সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

রংপুরের মিঠাপুকুরে ধর্ষণের এবং হত্যা মামলার আসামী রাজা মিয়া গ্রেফতার

রংপুরের মিঠাপুকুরে ধর্ষণের এবং হত্যা মামলার আসামী রাজা মিয়া গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রংপুরের মিঠাপুকুরে ধর্ষণের পর চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামী রাজা মিয়া (২৫) গ্রেফতার। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আলামত হিসেবে ব্লেড, কোদাল, বটি ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার।

মামলা সুত্রে জানা যায়, অত্র মামলার বাদী রবিউল ইসলামের মেয়ে রহিমা (১০) বুজরুক সন্তোষপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণীতে লেখাপড়া করে। গত (২৬ মে’২১) রবিউল ইসলামের জ্যাঠা মুন্নাফ মৃত্যুবরণ করায় রবিউল ইসলাম ও তার পরিবারের অন্যান্য লোকজন মৃত ব্যক্তির দাফন কাফন করার জন্য ছড়ানে যায়। রবিউল ইসলাম এর স্ত্রী ও মেয়ে রহিমা বাড়ীতেই ছিল। রবিউল ইসলাম তাহার জ্যাঠার দাফন কাফন শেষ করে বেলা অনুমান ৩টার সময় বাড়ীতে ফিরে আসলে তার স্ত্রী বলে যে, তাদের মেয়ে ১০/-টাকা নিয়ে বিস্কুট কেনার জন্য বাড়ীর পাশেই বুলবুলের দোকানে গেছে। এখন পর্যন্ত বাড়ীতে আসে নাই। তখন বাদী ও তার পরিবারের লোকজন শিশু রহিমাকে বুলবুলের দোকান সহ বিভিন্ন জায়গায় খোজাখুজি করতে থাকে। এরপর (২৭ মে’২১) সকাল অানুমানিক ৮ টার দিকে ১নং আসামী তার নানার বাড়ীতে না থকায় বাদীর সন্দেহ আরো বেড়ে যায়। তখন বাদী গ্রামের লোকজন সহ রাজা মিয়ার নানীর বাড়ীতে ঢুকে খোঁজাখুজি করাকালে উক্ত বাড়ীর পূর্ব দুয়ারী আধাপাকা ঘরের মেঝেতে কাঁদা দেখে সবার সন্দেহ বেড়ে যায়। এরপর তারা মিঠাপুকুর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের মেঝে খুড়ে শিশু রহিমার লাশ উদ্ধার করে। নিহতের বাবা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে, রাজা মিয়া ও হালিমা বেগমকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৬০, তারিখ- ২৭.০৫.২০২১ ইং, ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ দন্ড বিধি। উক্ত ঘরে অবস্থানকারী তার নানী হালিমা বেগম কে ঘটনার দিনই পুলিশ গ্রেফতার করে।

রংপুর জেলা পুলিশের এএসপি (ডি সার্কেল) মোঃ  কামরুজ্জামান আসামী রাজা মিয়ার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানান, এই মামলার প্রধান আসামী রাজা মিয়া ছিল ধরা ছোঁয়ার বাইরে। উক্ত আসামীকে ধরতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। কিন্তু মিঠাপুকুর থানা পুলিশ হাল ছেড়ে দেয় নাই। অবশেষে মিঠাপুকুর থানা পুলিশের একটি চৌকশ টিম বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টায় ফরিদপুর নগরকান্দা থানাধীন তালমার মোড় এলাকায় গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে।

এএসপি কামরুজ্জামান বলেন, নির্মম হত্যাকাণ্ডটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ঘটনাটি ব্যপক গুরুত্বসহকারে প্রকাশ ও প্রচার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত রাজা মিয়া (২৫), রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানাধীন বুজরুক সন্তোষপুর গ্রামের শামিম মিয়ার ছেলে। ছোট বেলা থেকেই রাজা নানীর বাড়িতে বড় হয়েছে। সে বিভিন্ন জায়গায় রুটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে কাজ করত। রাজা মিয়া ও রহিমাদের বাড়ি পাশাপাশি। ঘটনার দিন দুপুর ১২ টার দিকে রহিমা (ভিকটিম) তার মায়ের কাছ থেকে ১০/- টাকা নিয়ে বাড়ির পাশের দোকানে বিস্কুট কিনতে যায়। পথের মধ্যে রাজা মিয়ার সাথে দেখা হলে রাজা মিয়া তাকে আরও ১০ টাকা দিয়ে বিস্কুট আনতে বলে। এরপর বিস্কুট নিয়ে ভিকটিম রাজা মিয়ার কাছে আসলে রাজা মিয়া তাকে নিয়ে তার ঘরে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর তার পড়নের কাপড় খুলে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা করে। রহিমা চিৎকার শুরু করলে রাজা তার গলা টিপে ধরে। এতে রহিমার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। রাজা রহিমার মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ব্লেড দিয়ে তার গলা কাটে। এরপর কোদাল ও বটি দিয়ে ঘরের মধ্যে গর্ত খুড়ে লাশ গর্তের মধ্যে পুতে ফেলে। উক্ত গর্ত পানি দিয়ে লেপে দিয়ে তার উপর ধানের বস্তা রেখে দেয়। এরপর সে হত্যাকান্ড আড়াল করার জন্য সবার সাথে ভিকটিমকে খুজতে থাকে। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

গ্রেফতারের পর তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ব্লেড তার ঘরে লাশ গুমের জন্য খননকৃত গর্ত থেকে, বটি তার ঘরের বেডের নিচ থেকে, কোদাল পাশের মাহবুল এর বাড়ি থেকে এবং মেঝের রক্ত মোছার কাজে ব্যবহৃত লুংগি ও কাথা পাশের বাড়ির পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুজ্জামান জানান, গ্রেফতারকৃত আসামী সেচ্ছায় তার দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করায় তার জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এনপিনিউজ৭১.কম
Developed BY Rafi It Solution