শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন

রংপুরে পুত্র-কন্যা ও গর্ভবতী স্ত্রীকে হত্যা করে গৃহকর্তার আত্মহত্যার চেস্টা

রংপুরে পুত্র-কন্যা ও গর্ভবতী স্ত্রীকে হত্যা করে গৃহকর্তার আত্মহত্যার চেস্টা

এনপিনিউজ৭১/স্টাফ রিপোর্টা/রংপুর ৮ ডিসেম্বর ২০১৯

রংপুর মহানগরীর বাহারকাছনা কাছনারদোলা এলাকার একটি বাড়ি থেকে রোববার দুপুরে পুত্র, কন্যা ও গর্ভবতী স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পারিবারিক দ্বন্দ্বে গৃহকর্তা অটো চালক আব্দুর রাজ্জাক শ্বাসরোধ করে তাদের হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যার চেস্টা চালায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।  রংপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (অপরাধ)  কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান জানান, পারিবারিক কলহের জেরে শনিবার রাতের কোন এক সময় ওই এলাকার খোকন মাছুয়ার পুত্র অটো চালক আব্দুর রাজ্জাক(৩২) তার গর্ভবতী স্ত্রী আসফিয়া আখতার রত্না (৩০) ব্লেড দিয়ে গলাকেটে এবং কন্যা নেহা (৩) ও পুত্র নিশাত(১) কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যার চেস্টা চালায়।

এলাকাবাসির কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ রোববার দুপুরে লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকারী আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করে হাসপাতাতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আব্দুর রাজ্জাক মাদকাসক্ত। পারিবারিক কি বিষয়ে দ্বন্দ্ব ছিল বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এদিকে পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি, পিবিআই ও সাদা পোশাকী আইনশৃঙখলাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনাস্থল রেকি করে রেখেছে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। র‌্যাব-১৩ ঘটনাস্থল থেকে আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করেছে। স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক বছর আগে কামালকাছনা বীরভদ্র ও বাহারকাছনা সীমান্তবর্তী হাতীভাঙা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় জমি কিনে বসবাস শুরু করেন আব্দুর রাজ্জাক। রোববার বেলা ১১টার দিকে প্রতিবেশী এক নারী ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরের ভেতর দুই শিশু সন্তানসহ গৃহবধূ রত্নার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তিনি আব্দুর রাজ্জাকের হাতে ও গলায় রক্ত দেখতে পেরে চিৎকার করলে অন্যরা ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিসহ আব্দুর রাজ্জাককে আটক করে। নিহত রতœার ভাই এসএম আব্দুর রশীদ বলেন, তার বোনের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক মাদকাসক্ত। গত ৬ মাস আগে অটোরিকশা কেনার জন্য টাকা দাবি করলে তাকে ৭০ হাজার টাকা দেয়া হয়। এছাড়াও টাকার জন্য তার বোনকে প্রায়ই মারধর করতো রাজ্জাক। শনিবার রাতে এই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে রত্নাসহ দুই শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাজ্জাকের মা ও বোন জড়িত থাকতে পারে দাবি করে তিনি হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্তসহ ন্যায়বিচার দাবি করেন।

মৃত রত্নার খালাতো বোন শাহনওয়াজ বেগম জানান, ১০ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তারা আগে স্টেশন পীরপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো। এরইমধ্যে বনিবনা না হওয়ায় রাজ্জাক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করেন। পরে তাদের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় প্রথম স্ত্রী রতœাকে নিয়ে রাজ্জাক বাহারকাছনা এলাকায় বছরখানেক আগে বাড়ি করে সেখানে বসবাস শুরু করেন। এলাকাবাসি জানায় রতœার আগেও আরেকটি বিয়ে হয়েছিল।

 

এনপি/মেহি


© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এনপিনিউজ৭১.কম
Developed BY Rafi It Solution