বুধবার, ১৬ Jun ২০২১, ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন

রংপুরের উপজেলা নির্বাচনে সাধারনের হাতে আনসারের অস্ত্রগোলাবারুদ; জাল সার্টিফিকেটের ছড়াছড়ি

রংপুরের উপজেলা নির্বাচনে সাধারনের হাতে আনসারের অস্ত্রগোলাবারুদ; জাল সার্টিফিকেটের ছড়াছড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ৫ম উপজেলা নির্বাচনে ২য় ধাপে রংপুরের ৬ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রংপুরে উপজেলা নির্বাচনে আনসার ও ভিডিপির সদস্যদের নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও জাল সার্টিফিকেটের ছড়াছড়ি এবং যাছাই বাছাই না করে অর্থের বিনিময়ে পাবলিকের হাতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ দিয়ে ভোট ডিউটি করানো হয়েছে বলে অভি

এবিষয়ে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তারা জানান, অর্থের বিনিময়ে সাধারন পাবলিকের হাতে অস্ত্র দেয়া কথাটা সঠিক নয়। তবে সদস্যদের কাছ থেকে অল্প কিছু করে টাকা কালেকশন করেন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড লিডাররা। এবার জেলা কমা›ড্যান্ট আব্দুস সামাদ প্রতিটি উপজেলায় ৮ থেকে ১০টি করে তার পছন্দের গ্রুপ দেয়ার কারনে ঠিকমত বাছাই করা সম্ভব হয়নি।

জেলার পর পক্ষ থেকে যে সব গ্রুপ দেয়া হয়েছে তাদের কে কেমন ছিল তা জেলা স্যারই ভাল জানেন। যেহেতু স্যারের ওই গ্রুপগুলো বাছাই জরা হয়নি এজন্য হয়তোবা সাধারন পাবলিক আনসার ভিডিপির পোশাক পরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে ডিউটি করে থাকতে পারেও বলে উপজেলা অফিসাররা জানান।

পীরগাছা উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা জানান, এবার আমি নিয়াত করেছিলাম ভোট ডিউটিতে কোন আনসার ভিডিপি সদস্যদের কাছ একটি টাকাও নিব না। কিন্ত জেলা স্যার ৮ টি গ্রুপ দেয়ার পরও জনপ্রতি আমার কাছ থেকে ৫০ টাকা নেয়ায় আমি নিয়াত ঠিক রাখতে পারিনি। একই কথা বলেন অন্যান্য উপজেলা কর্মকর্তারাও।

বদরগঞ্জ ও সদর উপজেলার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন অভিযোগ আসায় এবার সদর উপজেলায় ভোট ডিউটিতে আনসার ও ভিডিপি সদস্য সঠিকভাবে বাছাই করা হয়েছে। যাতে করে কুড়িগ্রাম এবং পীরগঞ্জের মতো অনাকাংখিত ঘটনা না ঘটে।

এ ব্যপারে জেলা কমান্টড্যান্ট আব্দুস সামাদ বলেন, রংপুর সদর উপজেলায় যারা ভোট ডিউটি করবে তাদেরকে সঠিকভাবে বাছাই করে নেয়া হয়েছে। অন্যান্য উপজেলায় বাছাই হয়নি কেন আর আপনিতো প্রতিটি উপজেলায় ৮ থেকে ১০টি করে গ্রুপ দিয়েছেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৮ তারিখ অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে রংপুরে বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা এবং পীরগঞ্জের ভোট কেন্দ্রগুলোতে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৮ থেকে ৯ শত টাকা করে নিয়ে যাছাই বাছাই ছাড়াই তাদেরকে ডিউটি করানো হয়েছে। একারনে জাল সার্টিফিকেটের ছড়াছড়ি এবং আনসার ভিডিপি সদস্যরুপে সাধারন পাবলিকের হাতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছিল।

গ্রুপ পিসি ও এপিসিরা জানায়, ভুয়া স্মার্টকার্ডধারী জয়দুল এবং বয়স্ক ওমেদ আলী জেলা কমান্টড্যান্ট এবং কর্মকর্তাদের নাম বলে গ্রামের সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে জন প্রতি ৮শ থেকে ৯শত করে টাকা তুলে তাদেরকে ভোট এবং পুজা ডিউটিতে নিয়ে আসেন। আর তাদেরকে সহযোগীতা করেন সদর উপজেলা প্রশিক্ষক সামিউল। একারনে অনেক সার্টিফিকেটধারী আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা বাদ পড়ে যায় বলে তারা জানান।

আগামী ২৪ মার্চ উপজেলা নির্বাচনে সদর উপজেলার ভোট কেন্দ্রে ডিউটির জন্য গত ১৯মার্চ বাছাই করা হলেও সদর উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ ও উপজেলা প্রশিক্ষক সামিউল গ্রুপ দালাল ভুয়া আনসার কমান্ডার জয়দুল ও সাবেক আনসার কমান্ডার ওমেদ আলীর মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে কুটকৌশলে অর্থের বিনিময়ে তাদের পছন্দমত লোকদের অন্তভুক্ত করেছেন বলে তারা জানান।

এবিষয়ে জয়দুল ও ওমেদ জানান, স্যারেরা যেভাবে আমাদেরকে আদেশ নির্দেশ দেয় ্আমরা সেভাবেই কাজ করে থাকি। এখানে আমাদের কোন করনীয় নেই। তবে উপজেলা প্রশিক্ষক সামিউল জানান, সব কিছু জেলা কমান্ড্যান্ট স্যার জানেন, আমরা কারো কাছ থেকে টাকা গ্রহন করিনি। যারা অভিযোগ করেছে তারা মিথ্যে বলেছে। সাংবাদিকেরা যত পারে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করুক। আমার কিছুই হবে না।

এবিষয়ে আনসার ভিডিপির রংপুর রেঞ্জ পরিচালক পবিত্র কুমার সাহা জানান, ভোট ডিউটিতে আনসার ভিডিপি সদস্যদের যাছাই বাছাই করে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেউ এর ব্যত্যয় ঘটালে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে


© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah