সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন

রংপুরে দুই বোনকে গণধর্ষণ অপমানে বড় বোনের আত্মহত্যা

রংপুরে দুই বোনকে গণধর্ষণ অপমানে বড় বোনের আত্মহত্যা

বিশেষ প্রতিনিধি  রংপুর
মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে আদিবাসী এক স্কুলছাত্রী ও তার ছোটবোনকে ধর্ষণ করেছে কথিত প্রেমিক এবং তার তিন বন্ধু। এ ঘটনায় বাড়িতে ফিরে লজ্জা এবং ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছে প্রেমিকা মেয়েটি।
প্রথমে বিষয়টি অজানা থাকলেও ওই আদিবাসী মেয়েটির মোবাইল ফোনে প্রতারক প্রেমিকের ছবি ও তাকে উদ্দেশ্য করে লেখা ‘বিশ্বাস ঘাতক’ আর ‘মৃত্যুর পর কবরে দু-মুঠো মাটি দেয়ার ক্ষুদে বার্তায় বেরিয়ে আসে আত্মহত্যার পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ঘটনার ৫দিন পর মঙ্গলবার রাতে  প্রেমিক রতনসহ ৩ জনকে আসামি করে ধর্ষণ এবং আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে মিঠাপুকর থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে।
তার সহপাঠি ও প্রতিবেশী ছাত্রীরা জানায়, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর পশ্চিমপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ওই আদিবাসী মেয়েটি। রংপুর শহরের মাহিগঞ্জ এলাকার ঢোলভাঙা গ্রামের বুধুয়া মিনজির ছেলে রতন মিনজির সাথে তার প্রেমের সর্ম্পক ছিল। ১৮ এপ্রিল মোবাইল ফোনে দেখা করতে তাকে ডাকে রতন। ওই দিন বিকেলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী চাচাতো বোনকে সাথে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয় সে । এরপর সরাসরি প্রেমিকের সাথে দেখা করতে ঢোলভাঙা গ্রামে যায় । সেখানে রতন ও তার তিন বন্ধু মিলে একটি নির্জনস্থানে নিয়ে দুই বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরদিন শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে তারা বাড়ি ফিরে। তখন তারা অসুস্থ থাকলেও ঘটনাটি কাউকে জানায়নি। এরপর লজ্জা এবং ক্ষোভে বিকেল ৫টার দিকে শয়ন ঘরে তীরের সাথে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে বড়বোন।
তার প্রতিবেশী ছোটবোন ১০ শ্রেণির এক ছাত্রী বলেন, অনেক দিন ধরে রতন মোবাইল ফোনে তার দিদিকে বিরক্ত করত, প্রেমের প্রস্তাব দিত। কিন্তু দিদি তাতে রাজি হয়নি। পরে নানা কৌশলে প্রেমের ফাঁদে পড়ে যায়। এরপর থেকে তারা মোবাইলে এসএমএসে নিয়মিত কথা বলত।
ধর্ষণের শিকার অপর স্কুলছাত্রীর মাসহ প্রতিবেশী অনেকেই বলেন, ধর্ষক পক্ষ হুমকি দিচ্ছে-সেতো আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নিলে ধর্ষণের শিকার অন্যজনকে মেরে ফেলা হবে।
এই ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খোলেনি, ধর্ষণের মামলাও করেনি।
এদিকে ঘটনার ৫দিন পর  নিহত মেয়েটির বোন বাদী হয়ে কথিত প্রেমিক রতনসহ ৩ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মিঠাপুকুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী বিশ^াস বলেন, আদিবাসী স্কুলছাত্রী  আত্মহত্যার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে সবার সাথে কথা বলেছি। ওই সময় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এরপরও মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করা হয়েছে। ধর্ষণের বিষয়টি জানার পর তার স্বজনকে ডেকে এনে মামলা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষক রতনের বাবা বুধুয়া মিনজিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
এনপি নিউজ/এএস/জজট


© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এনপিনিউজ৭১.কম
Developed BY Rafi It Solution