মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১২ অপরাহ্ন

রংপুর মেডিকেল হাসপাতালের সবগুলো অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র মেয়াদোত্তীর্ণ

রংপুর মেডিকেল হাসপাতালের সবগুলো অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র মেয়াদোত্তীর্ণ

উত্তরবঙ্গের অন্যতম চিকিৎসা কেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রমেক) অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা একেবারেই নাজুক হয়ে পড়েছে। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) রাসায়নিকের মেয়াদ এক বছরের আগে শেষ হলেও এ বিষয়ে জানেন না কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও বিদ্যুতের বহু পুরনো ওয়্যারিং ব্যবস্থায় চলছে ভারী যন্ত্রপাতি।

অগ্নিনির্বাপণে ফায়ার অ্যালার্মসহ আর যেসব অবকাঠামোর দরকার সেগুলোরও কোনো ব্যবস্থা নেই এ হাসপাতালে। ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে রমেক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক হাজার শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি রোগী অবস্থান করে। চিকিৎসকসহ স্টাফ রয়েছেন সহস্রাধিক। পাশাপাশি প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত হাজার মানুষ নানা প্রয়োজনে হাসপাতালে আসেন। এমন একটি হাসপাতালে অগ্নিদুর্ঘটনায় একমাত্র ভরসা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোর রাসায়নিক মেয়াদোত্তীর্ণ।

এছাড়া প্রায় ৫০ বছরের পুরনো হাসপাতাল ভবনের অধিকাংশ বৈদ্যুতিক তার সংস্কার না করেই ব্যবহার করা হচ্ছে পাঁচ শতাধিক এসি (এয়ারকন্ডিশনার) ও ভারী চিকিৎসা যন্ত্রপাতি। ওভারলোড অথবা শর্টসার্কিটে যেকোনো সময় আগুন ধরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রমেক হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন কক্ষের প্রবেশদ্বারে টাঙিয়ে রাখা হয়েছে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। মেয়াদ লেখা আছে ২০১৭ সাল। বেশ কয়েকটি কক্ষে কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রই নেই।

Rangpur-Medical

হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপণের রাসায়নিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রংপুর ফায়ার ফাইটিং ইকুইপমেন্টের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ বলেন, রমেকে দুই শতাধিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু এক বছরের বেশি আগে মেয়াদ শেষ হয়েছে। হাসপাতালে যোগাযোগ করেছেন কিন্তু বাজেট না পাওয়ায় রাসায়নিক নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

রংপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. ইউনুস আলী বলেন, রমেক হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতাল অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জলাধার নির্মাণ, ফায়ার অ্যালার্ম যন্ত্র স্থাপনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হলেও কাজ হয়নি।

অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা স্বীকার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় কুমার রায় বলেন, হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড রোধে আধুনিক সরঞ্জামের সংকট আছে। হাসপাতালে বিদ্যু নির্ভর চিকিৎসা সরঞ্জাম, এসিসহ বিভিন্ন কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পুরনো বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিদুর্ঘটনার অন্যতম কারণ শর্টসার্কিট। এ ঝুঁকি এড়াতে পুরনো তার পরিবর্তনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি।

অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের রাসায়নিকের মেয়াদ এক বছর আগে শেষ হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহৃত রাসায়নিকের মেয়াদ যে শেষ হয়েছে তা কেউ তাকে জানায়নি।


© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এনপিনিউজ৭১.কম
Developed BY Rafi It Solution