সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:১১ অপরাহ্ন

মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুলকে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করা হোক

মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুলকে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করা হোক

নিউজ ডেক্সঃ
 
রংপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট সংগঠক, মহান মুক্তিযুদ্ধের মুখপত্র সাপ্তাহিক রণাঙ্গন, সাপ্তাহিক মহাকাল ও দৈনিক দাবানল এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক-প্রকাশক, সাবেক সংসদ সদস্য, বীরমুক্তিযোদ্ধা খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুলকে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন রংপুরের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। কারণ তাকে জীবদ্দশায় সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি বলে মনে করেন তারা।শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) সাড়ে সাতটায় রংপুর প্রেসক্লাবে মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠান থেকে এ দাবি তোলা হয়।

প্রয়াত সাংবাদিক বীরমুক্তিযোদ্ধা খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রংপুর প্রেসক্লাব।

এতে নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দেশের জন্য কাজ করে গেছেন সাংবাদিক খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুল। মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন ভারত থেকে রণাঙ্গন নামে সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রকাশনা তার অনবদ্য সৃষ্টি। এ পত্রিকার মাধ্যমে মুক্তিকামী মানুষের কাছে যুদ্ধকালীন তথ্য পৌঁছাতে গিয়ে রণাঙ্গনের দুজন সংবাদকর্মী শহীদ হয়েছেন। খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুল শুধু মুক্তিযুদ্ধে অংশই নেননি, ‘‘ডিসেম্বরে বাঙলা মুক্ত’’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে তিনি তার দূরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীনের আগে ও পরে শ্রমিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিশু-কিশোরদের জন্য বিভিন্ন নামে সংগঠন গড়েছেন তিনি। জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। এতকিছুর মধ্যেও তিনি সংবাদপত্র জগত থেকে দূরে সরে যাননি। বরং উত্তরের সংবাদজগত ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্র তৈরিতে তিনি অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। সাপ্তাহিক রণাঙ্গন, সাপ্তাহিক মহাকাল ও দৈনিক দাবানল তার অমর সৃষ্টি। খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুলের হাত ধরে বৃহত্তর রংপুর-রাজশাহী অঞ্চলে অনেক সংবাদকর্মি, লেখক, কবি-সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মি, শিল্পীসহ শ্রমিক নেতা ও সংগঠক সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু তাকে জীবদ্দশায় সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। অথচ সবকিছুর বিবেচনায় গুণি এই মানুষটি জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত হবার যোগ্যতা রাখত।

স্মরণসভায় ক্লাবের সভাপতি মাহাবুব রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সরকার, সাবেক
সভাপতি মোনাব্বর হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাভেদ ইকবাল, সাবেক কোষাধ্যক্ষ সুশান্ত ভৌমিক, সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক মেরিনা লাভলী, বর্তমান কমিটির সহসভাপতি আব্দুর রহমান মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, দপ্তর ও যোগাযোগ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এনটিভির একেএম মঈনুল হক, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক দাবানলের সম্পাদক খন্দকার মোস্তফা সরওয়ার অনু, কার্যকরী সদস্য এসএম পিয়াল, সদস্য শরীফুজ্জামান বুলু, জাহাঙ্গীর কবির জিতু, রফিকুল ইসলাম, ফরহাদুজ্জামান ফারুক প্রমুখ।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুলকে রাজনৈতিক বিবেচনার উর্ধ্বে রেখে মুক্তিযুদ্ধ ও সংবাদপত্রে তার অবদানের স্বীকৃতির মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করার জন্য দাবি জানান।

আলোচনা শেষে প্রয়াত সাংবাদিক খন্দকার গোলাম মোস্তফা বাটুলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়।


© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এনপিনিউজ৭১.কম
Developed BY Rafi It Solution