বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত হলেন উত্তরের সাংবাদিকতার বাতিঘর আলী আশরাফ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত হলেন উত্তরের সাংবাদিকতার বাতিঘর আলী আশরাফ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃরাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হলো উত্তরের সাংবাদিককতার বাতিঘর ঐতিহাসিক দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা তিনবিঘা করিডোরের বন্দি মানুষকে নিয়ে প্রথম রিপোর্টকারী সাংবাদিক বাংলাদেশ টেলিভিশনের রংপুর প্রতিনিধি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আশরাফকে।

মঙ্গলবার বাদ জোহর নগরীর কামালকাছনা জামে মসজিদ মাঠে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন রংপুর জেলা প্রশাসন। পরে মসজিদে নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।  এতে অংশ নেয় সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান, জেলা প্রশাসন, মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ প্রশাসন, সাংবাদিক ইউনিয়ন, প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব, সিটি প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, আওয়ামীলীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক, পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সদস্য ছাড়াও শত শত সংবাদকর্মী। পরে তার মরদেহ আনা হয় প্রেসক্লাবের সামনে। সেখানে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সাংবাদিক সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। পরে নুরপুর কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

সোমবার রাত ৮ টায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ২০১৭ সালের ৮ জুন তিনি স্ট্রোক করেন। এসময় প্রথমে তাকে নেয়া হয়েছিল কছির উদ্দিন মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে দুই দিন পর তাকে নেয়া হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে। তার ব্লাড প্রেসার ছাড়াও ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগ ছিল। এর পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তার নিউরো বিষয়ক অস্ত্রপাচার করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে ঘরবন্দি জবিন যাপন করছিলেন।

তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহনের পর রংপুর থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশন, দৈনিক সংবাদ, আমাদের সময়সহ প্রথম শ্রেনির গণমাধ্যমে সাংবাদিকতা করেছেন।তিনি লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা-তিনবিঘা করিডোরের মানুষের বন্দি জীবন দিযে প্রথম সংবাদ পরিবেশন করেছিলেন। তিনি রংপুর প্রেসক্লাবের একাধিকবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।  তিনি বিভিন্ন সময়ে  রংপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক দাবানল, দৈনিক যুগের আলো ও বায়ান্নোর আলোর নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ বেতার রংপুরের নগর সংবাদদাতা। তিনি সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদানের জন্য রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবে প্রণিত মোনাজাত উদ্দিন স্মৃতি সাংবাদিকতা পদকসহ অনেক পদকে ভূষিত হন।

তিনি দুই কন্যা, স্ত্রীসহ অসংখ্য গুনগ্রাহি রেখে মারা যান তিনি। তার বড় মেয়ে আমিনা লাবিব অমি  এবং বড় জামাই বাংলাদেশের প্রখ্যাত পরিচালক, অভিনেতা ও নাট্যকার। ছোট মেয়ে আদিবা লাবিব বনির স্বামী বাংলাদেশের বিশিষ্ট গায়ক কাজী শুভ। তার শব্দ এবং পুর্নতা দুই নাতি নাতনি আছে। তার স্ত্রী জেনিফার আলী এলি। তিনি  ১৯৭২ সালে ১১ মে রংপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রংপুর সফরে আসলে সার্কিট হাউজে তাঁকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বারান্দার ক্ষোপ ক্ষোপ বেয়ে বেয়ে উঠে বঙ্গবন্ধুর হাতে ফুল দিয়েছিলেন।

তাঁর মৃত্যুতে রংপুরের সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।  বর্ষিয়ান এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে রংপুরের সকল স্তরে নেমে আসে নিস্তব্ধতা।

জানাযা ও দাফনে অংশ নিয়ে স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে সহকর্মীরা বলেন, আলী আশরাফের মৃত্যুতে উত্তরের সাংবাদিকতার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেলো। যা কখনই পূরণ হওয়ার নয়। তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ সত এবং সাহসি সাংবাদিকতার পথিকৃত।


© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এনপিনিউজ৭১.কম
Developed BY Rafi It Solution