বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন

রংপুর বিভাগে গাণিতিক হারে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বাড়ছে

রংপুর বিভাগে গাণিতিক হারে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বাড়ছে

ফাইল ছবি

এনপিনিউজ৭১/ রণজিৎ দাস/ ১২ মে

রংপুর বিভাগে প্রতিদিন গাণিতিক হারে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশংকা জনক ভাবে বাড়ছে। রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় মঙ্গলবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে আরও ২৬০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়া রংপুর বিভাগে একই দিনে কেবল রংপুর জেলাতেই করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী বেড়েছে ৯ জন এবং বিভাগের ৮ জেলায় ২২ জন বৃদ্ধি পেয়ে এ পর্যন্ত ৩৫৭ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে রংপুর বিভাগের নীলফামারীতে ২ জন এবং দিনাজপুর ও গাইবান্ধা জেলায় ইতোমধ্যে ১ জন করে রোগী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরন করেছে।

বর্তমানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত রংপুরে একই দিনে ৯ জন বেড়ে সর্বমোট ১৪৩ জন, এর মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে ২৮ জন। পঞ্চগড়ে ২ জন বেড়ে ১৩ জন, নীলফামারীতে একই দিনে ৪ জন বেড়ে সর্বমোট এখন ৫২ জনের মধ্যে ৫২ জনই হাসপাতালে চিকিৎসারত, লালমনিরহাটে ২ জন বেড়ে ১৪ জন রোগীর মধ্যে ১২ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, কুড়িগ্রামে ১ জন বেড়ে ৩৪ জন রোগীর মধ্যে ৩১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, ঠাকুরগাঁয় ১ জন বেড়ে ২৫ জন রোগীর মধ্যে ২৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, দিনাজপুরে একই দিনে ২ জন বেড়ে সর্বমোট এখন ৫২ জন রোগী সনাক্ত হয়েছে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে ৩ জন। গাইবান্ধাা জেলায় ১ জন বেড়ে ২৪ জন রোগীর মধ্যে ১০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যলয়ের সূত্রে জানা গেছে।

এই বিভাগে নতুন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত আশংকায় গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ২৬০ জন। এর মধ্যে রংপুরে ৮৬, পঞ্চগড়ে ১৩, নীলফামারীতে ৪১, কুড়িগ্রামে ১৯, ঠাকুরগাঁয় ১৮, দিনাজপুরে ৬৪, গাইবান্ধায় ১৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। গতকাল ১২ ই মে মঙ্গলবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত এ নিয়ে বর্তমানে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁঁিড়য়েছে ৬ হাজার ৩৬৪ জনে।রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মে মঙ্গলবার পর্যন্ত রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ২৪ ঘন্টায় ৮৩৬ জন সহ মোট ২৩ হাজার ২১ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। বর্তমানে এই বিভাগে হোম কোয়ারেন্টাইনে অবস্থান করছে ৭ হাজার ৯৮৬ জন। এর মধ্যে রংপুরে ১ হাজর ১০৯ জন, পঞ্চগড়ে ২৭৬, নীলফামারীতে ১ হাজর ৭৯২, লালমনিরহাটে ২২৫, কুড়িগ্রামে ৫২১, ঠাকুরগাঁও জেলায় ৩২৬ জন, দিনাজপুরে ১ হাজার ৪৮৪ জন এবং গাইবান্ধা জেলায় ৬৩১ জন সহ মোট ৬ হাজার ৩৬৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদিকে রংপুর বিভাগের ৮ জেলা থেকে এ পর্যন্ত ৬৮ জন রোগী সুস্থ্য হওয়ায় তাদের ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে ১১, পঞ্চগড়ে ৪, নীলফামারীতে ১৩, লালমনিরহাটে ২, কুড়িগ্রামে ৪ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪, দিনাজপুরে ৭ এবং গাইবান্ধা জেলায় ১৩ জন সুস্থ হয়েছেন। নতুন ৩৩ জন চিকিৎসক পেল রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতাল। ৩৯ তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৩ জন চিকিৎসককে এ হাসপাতালে পদায়ন করা হলে মঙ্গলবার বিকেলে তারা নিজ কর্মস্থলে যোগ দেন।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা নতুন চিকিৎসকদের বরণ করে নেন। করোনা হাসপাতালে নতুন চিকিৎসকরা যোগদান করায় এ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রংপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৮ এপ্রিল রংপুর নগরীর সদর হাসপাতাল সংলগ্ন ১’শ শয্যা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতালকে ১’শ শয্যা বিশিষ্ট ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতাল হিসেবে ঘোষনা করা হয়। করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ১০ শয্যার আইসিইউ সাপোর্ট, পুরুষ রোগীদের জন্য ৬০ শয্যা ও নারী রোগীদের জন্য ৩০ শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসায় এ হাসপাতালে রংপুরের ১১ জন চিকিৎসক, ২৬ জন নার্স ও আয়া-ওয়ার্ড বয় ১৯ জন নিয়োজিত রয়েছে। আইসিইউ পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছেন ৮ জনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। রংপুর বিভাগে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছিলো চিকিৎসকদের। স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিকিৎসক সংকটের তথ্য তুলে ধরলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ হাসপাতালে নতুন করে ৩৩ জন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ করা হয়। মঙ্গলবার রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে চিকিৎসকদের যোগদান অনুষ্ঠানে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

সিভিল সার্জন হিরম্ব কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ আমিন আহমেদ খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ডাঃ সুলতান আহমেদ, সহকারী পরিচালক জেড এ সিদ্দিকী, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ কানিজ সাবিহা, মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ শায়খুল ইসলাম। আরো উপস্থিত ছিলেন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাঃ রাখী সরকারসহ অন্যরা।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ আমিন আহমেদ খান বলেন, নতুন চিকিৎসকরা যোগদান করায় এ হাসপাতালে রোগীদের দ্রুততার সাথে চিকিৎসা প্রদানসহ সার্বক্ষনিক মনিটরিংয়ে রাখা সম্ভব হবে। নতুন চিকিৎসক পেয়ে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় রংপুর বিভাগ এক ধাপ এগিয়ে গেলো। তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

এনপি৭১

 

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah