সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:১১ অপরাহ্ন

রংপুরে ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট এর প্রতারণার ফাঁদে সাবেক কারা কর্মকর্তা অপহরণ

রংপুরে ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট এর প্রতারণার ফাঁদে সাবেক কারা কর্মকর্তা অপহরণ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রংপুরে অভিনব কায়দায় অবসরপ্রাপ্ত সাবেক কারা কর্মকর্তাকে অপহরণ করে তার কাছ থেকে ৪৪ হাজার টাকা, ঘরি আংটি ও মোবাইলফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তাকে “সুস্থ্যজীবন” মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় ওই ভূয়া নারী ম্যাজিস্ট্রেটকে দিনাজপুরের ফুলবাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে (পিবিআই)।

বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) দুপুরে রংপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, গত (২ আগস্ট) রংপুর নগরীর সিও বাজারের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন কারাগারের সাবেক সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর আনজু মিয়া (৫১)। এ ঘটনায় আনজু মিয়ার স্ত্রী রংপুর মেট্রো পলিটন কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।

পরদিন (৩ আগস্ট) পিবিআইয়ের একটি টিম নিখোঁজ আনজু মিয়াকে ডিসি মোড়ে অবস্থিত “সুস্থ্যজীবন” মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র থেকে উদ্ধার করে। কারা কর্মকর্তা আনজুর বরাত দিয়ে পিবিআই’র পুলিশ সুপার জানান, বেশ কয়েকমাস আগে সৈয়দপুর এয়ারপোর্ট থেকে বিমানে ভ্রমণের সময় সাবেক কারা কর্মকর্তা আনজু’র সাথে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে (ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট) ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার আদান-প্রদান হয়, অনামিকার সাথে। পরিচয় ও ব্যক্তিগত ফোন নাম্বার আদান- প্রদানের পর থেকে প্রায় কথাবার্তা হতো
অনামিকার সাথে সাবেক ওই কারা কর্মকর্তার।

এই সুত্রে গত ২ আগস্ট সকালে অনামিকা মুঠোফোনে কারা কর্মকর্তা আনজুকে ডিসি’র মোড়ে সাক্ষাত করতে ডাকেন। সেখানে একটি নোয়াহ গাড়িতে বসে থাকা (ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট) অনামিকাকে দেখে আনজু মোটরবাইক থেকে নেমে এগিয়ে যান। এ সময় ২/৩ জন ব্যক্তি আনজু’কে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে “সুস্থ্যজীবন” মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

“সুস্থ্যজীবন” মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের কক্ষে ঢুকানোর আগে প্রচলিত নিয়মানুসারে আনজুর দেহ তল্লাশী করে নগদ ৪৪ হাজার ২৫০ টাকা এবং হাতঘড়ি, স্বর্ণের আংটি, ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে আনজুর বোন পরিচয় দাবি করা (ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট) অনিমা জব্দকৃত টাকা ও স্বর্ণের জিনিষপত্র নিয়ে নেন এবং পরবর্তীতে বাকী কাপড় চোপড় ও আনজুর মোটর সাইকেল তার ভাই এসে নিয়ে যাবে বলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

“সুস্থ্যজীবন” মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের কর্মচারীরা জানান, পরবর্তীতে খোঁজ পেয়ে আরজু মিয়ার পরিবারের সদস্যরা ওই নিরাময় কেন্দ্রে গিয়ে আরজু মিয়া ওই নারীর কেউ নন দাবি করলে “সুস্থ্যজীবন” কর্তৃপক্ষেরও সন্দেহ হয়। তারা আরজু মিয়ার ডোপ টেস্ট করে নিশ্চিতহন তিনি মাদকাসক্ত নন।

এদিকে ততোক্ষণে (৩ আগস্ট) তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে পিবিআই টিম “সুস্থ্যজীবন”মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র থেকে আরজু মিয়াকে উদ্ধার করে। পাশাপাশি নিরাময় কেন্দ্রের দুই পরিচালক রিংকু ও রাসেদকে আটক করে নিয়ে যায় পিবিআই টিম। আটক রিংকু ও রাসেদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী দিনাজপুরের ফুলবাড়ি থেকে অনিমা ওরফে আনিকা তাসনিমকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় সাবেক কারা কর্মকর্তা আনজু মিয়া  সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ভুয়া কথিত নারী ম্যাজিস্ট্রেট এর প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কথিত নারী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতারক অনিমা ওরফে আনিকা তাসনিম নিত্য নতুন প্রতারণা করে মানুষকে ঠকিয়ে থাকে। তার নামে বিভিন্ন থানায় মামলাও রয়েছে। এ মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত অনিমাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।


© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এনপিনিউজ৭১.কম
Developed BY Rafi It Solution