলের চাহিদা বেড়ে যায়। একারনে আগে থেকেই ফুলের বাগানের কাজ শুরু করে দেন। জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে এসে শুরু করি ক্যাপ পড়ানো। তাই প্রতি বছর ভালোবাসা দিবস ও বসন্তের আগে গোলাপে ক্যাপ পড়ানো হয়। অনেক সময় গোলাপ আগেই ফুটে। এতে করে লোকসানে পড়তে হয়। ২০১২ সালে ১ দন জমিতে গোলাপের চাষ শুরু করেন। এখন তার তিন একর জমিতে ফুল চাষ করেন।


এরশাদ আরও বলেন, আবারো বাড়তি কর্মচারি নিয়ে ১২ তারিখ থেকে ফুল তোলা শুরু করবেন। পহেলা ফাল্গুনের সকাল পর্যন্ত ফুল সংগ্রহ করবেন। এবার তার বাগানে ৫ হাজারেরও অধিক গোলাপ রয়েছে। তিনি প্রতি পিচ গোলাপ ৮ টাকায় বিক্রি করে থাকেন। ৮ টাকা পিচ হিসেবে এবার তার আয় হবে ৪ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত ফুল ব্যবসায়ী গোলাপ ফুলের জন্য অগ্রিম অর্ডার দিয়েছেন। গত বছর ভালো বেচা বিক্রি হয়েছে।
তিনি জানান, রংপুর নগরীর সিটি বাজারে ক্যাপ পাওয়া যায়। সেখানে প্রতি পিচ ক্যাপের দাম নেয়া হয় ৪টাকা। পর্যায় ক্রমে নিয়ে এসে ক্যাপ পড়ানো শুরু করেন। তার কর্মচারি জানান, ফুলে ক্যাপ পড়ানো দৃশ্য দেখার জন্য অনেকেই বাগানে আসেন।
সিটি বাজারের ক্যাপের দোকানদার জানান, ফুলচাষিরা ভালোবাসা দিবসের আগেই ক্যাপ কিনে নিয়ে যায়। তিনি প্রতি পিচ ক্যাপ ৪টাকায় বিক্রি করেন। এ সময় তার বেশ বিক্রি হয়।
রংপুর মহানগরীসহ জেলায় অর্ধশতাধিকেরও বেশি ফুলচাষি ও রয়েছে। আর মহানগরীতে ফুল ব্যবসায়ী রয়েছেন ৩০জন।
মিন্টু মুল বিতানের প্রো ইসরাত জামান মিন্ট বলেন, আমার নিজস্ব ফুলের দোকান আছে। ১৯৯৯ সালে ফুলের ব্যবসা শুরু করি। এখন পর্যন্ত আমার নিজস্ব বাগান দুইটা রয়েছে। আর ইযারাত নেয়া আছে ২৫দন জমি, আর কনটাক বাগান ৩টা রয়েছে, বেশি চাহিদা থাকলে যশর থেকে ফুল সংগ্রহ করছি। ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুনকে সামনে রেখে ৭ জন কর্মচারী বেশি নেয়া হয়েছে। আমার টারগের্ট আড়াই লক্ষ টাকার ফুল বিক্রী হবে।
নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়া রোড সৌখিন ফুল বিতান প্রোঃ গোলজার হোসেন লিঠন বলেন, রংপুরে সবার প্রথম থেকে আমরা ফুলের ব্যবসা করে আসছি। আমি আগেই থেকে ফুল সংগ্রহ করি। দেখা যায় অনেক সময় ফুলেল চাহিদা বেশি হওয়ায় আমরা ঢাকা ও যশর থেকে ফুল সংগ্রহ করি। সামনে ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন ফুলের চাহিদা একটু আগের চেয়ে অনেক বেশি। আমার নিজস্ব গোলাপের বাগান রয়েছে। গোলাপ বাগানে ক্যাপ পড়া শেষ হয়েছে। নগরীর দর্শনা মোড়ে আমার ৪০ শতক জমিতে গোলাপের বাগান আছে। ৩ হাজার গোলাগে ক্যাপ পড়ানো হয়েছে। আমি যশর থেকে কেজি ক্যাপ ৬শত টাকা কর নিয়ে এসেছি।
চিড়িয়াখানা রোড় মাধবী ফুল ঘরের প্রোঃ মামুন মিয়া বলেন, আমার নিজের বাগান আছে তবুও বাহিরের বাগান থেকে ফুল সংগ্রহ করতে হয়। পহেলা ফালগুন ও ভালোবাসা দিবসে গোলাপ ফুল ও গাধা ফুলের চাহিদাটা একটু বেশি হয়। আমাদের দোকানে আমি সহ কর্মচারী ৬জন রয়েছে, পহেলা ফালগুন ও ভালোবাসা দিবসে উপলক্ষে আরো লোক নিয়ে আসবো দোকানে।

আনিছুল ইসলাম বলেন, আমি ৮ বছর থেকে রফংপুর নগরীর সাতমাথা এলাকায় ফুল চাষ করি। গোলাপ, গ্লোরী ও গাঁদা ফুল চাষ করি। আমার বাগানে ৮ জন কর্মচারী রয়েছে।

এনপি৭১/মেহি

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah