রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন

রংপুরে স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ায় আসক্তিতে স্বামী সন্তান ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ  তালাকের পরে যৌতুক মামলা

রংপুরে স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ায় আসক্তিতে স্বামী সন্তান ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ  তালাকের পরে যৌতুক মামলা

আকাশ খাঁন-রংপুর
রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট থানার মনোহর এলাকায় পরকীয়ার আসক্তিতে লায়লা আক্তার নামে এক গৃহবধুর বিরুদ্ধে স্বামী-সন্তানদের ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অসহায় দুটি সন্তান এখন দাদির কাছে থেকে মায়ের মমতা বঞ্ছিত হয়ে জীবন যাপন করছে। এ ঘটনায় স্বামী রানা লায়লাকে ছেড়ে দেয়ার পর উল্টো সে যৌতুক মামলা দিয়েছে রানার বিরুদ্ধে।

বেসরকারী সংস্থা নাগরিক উদ্যোগ, পুলিশ, এলাকাবাবাসি ও ভূক্তভোগির সূত্রে জানা গেছে, রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট থানার মনোহর অভিরাম গ্রামের মৃত্যু দেলোয়ার হোসেনের পুত্র রেজাউল হক রানার সাথে কোতয়ালী থানার কেল্লাবন্দ গ্রামের আমিনুরের কন্যা লায়লা আক্তারের সাথে বিয়ে হয় সালে। বিয়ের পরে তাদের ঘরে লিয়ন ও লিমন নামের ২ জন পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। এরই মধ্যে লায়লা আক্তার পরকীয়ায় আসক্ত হয়। এক পর্যায়ে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে পিতার বাড়িতে চলে যায় লায়লা। রানা স্ত্রী লায়লা বেগমকে আনতে গেলে তাকে মারপিট করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করার হুমকি দেয় লায়লা ও তার পরিবার। বিষয়টি জানিয়ে থানায় সাধারণ ডাইরী করেন রানা।

এদিকে লায়লা আক্তার স্বামীর ঘরে না আসায় স্বামী রানা স্ত্রীকে গত বছর ৬ অক্টোবর রংপুর মহানগরীর ১৮ নং ওয়ার্ডের মুসলিম ম্যারেজ রেজিষ্টার সৈয়দ বাতেন রোম্মান এর মাধ্যমে তালাক দেন। লায়লা আক্তার তালাকের নোটিশ প্রাপ্তের ৬ দিন পরে ১২/১১/২০১৮ ইং তারিখে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল ১-এ যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে রানা ও শাশুড়ি আনোয়ারা বেগকে আসামী করে পিটিশন মামলা করেন (যার নং ২৮৩/১৮)। আদালত মামলার তদন্তভার সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে দিলে তিনি তদন্ত করে আদালতের প্রতিবেদন দাখিল করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এই দম্পত্বির ১১ বছরের শিশু সন্তান মনোহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র লিয়ন জানান, আমার মা আমাদের সাথে থাকতে চান না। কোন কিছু হতে না হতেই তিনি নানার বাড়ি চলে যান। আমাদের তিনি কোন কেয়ারও করেন না। বাবা যেহেতু মাকে ছেড়ে দিয়েছেনম সেকারণে আমরা দুই ভাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাবার কাছেই থাকবো। অপর পুত্র স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র লিমন জানান, মা যেহেুত বারবার আমাদের ছেড়ে চলে যায়। তাই আর মায়ের কাছে যেতে চাই না। দাদি এবং বাবার কাছেই থাকতে চাই।

রানার মা আনোয়ারা বেগম বলেন, আমরা অনেক চেস্টা করেছি ছেলের বউকে শোধরানোর জন্য। কিন্তু সে শোধরালো না। মোবাইলে কোন ছেলের সাথে সারা রাতদিন কথা বলে। সেটা বললেই সে বিভিন্ন ধরনের কা- কীতি করে। বার বার আমাদের বাড়ি থেকে চলে যায়। এবার গিয়ে জানিয়ে দিলো যে আমার ছেলের সংসার করবে না। এমন সময় আমার স্বামী মরে যাওয়ার ৩ দিন পরে সে আমার এবং আমার ছেলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা দিলো। এখন দুটি শিশু সন্তানকে নিয়ে খুব কস্ট করে আছি। বাচ্চা দুটিও কস্টের মধ্যে পড়ে গেছে।

রেজাউল কহ রানা জানান, ছেলের সাথে ঘন্টার ঘন্টার পর ঘন্টা সে মোবাইলে কথা বলে। হাসি তামাশা এবং বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক আলোচনা করে। বিষয়টি থেকে আমি তাকে নিবৃত করার চেস্টা করেছি। কিন্তু কোনভাবেই তা শোনে না। কিছু বললেই সে বাপের বাড়িতে চলে যায়। এরপর বাপের বাড়িতে গিয়ে আমাকে জানিয়ে দেয় সে আমার সংসার করবে না। এরপর আমি নিয়ম মেনে তালাক দিলাম। কিন্তু তালাক দেয়ার পর সে আমার ও আমার বৃদ্ধা মায়ের নামে নির্যাতন ও যৌতুকের মামলা দিলো। আমি ন্যায় বিচার চাই।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত লায়লা আক্তার বলেন, আমার স্বামীর অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্ক থাকায় সে আমাকে সব সময় শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করত। আমি আদালতে মামলা দিয়েছি মামলার ফলাফল যা হবে তাই আমি মেনে নেব। ##


© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এনপিনিউজ৭১.কম
Developed BY Rafi It Solution