মঙ্গলবার, ১৫ Jun ২০২১, ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন

লকডাউনের ধকল কাটিয়ে না উঠতেই কিস্তির খড়গ দিশেহারা হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ

লকডাউনের ধকল কাটিয়ে না উঠতেই কিস্তির খড়গ দিশেহারা হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ

শাহজাহান আলী মনন/ রংপুর ৭ জুন

ফলে কিস্তি দেয়া নিয়ে দেখা দিচ্ছে জটিলতা। লকডাউন তুলে নেয়ার পর দিন থেকেই এনজিওগুলোর কর্মী বাহিনী মাঠে নেমে পড়েছেন কিস্তি আদায়ে। অথচ সাধারণ মানুষ তাদের আয়ের ব্যবস্থাই ঠিক করে উঠতে পারেনি। অনেকে পূর্বের কর্ম হারিয়ে নতুন করে কর্মের খোজে রয়েছেন। আবার অনেকে কাজে যোগ দিলেও মজুরী বা বেতন পেতে নুন্যতম হলেও একমাস বা এক সপ্তাহ সময় লাগবে।
কিন্তু এনজিও’র লোকজন কোনভাবেই সময় দিতে চাচ্ছেন না। অনেক এনজিও কর্মী যেন সুদখোরদের মত ঘাড়ে চেপে বসে টাকা আদায় করতে তৎপর। তাদের দাবি করোনার ওছিলায় অনেক দিন ছাড় পেয়েছেন। এখন সরকার ছুটি তুলে নিয়েছেন, তাই আর কোন ছাড় দেয়া হবেনা। কিস্তি ঠিক মত না দিলে ভবিষ্যতে ঋণ পাওয়া নিয়ে সমস্যা হবে বলেও ভয় দেখানো হচ্ছে।
তাই অনেকে কিস্তির টাকা জোগাড় করতে গিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন গুজরান করতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকার তথা উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা না থাকায় ঋণ গ্রহিতরা বেকায়দায় পড়েছেন। তারা না পারছে কিস্তি দেয়া থেকে বিরত থাকতে না পারছে কিস্তি দিয়ে ঠিকভাবে চলতে।


আবার এ নিয়ে ঋণ গ্রহিতা ও কর্র্মীদের মাঝে তর্র্ক থেকে ঝগড়া বিবাদ এমনকি মারামারির মত অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। কোন কোন এলাকার লোকজন এমন দূঃসহ পরিস্থিতিতে কোন আক্কেলে কিস্তি নিতে আসছেন বলে এনজিও কর্মীদের উপর চড়াও হয়ে তাড়িয়েও দিয়েছেন। এতে পারস্পারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সৃৃষ্টি হয়েছে টানাপোড়েন। শহরের মানুষেরা এ ব্যাপারে একটু সচেতন হওয়ায় প্রতিবাদ করলেও গ্রামাঞ্চলে দেদারছে চলছে কিস্তি আদায়। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলো ভবিষ্যতে ঋণ প্রাপ্তির সুযোগ ধরে রাখতে কঠিন সময় পার করে চলেছে। তবুও কিস্তি প্রদানে দিন রাত এক করে ফেলছে।
কোন কোন এনজিও এক সপ্তাহের সময় দিয়ে গ্রাহকদের আল্টিমেটাম দিয়েছেন যে আগামী সপ্তাহ থেকে কিস্তি দিতেই হবে। কেউ কেউ মোবাইলে গ্রাহকদের আগাম জানিয়ে দিয়েছেন যে, সমিতির নির্দিষ্ট দিনেই কিস্তি দিতে হবে। একটি এনজিও গ্রাহকদের অফিসে গিয়ে কিস্তির টাকা পরিশোধ করে আসার জন্য মোবাইলে জানিয়েছে।
চলমান এ অবস্থায় প্রশাসনের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি জানিয়েছেন ঋণের কিস্তি আদায়ের ক্ষেত্রে সময় দেয়ার জন্য এনজিওগুলোর প্রতি নির্দেশনা প্রদানের। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে নির্দেশনা জারি করেছেন। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে এসেছে। অনেক জায়গায় কিস্তি আদায়ের কারণে কর্র্মীসহ শাখা ব্যবস্থাপককে আটকের ঘটনাও ঘটেছে। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে এ পরিস্থিতিতে নীলফামারীর সাধারণ মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান এখন একান্ত প্রয়োজন।

এনপি৭১


© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah