রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন

রংপুরে টার্কি খামারীরদের আট কোটি টাকা আত্নসাতের অভিযোগ

রংপুরে টার্কি খামারীরদের আট কোটি টাকা আত্নসাতের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:
রংপুরে অক্টালিংক এগ্রো লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ছয়জন পরিচালকের বিরুদ্ধে আট কোটি টাকার অধিক আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে। টার্কি মুরগির খামারীদের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ও বেকার পূর্নবাসনের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন প্রায় আট কোটি টাকা আত্নসাত করে গা ঢাকা দিয়েছেন।
আজ শনিবার দুপুরে রংপুর নগরীর ধাপ এলাকায় আরজি হাসপাতালের নিজ চেম্বারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এই অভিযোগ করেন অক্টালিংক এগ্রো লিমিটেড কোম্পানীর পরিচালক ডা. সৈয়দ আবু তালেব ও সাবেক চেয়ারম্যান মওদুদা আখতার।
গা ঢাকা দেয়া ছয় পরিচালকের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আনতে ১৮ নভেম্বর রংপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা হয়েছে বলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে ডা. সৈয়দ আবু তালেব বলেন, চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর আমার গ্রামের বাড়ি মিঠাপুকুর এলাকার শাকিল নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে ইসমাইল হোসেন শাওনের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে শাওন বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে স্থানীয় খামারীদের আর্থিকভাবে সাবলম্বী করে তোলাসহ এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, গত বছরের ৩ এপ্রিল জয়েন্ট স্টক কোম্পানী হতে অক্টালিংক এগ্রো লিমিটেড নামে এই কোম্পানী রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত হয়। ওই সময়ে আমার স্ত্রী মওদুদা আখতারকে চেয়ারম্যান, ইসমাইল হোসেন শাওন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তাকে সহ আরও ছয় জনকে পরিচালক করা হয়। ব্যক্তিগত কারণে চলতি বছরের ২৫ জুন কোম্পানীর চেয়াম্যান পদ থেকে মওদুদা আখতার পদত্যাগ করেন।

 

অক্টালিংক এগ্রো লিমিটেডের এই পরিচালকের অভিযোগ, কোম্পানীর কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাওন ও বাকি পরিচালকরা কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকেন। এমনকি গ্রাহকদেরকে যুক্ত স্বাক্ষরে চেক দেয়ার নিয়ম থাকলেও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে শুধুমাত্র কোম্পানীর চেয়ারম্যানের একক স্বাক্ষর করা চেক সরবরাহ করে।

কোম্পানীর কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে কোম্পানীর আয়-ব্যয় সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য সকল পরিচালককে নিয়ে সভা আহ্বান করতে বলা হলেও কেউ কোন সাড়া না দিয়ে কালক্ষেপণ করে। চাটার্ড একাউন্টিং ফার্মের মাধ্যমে সম্পন্ন করার জন্য তাগাদা দেয়া হলে কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাইল হোসেন শাওন, পরিচালক আরমানুল হক, শফিকুল ইসলাম, ফিরোজ কবির, আবুল কালাম আজাদ ও তাজুল ইসলাম কোন কিছু না জানিয়ে গ্রাহকের ৮কোটি টাকার অধিক পাওনা রেখে গা ঢাকা দেয়। কোম্পানীর পরিচালক হিসেবে এই ঘটনায় নিজের ব্যর্থতা ও দায়ভার এড়িয়ে যাবার সুযোগ নেই উল্লেখ করে ডা. সৈয়দ আবু তালেব বলেন, গা ঢাকা দেয়া পরিচালকদের একজন ছাড়া বাকিরা সবাই দিনাজপুর, নওগা ও গাইবান্ধা জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। এদেরকে আইনের হাতে সোর্পদ্দ করার জন্য খামারীদের দরকার। আমি এবং আমার স্ত্রী কোম্পানীর পরিচালক হিসাবে যতটুকো দায়ভার বর্তায় তা পরিশোধ করতে বাধ্য থাকব।

এদিকে ডা. সৈয়দ আবু তালেবের অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন আরেক পরিচালক ফিরোজ কবির। তিনি জানান, ‘আমাদের কোম্পানী ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক টাকা নষ্ট হয়েছে। একারণে কোম্পানীর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে খামারীদের সাথে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। কোম্পানীতে চেয়ারম্যান মওদুদা আখতার ও তার স্বামী পরিচালক সৈয়দ আবু তালেবের ৪০ ভাগ শেয়ার রয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ তোলার মানে তারা নিজেরা যে অর্থ অতœাসাত করেছে, তা আড়াল করতে পায়তারা করছে। তবে অফিস কার্যক্রম বন্ধ রেখে গা ঢাকা দিয়ে থাকার বিষয়ে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।
অন্যদিকে মিঠাপুকুরের টার্কি মুরগি খামারের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, অক্টালিংক এগ্রো লিমিটেড ঝুঁকিবিহীন চুক্তি ভিত্তিক টার্কি খামার ব্যবস্থাপনায় সর্বনি¤œ ২৫ হাজার ৫শ’ থেকে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকার প্যাকেজে সহ¯্রাধিক খামারীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা নিয়ে খামার পরিচালনা করেন। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী ৯০ থেকে ৯৯ দিন পূর্ণ হলে তারা খামারিদের টাকা পরিশোধ করছে না।

 

এনপি.নিউজ৭১/মেহি

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah