বুধবার, ২৮ Jul ২০২১, ০১:৫৯ অপরাহ্ন

রিপোর্ট পেতে বিলম্ব, বাড়ছে সংক্রমন।। নীলফামারীতে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবী: ২০ লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র ৩ হাজার জনের নমুনা সংগ্রহ 

রিপোর্ট পেতে বিলম্ব, বাড়ছে সংক্রমন।। নীলফামারীতে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবী: ২০ লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র ৩ হাজার জনের নমুনা সংগ্রহ 

শাহজাহান আলী মনন/ নীলফামারী /১৭ জুন

নীলফামারীতে করোনা উপসর্গ সন্দেহে নমুনা সংগ্রহ করা হলেও ফলাফল মিলছে না একদিনে। জেলায় পিসিআর ল্যাব না থাকায় নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পেতে সময় লাগছে তিন থেকে পাঁচ দিন। ফলাফল আসতে বিলম্ব হওয়ায় নমুনা  দেয়া ব্যক্তিরা করোনায় আক্রান্ত কিনা স্বল্প সময়ে জানতে পারছে না। ফলে নমুনা দিয়েও ঘুরে বেড়াচ্ছেন যত্রতত্র। এতে
আক্রান্ত ব্যক্তির সংর্স্পশে আসা ব্যক্তিরা নিজে যেমন সংক্রমিত হচ্ছে তেমনি অন্যদেরও সংক্রমিত করছেন। এতে নীলফামারীতে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সংখ্যা।
নীলফামারী জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাব না থাকায় প্রথম দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নীলফামারী জেলার নমুনা পরীক্ষা করা হতো। এতে সময় লাগতো একদিন। এরপর নীলফামারীর নমুনা পরীক্ষা শুরু হয় দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। নমুনা সংগ্রহ করে এখানে পাঠানোর পর ফলাফল আসতে সময় লাগছে তিন থেকে পাঁচ দিন। এ সময়ের মধ্যে নমুনা দেয়ার পর সম্ভাব্য করোনা ব্যক্তিরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রকাশ্যে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্তদের শরীরে তেমন উপসর্গ না থাকায় অনেকে বুঝতেও পারছেন না তিনি করোনা পজিটিভ কি না। ফলে ওই ব্যক্তি নিজের পরিবারসহ অন্যদের সংর্স্পশে গিয়ে সংক্রমণ ছড়াচ্ছেন।
জেলায় প্রায় তিন হাজারের কাছাকাছি মানুষের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ফলাফল আসে দুই হাজার মানুষের। এতে  ২৬৯ জন মানুষের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৬ জন।
নীলফামারীর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন করোনা ব্রিগেডের সমন্বয়কারী নবনীতা চক্রবর্তী বলেন, নীলফামারীতে প্রতিদিনই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। সে তুলনায় পরীক্ষা হচ্ছে খুবই কম। এখন পরীক্ষার আওতা বাড়ানো না গেলে পরিণতি হবে ভয়াবহ। নীলফামারী মেডিকেল কলেজে পিসিআর ল্যাব বসিয়ে নমুনা পরীক্ষার আওতা বাড়ানো সম্ভব।
তিনি বলেন, এখন অধিকাংশ রোগীর শরীরে উপসর্গ ছাড়াই করোনা শনাক্ত হচ্ছে। যারা নমুনা দিচ্ছেন তাদের ফলাফল আসতে দেরি হওয়ায় ওই ব্যক্তিরা নমুনা দেয়ার পর হাটে-বাজারে ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাচ্ছেন। এমনকি নীলফামারীতে নমুনা দেয়ার পর সপরিবারে ঢাকার নারায়ণগঞ্জে যাওয়ার পর তাদের ফলাফল পজিটিভ এসেছে, এমন ঘটনাও আছে।
এছাড়া অনেক মানুষ তাদের নমুনা পরীক্ষার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলেও সীমাবদ্ধতার কারণে করতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।
নীলফামারী সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি সাংবাদিক তাহমিনুল হক ববি বলেন, নীলফামারীতে যেহেতু মেডিকেল কলেজ রয়েছে। সেক্ষেত্রে এখানে একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন যৌক্তিক ও সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, পরীক্ষার আওতা বাড়ানো না গেলে সংক্রমণ ঠেকানো কঠিন হবে। জেলার ২০ লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে গত তিন মাসে করোনা ভাইরাস শনাক্তের জন্য প্রায় তিন হাজার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ফলাফল এসেছে দুই হাজার। যা জেলার জনসংখ্যার তুলনায় নগন্য।
সিভিল সার্জন রনজিৎ কুমার বর্মন বলেন, প্রথমদিকে আমাদের নমুনা পাঠানোর একদিনের মধ্যে পরীক্ষা হয়েছে। দিনে দিনে সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফলাফল আসতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। দিনাজপুরে বিলম্বের কারণে আমরা গত পাঁচ দিনের নমুনা ঢাকায় পাঠিয়েছি। জেলায় ল্যাব হলে এখানেও প্রতিদিন ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। সে ক্ষেত্রে বেশি বেশি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, নমুনা দেয়ার পর ফলাফল না আসা পর্যন্ত ওই ব্যক্তি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এতে করে কমিউনিটিতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।
জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, এখন সব জেলা চাচ্ছে তাদের জেলার নমুনার পরীক্ষা আগে হোক। এ অবস্থায় ল্যাবগুলোতে অনেক নমুনা জমা থাকছে। আমাদের জেলায় যদি একটা পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা যেত, তাহলে সমস্যা অনেক কমে যেত। যেহেতু আমাদের একটা মেডিকেল কলেজ আছে সেখানে ল্যাব স্থাপন করা যেতেই পারে। অনতিবিলম্বেই পিসিআর ল্যাব স্থাপনের ব্যাপারে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
এনপি৭১


© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah