সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০৩ অপরাহ্ন

রংপুরে মৌচাকের আয়োজনে আনিসুল হক পেয়ারার ৮৩ তম জন্মদিন উৎসব

রংপুরে মৌচাকের আয়োজনে আনিসুল হক পেয়ারার ৮৩ তম জন্মদিন উৎসব

ফজলে রাব্বিঃ

ভাষাসৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা, সমবায়ী, স্কাউট ও ক্রীড়াসংগঠক এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী মীর আনিসুল হক পেয়ারার ৮৩ তম জন্মদিন উপলক্ষে জন্ম উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাহিত্য পত্রিকা মৌচাক এর আয়োজনে মাহিগঞ্জ নিজবাসভবনে এ জন্ম উৎসব পালিত হয়। জন্ম উৎসবে এ ভাষা সৈনিককে প্রথমে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে কেক কাটা হয়। সবশেষে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের উপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব রাম কৃষ্ণ সোমানী, আলমগীর হোসেন চৌধুরী, সাহিত্য পত্রিকার মৌচাক এর প্রধান উপদেষ্টা রেজাউল করিম মুকুল, উপদেষ্টা সাঈদ সাহেদুল ইসলাম, সংগঠক ও সাংবাদিক শাহ আলম, নির্বাহী সম্পাদক মতিয়ার রহমান, সহকারি সম্পাদক কবিরাজ ইসমাইল মোল্লা, ছড়াকার ফজলে রাব্বী, সঞ্চালন করেন মৌচাক সম্পাদক রেজাউল করিম জীবন।

উৎসবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন মীর আনিসুল হক পেয়ারার কন্যা ইফফেত আরা লুবনা, জিলা স্কুলের সহকারি শিক্ষক কবি সাহিনা সুলতানা, বোন নিলুফা আরা বেগম। এর আগে রংপুর চেম্বার সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ফুলের শুভেচ্ছা জানান।

উল্লেখ্য মীর আনিসুল হক পেয়ারা রংপুরের মাহিগঞ্জে সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করে। স্কুল ও কলেজ জীবন হতে রাজনীতির ছাত্রলীগ সাথে যুক্ত হন।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পক্ষে বিভিন্ন সভা মিছিলে যোগ দেন এবং সক্রিয়ভাবে রংপুরে বাংলা ভাষার পক্ষে আন্দোলন করেন। ১৯৫৫ সালে ৯২ (ক) ধারা জারি হলে কারমাইকেল কলেজ থেকে বহিষ্কৃত হয় এবং পক্ষকাল হাজতবাস করে। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারি হলে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে লিপ্ত হলে পুণরায় কারা বরণ করেন।

১৯৬০ সালে শিক্ষকতার পাশাপাশি ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। ১৯৬৯ সালে গণ আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনে রংপুরে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭০ সালে নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে জয়ী করার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে এবং ১৯৭১ সালে মার্চ মাসে আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে প্রতিদিন মিছিল মিটিং ও সমাবেশ পরিচালনা করেন।

১৯৭১ সালে কুচবিহারে ৬ নং সেক্টরে প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে আমি দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৭১ সালে কুচবিহার জেলার টাপুরহাট নামক স্থানে ইয়ুথ ক্যাম্পের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হয়ে গেরিলা কায়দায় পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।

যুদ্ধকালীন সময় পাক হানাদার বাহিনী তাঁর বাড়ী দুইবার লুট করে এবং তাঁর প্রাণ নাশের জন্য কয়েকবার হানা দেয়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা হলে তিনি ঢাকায় অবস্থানকালীন সময়ে হত্যার প্রতিবাদের জন্য সংগঠিত হবার সময় পুণরায় গ্রেফতার হয়ে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকেন।

তিনি জাতীয় চারনেতার হত্যার সময় কারাগারের একজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। সেই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১৯৭৬ সালের শেষভাগে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ রংপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন এবং পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৬ সালে গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনে যুক্ত থাকায় পুনরায় জেলে আটক করা হয় এবং সাধারণ নির্বাচনের পূর্বে জেল থেকে মুক্তি দেন।

২০০০ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে হজব্রত পালন করেন। তিনি রংপুর জেলার সমবায়ী কৃষক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে সমবায়ের রাখেন।

২০০৯ সালে রংপুর পৌরসভা থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষাসৈনিক হিসেবে সম্মাননা, ২০১০ সালে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরী শহীদ মিনার চত্তরে দৈনিক প্রথম আলো ও গ্রামীণ ফোনের যৌথ উদ্যোগে ২১ ফেব্রুয়ারীতে ভাষাসৈনিক হিসেবে সংবর্ধনা পান।

মীর আনিসুল হক পেয়ারা সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন থেকে বর্তমানে বাসায় জীবন যাপন করছেন।


© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এনপিনিউজ৭১.কম
Developed BY Rafi It Solution