মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন

রংপুরে মামলা দিয়ে অসহায় পরিবারকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা

রংপুরে মামলা দিয়ে অসহায় পরিবারকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা

আছেফুল হুদা , রংপুর:

রংপুর নগরীর ভগি বালাপাড়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এর সহতায় একটি প্রভাবশালী পরিবার একের পর এক মিথ্যা মামলা, হামলা, হাজত বাসসহ অন্য একটি অসহায় পরিবারকে নানাভাবে হয়রানী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমির ঘটনায় একাধিক বার আপোষ মিমাংসা হলেও ওই প্রভাবশালী পরিবার তা না মেনে ওই অসহায় পরিবারের লোকজনকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হাজত বাস করিয়েছেন মর্মে জানা গেছে। এ ঘটনায় অই অসহায় পরিবারটি মিথ্যা মামলা ও ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদ থেকে রেহায় পেতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কমিশানার ও সিটি মেয়রের কাছে অভিযোগ দায়ের পরেও মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় পর পর দুটি মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, রংপুর নগরীর ভগিবালাপাড়া এলাকায় কামরুজ্জামান ও তার প্রতিবেশি সেহরাব মিয়া একই তফসীল ভূক্ত জমি ক্রয় করেন। নিজেরদের প্রয়োজনে উভয়ে বিনিময় দলিল সম্প্রদান করেন। সোহরাব মিয়া দলিল লেখককে হাত করে বিনিময় দলিলে ওভার রাইটিং করে প্রতারণার করেন। এই থেকে শুরু হয়ে উভয় পরিবারে মধ্যে দ্বন্দ, ফাঁসাদ। বর্তমানে মামলা,হামলা রুপ নেয়। সোহরাব মিয়া প্রভাবশালী হওয়ায়
১৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোফফার মিয়ার সহযোগিতা নিয়ে কামরুজ্জামানের অসহায় পরিবারকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। রংপুরে জেলা ম্যাজিঃ আদালতে সোহরাব মিয়া বাদী হয়ে কার্যবিধি আইনে ১৪৪/১৪৫ ধারায় ১/১২/২০১৮ ইং তারিখে মামলা করেন, সদর সিনিয়র সহকারী জজ দেওয়ানী কার্যবিধি আইনে ২০/১৯ নং মোকদ্দমা করেন, বাদী সোহরাবের স্ত্রী দিল রুবা বেগম লাকী, তার মেয়ে শরীফা নেছা খাদিজাকে ভিকটিম বানিয়ে কামরুজ্জামানের ছেলে শাওন মিয়াকে আসামী করে নারী শিশু আদালতে ১৭/০১/ ২০১৯ ইং তারিখে ৮/১৯ মামলা করেন। উক্ত মামলার তদন্তভার আদালত পিবিআইকে দিলে পিবিআই মামলার সত্যা না পেয়ে চুড়ান্ত রির্পোট দিয়ে দেয়। এতে সোহরাব মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। অনুরুপ ঘটনার পূর্ণ আবৃত্তি সৃষ্টি করে রংপুরে মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় শাওন ও শায়েস্তাকে আসামী করে ২৯/০৪/১৯ ইং তারিখে মেয়ে শরিফা নেছা খাদিজাকে বাদী করে নারী শিশু ৬৪ নং মামলা করেন। আবারও সোহরাব মিয়ার স্ত্রী দিলরুবা বেগম লাকীকে বাদী করে ৭/০৫/১৯ ইং তারিখে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় ১৮ নং মামলা করেন।
ভোক্ত ভোগী কামরুজ্জামান জানান, আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সকল মামলার স্বাক্ষী সাইফুল ইসলাম ও আব্দুস ছাত্তার বাবুলসহ সোহরাবের পরিবারের লোকজন হয়ে থাকেন।

সাবেক কাউন্সিলর জহুরুল হক আজাব্বর জানান, বর্তমান কাউন্সিলর আব্দুর গোফফার হোসেন সাহেব কামরুজ্জানের পরিবারের উপর উঠে পড়ে লেগেছে। এখন পর্যন্ত যে কয়টি মামলা হয়েছে সব কয়টি মিথ্যা। আমি আশ্চর্য হই একজন কাউন্সিলর থানায় বসে থেকে কিভাবে একটি পরিবারের বিরুধে মিথ্যা মামলা করে।
কাউন্সিলর আব্দুর গোফফার হোসেন জানান, কামরুজ্জামানের পক্ষে এলাকায় কোন লোক নেই। শুধু ১৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জহুরুল হক আজব্বর সাহেব তাকে সমর্থন করেন। তার পরিবারের লোকজন ছাড়া কেউ থাকে পছন্দ করে না। এদিকে, কামরুজ্জামান মিথ্যা মামলা ও বসত বাড়ি উচ্ছেদ থেকে প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah