মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন

রফিকুলের ছবি আঁকার গল্প

রফিকুলের ছবি আঁকার গল্প

ইচ্ছে ও পরিশ্রমের মাধ্যমে  রফিকুল  গড়ে তুলেছেন রংপুরে এক বিশাল চিত্রকর্মের ভান্ডার। শুধু তাই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনার পাশে লাগান ভালোবাসার কৃষ্ণচুড়ার গাছ। এই দুটি কাজ করেন তিনি সামাজিক মানুষ হিসেবে রিকশা চালানোর ফাঁকে ফাঁকে।
 রংপুর মহানগরীর তাজহাট বাবুপাড়ার মোহাম্মদ আলীর পুত্র রফিকুল ইসলাম। বর্তমান বয়স তার ৭০। পেশায় তিনি রিকশা চালক। অস্টম শ্রেনি পর্যন্ত পড়ালেখা তার। স্ত্রী রশিদা বেগম, দুই মেয়ে ও তিন ছেলে, ছেলের বউ, নাতি, নাতনিসহ মা-বাবাকে নিয়ে একই বাড়িতেই দিন কাটে তার। তিন ছেলে রশিদুল ইসলাম রাজু, মাহমুদুল হাসান রাজিব ও রেজাউল ইসলাম রেজা বিয়ে হয়েছে। চাকরি আর দোকান করে সংসার চালান তারা। দুই মেয়ের মধ্যে রেশমা আকতার হাসি আগামী বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিবেন। ছোট মেয়ে রতনা আকতার খুশি এবার এসএসসি পরীক্ষার ফলপ্রত্যাশী। ১৯৮০ সাল থেকে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি ১৯৮৩ সালে রাতের অবসর সময়ে কাজ করতেন প্রেস শ্রমিক হিসেবে। দীর্ঘ ১৬ বছরে নগরীর ছকিনা, ছাপাঘর, নিপুন, দৈনিক দাবানল ও দৈনিক পরিবেশে প্রেস শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। প্রেসে কাজ করার সুবাদে তিনি কাগজে, আর্ট পেপারে স্কেচ করে ছবি আঁকা শুরু করেন। এতে ব্যপক সফলতা পান তিনি। ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর রংপুর মহানগরীর তাজহাট বাবুপাড়ার বটতলায় প্রথম দেয়াল অংকন করেন রফিকুল। রঙ তুলির আঁচড়ে তুলে ধরেন জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। সেই ছবির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন ইঞ্জিনিয়ার শাহাদত হোসেন। রংপুরের শতাধিক দেয়ালে রফিকুল এখন পর্যন্ত এঁকেছেন বাংলাদেশের মানচিত্র, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়া, জাতীয় চার নেতা ও সাত বীর শ্রেষ্ঠকে। দেয়াল অংকনের সাথে সাথে নিজ উদ্যোগে স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদরাসা, ঈদগাহ মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত সাড়ে তিন’শ কৃষ্ণচূড়া গাছের চারাও রোপন করেছেন তিনি। দেয়াল অংকন ও গাছের চারা রোপনের জন্য খরচ যা হয়েছে, তা তিনি রিকশা চালিয়ে গা ঘামা রোজগারের অর্থ থেকে ব্যয় করেন।
আঁকা আঁকি শেখার বিষয়ে রফিকুল ইসলাম জানালেন, দৈনিক দাবানল ও পরিবেশে যখন কাজ করি, তখন পত্রিকার গেটআপের স্কেচ করি। তখনই আমি ছবি সম্পর্কে একটা আইডিয়া পাই। সেই আইডিয়ার ওপর ভর করে প্রাকটিস শুরু করি ও সফল হই। এখন আমি একবার দেখলেই সেই ছবি একে দিতে পারি। এটা আল্লাহর রহমত।
 নিজের টাকায় কেন দেয়ালে দেয়ালে অঙকন এবং সেটা কিভাবে প্রসঙ্গে রফিকুল জানান, দিনভর রিকশা চালাই। রিকশাতেই থাকা তুলি আর রং। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং যে মোড়ের দেয়াল ভালো লাগে, সেখানে কাজ শুরু করি। রিকশা চালানোর ফাঁকে ফাঁকে বসে যাই ছবি আঁকতে। অথবা রিকশা চালাতে চালাতে যখন হাপিয়ে উঠি। তখন নির্দিস্ট জায়গায় গিয় ছবি আঁকতে বসে যাই। এভাবে আস্তে আস্তে ছবি একে ফেলি। এজন্য যা ব্যয় হয়, তা আমি নিজের রোজগার থেকে ব্যয় করি।
কেন এই উদ্যোগ জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম জানান, আমি মুক্তযুদ্ধ দেখেছি। নিজের চোখে। সেই দৃশ্য এখনও আমাকে তাড়া কওে বেড়ায়। সেকারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন মোড়ে মোড়ে আমি মুক্তিযুদ্ধে এবং এদের সংগঠকদের চিত্র আঁকছি। যাতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে চায়। তারা মুক্তিযুদ্ধের মুল লক্ষ বাস্তবায়নে অগ্রগামি হয়।
 বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজের টাকায় কৃষ্ণচুড়া গাছ রোপনের বিষয়ে চিত্রশিল্পী রফিকুল ইসলাম জানান, কৃষ্ণচুড়া ফুলের গাছ আমার ভালো লাগে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্নস্থাপনার সামনে যদি এই গাছটি থাকে। তাহলে শেখানে একটি মুগ্ধ পরিবেশ তৈরি হয়। সেকারনেই আমি রিকশা চালিয়ে সংসার চালানোর পর সেখান থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে চারা কিনে রিকশা চালানের ফাঁকে বিভিন্ন স্থানে এই গাছের চারা রোপন করি। ফাঁকে ফাকে সেটির পরিচর্যা করি। এ পর্যন্ত সাড়ে ৩শ এই গাছ লাগিয়েছি।
রফিকুল ইসলাম জানান, আমার একটি ইচ্ছে আছে পায়ে হেটে আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করে গণভবনে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করতে চাই। টুঙ্গিপাড়ায় এবং গণভবনে দুটি কৃষ্ণচূড়া চারা রোপন করতে চাই। পাশাপাশি যাত্রাপথে বিভিন্ন দেয়ালে বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকতে চাই। শরিফুল ইসলাম
বদরগঞ্জে নিজের জমিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করতে দিয়ে
ভিটেমাটি ছাড়াতে এক অসহায় পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা


© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah