সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:১৭ অপরাহ্ন

রংপুরের হারাগাছে তিস্তা নদীর পাশে আবাদি জমিতে চলছে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন

রংপুরের হারাগাছে তিস্তা নদীর পাশে আবাদি জমিতে চলছে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছের দালাদ হাট ব্রিজের নিচে তিস্তা নদীর পাশের ফসলী জমিতে কয়েকটি পয়েন্টে ড্রেজিং মেশিন দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন ও ভূমি আইন বিরোধী কাজ করে যাচ্ছে হারাগাছ ইউনিয়নের পলাশ চেয়ারম্যন এর লোকজন।
রাজা মিয়া,শিপলু মিয়া সানা গুন্ডা দিয়ে জমির মালিকের অনুমতি না নিয়ে তাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে ফসলী জমিতে অনেক টা গয়ের জোড়ে দিনে-রাতে ২৪ ঘন্টা এখন অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে চিহ্নিত ঐ মহলটি।
পাশেই হারাগাছ থানা কিন্তু পুলিশের কোন অভিযান সেখানে হচ্ছে না। তাই স্থানীয়
জনগণের মুখে মুখে প্রশ্ন উঠেছে, প্রশাসনের বিপক্ষে ওরা কারা? ওদের খুঁটির জোড় কোথায়? প্রশাসনের আদেশ উপেক্ষা করে এমন শক্তি
কোথায় পেলো?
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,হারাগাছ দালালের হাট ব্রিজের নিচে কিছু মানুষ বালু উত্তোলন করছে সেখানে তাদের অনুমতি আছে কি নেই আর তারা ঐ সকল জমির প্রকৃত মালিক কি না এমন প্রশ্ন করা হলে এক বালু
ব্যবসায়ী বলেন, তাতে আপনার কি? অনেক সাংবাদিক এখানে এসেছিল। দুইশ করে টাকা নিয়ে চলে গেছে। আপনি কোন সাংবাদিক ?আমি ছোট সাংবাদিক। ছবি তুলছেন কেন? লাগবে। এরকম অনেক ছোট ছোট বাক যুদ্ধ হওয়ার পর এই প্রতিনিধির মোটরসাইকেল চালকের হাতে কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলেন, রাখেন ভাই। আপনার মতো কোন সাংবাদিক এতো প্রশ্ন করে নাই। রিপোর্ট করিয়েন না। এই সাংবাদিক সম্মানের সাথে টাকা ফেরত দিয়ে চলে এসেছেন। দালাল হাট মানাস নদীর কয়েকটি পয়েন্টে ড্রেজিং মেশিন দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিযোগীতা চলছে। প্রতিদিন শত শত মাহিন্দ্র ট্রাক্টর করে তা বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হচ্ছে। স্থানীয় জনগণ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এভাবে উপর্যুপরী খনন করা হলে কিছুদিনের মধ্যে মানাস নদীটি দেবে যাবে।আর তাতে আশে পাশের গ্রামের মানুষদের সমস্যায় পরতে হবে আমরা শুনেছি সেখানে সরকারী জমি খনন করা হচ্ছে।কিন্তু জমিটি সরকারি না জমির মালিক অন্য জন কিন্তু পলাশ চেয়্যারম্যান এর লোক তাই তাদের কেউ বাধা দিতে পারে না কাউনিয়া উপজেলার ভুমি কর্মকর্তা ও ভয়ে সেখানে যেতে পারেন না। ওদের দমাতে হলে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেডের অভিযান লাগবে।

বালু মহল আইন এ বলা আছে,
সরকারের বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ধারা ৫-এর ১ উপধারা অনুযায়ী, পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। ধারা ৪-এর (খ) অনুযায়ী, সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা অথবা
আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারী দুই বছরের কারাদন্ড ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়
দন্ডে দন্ডিত হবেন। বলা বাহুল্য, এসব আইনের কোনো প্রয়োগ নেই। আর আইন ভঙ্গকারী যদি প্রভাবশালী হন, তাহলে তো আইন প্রয়োগের কোনো প্রশ্নই নেই।
এই বিষয়ে হারাগাছ পৌরসভার মেয়র এরশাদুল হক বলেন, দালাল হাট ব্রিজের নিচে বালু উত্তোলনের অভিযোগ অনেক আগেই পেয়েছি। কিন্তু আমার কিছুই করার নেই।যা করার প্রশাসন কে করতে হবে।

এই বিষয়ে হারাগাছ ইউনিয়নের পলাশ চেয়ারম্যন কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি কিছু বলতে রাজি হয়নি।
হারাগাছ থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন, দালাল হাট ব্রিজে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন এর বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করা চেষ্ঠা করা হলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। দ্রুত অভিযান চালানো হবে। কাউনিয়ার এ্যাসিল্যান্ড মেহেদী হাসান এ ব্যাপারে বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের অনুমতি নিয়ে সেখানে পুনঃরায় কঠোর অভিযান চালানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তহমিনা তারিন বলেন, সেখানে দ্রুত সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।


© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এনপিনিউজ৭১.কম
Developed BY Rafi It Solution