সোমবার, ১৪ Jun ২০২১, ১১:৪৩ অপরাহ্ন

লাশ রেখে পালালো স্বামী, পিতার বাড়ির লোকজনের দাফনে অস্বীকৃতি, দায়িত্ব নিল পুলিশ

লাশ রেখে পালালো স্বামী, পিতার বাড়ির লোকজনের দাফনে অস্বীকৃতি, দায়িত্ব নিল পুলিশ

শাহজাহান আলী মনন/ নীলফামারী ১১ জুন

জীবন-মৃত্যুর সার্বক্ষণিক সঙ্গী স্বামী স্ত্রী। পৃথিবীতে সব থেকে নিরাপদ আশ্রয় স্থল সন্তানের কাছে তার বাবা-মা ও পিতৃ পরিবার। আর একজন মানুষ হিসেবে তার অন্যতম অধিকার মৃত্যু পরবর্তী সম্মানজনক শেষকৃত্য। বর্তমান করো না পরিস্থিতি অনেক চেনা মানুষ কেও যেন অচেনা করে দিচ্ছে। মনোয়ারা বেগম (২৫) যিনি তাঁর নিকটজনদের একটু স্বচ্ছলতার জন্য নিজের জীবন নিজের সুখ স্বাচ্ছন্দ বিলিয়ে দিয়ে স্বামীর সাথে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করতেন। তার জীবনে যারা ছিলেন ওতপ্রত জড়িত সেই স্বামী ও পিতার পরিবার শুধু করোনা সন্দেহে তার লাশ দাফনে অস্বীকৃতি জানায়, ফেলে রেখে যায় তার লাশ। সংবাদ পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের অকুতোভয় সদস্যগণ পুলিশ সুপার, নীলফামারী জনাব মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বিপিএম পিপিএম মহোদয়ের নির্দেশে তার দাফনের দায়িত্ব নেয়।

মোছাঃ মনোয়ারা বেগম (২৫), স্বামী- শরিফুল ইসলাম, গ্রাম-উত্তর দেশীবাই বসুনিয়াপাড়া, থানা-জলঢাকা, জেলা-নীলফামারী। স্বামীর সাথে সেনোটেক্স গার্মেন্টস নবীনগর, খুরগাও, আশুলিয়া, ঢাকায় কাজ করত। ঢাকায় অবস্থানকালে সর্দি-কাশী ও জ্বর উপসর্গ নিয়ে গত শুক্রবার  রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য স্বামীসহ ভর্তি হয়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমন সন্দেহে নমুনা প্রদান করেন (রিপোর্ট অপেক্ষমান)। চিকিৎসারত অবস্থায় মঙ্গলবার রাত  একটা ৩০ মিনিটের সময় তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন।

অতঃপর স্বামীর বাড়ী ও পিতার বাড়ীর লোকজন মৃতদেহ রংপুর হতে আনবেনা এবং অত্র থানা এলাকায় দাফন করবেনা মর্মে বিষয়টি জলঢাকা পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোঃ রুহুল আমীন জানতে পারলে সকাল অনুমান ৭ ঘটিকার সময় থানায় আসিয়া অফিসার ইনচার্জ, জলঢাকা থানাকে জানায়।

মৃত দেহ আনা হলে জলঢাকা থানা পুলিশ দাফনের ব্যবস্থা করবে বললে প্যানেল মেয়রের মাধ্যমে যোগাযোগ করে রংপুর হাসপাতাল হতে মাইক্রোযোগে মৃতদেহ স্বামী শরিফুল ইসলাম এর মাধ্যমে জলঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করান।

মৃতার স্বামী শরিফুল ইসলাম সকাল দশটার সময় জলঢাকায় নিয়ে এসে বঙ্গবন্ধু চত্ত্বরে মৃতদেহ মাইক্রোতে রেখে কৌশলে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে মৃতার স্বামীর বাড়ীর ও পিতার বাড়ীর এলাকায় মৃতদেহ দাফনের জন্য যোগাযোগ করা হলে তারা দাফন করতে অস্বীকৃতি জানান। তখন জলঢাকা থানা পুলিশের করোনা ভাইরাস ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য এসআই মোঃ ওসমান গনি ও এএসআই ফুলমামুদ সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও মেডিকেল টিমের উপস্থিতিতে  প্যানেল মেয়র মোঃ রুহুল আমীন এর সহযোগিতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ০২ জন ইমাম দ্বারা মৃতা মনোয়ারার মৃতদেহ মঙ্গলবার বিকাল ৪টার সময় পৌরসভা কেন্দ্রীয় কবরস্থানে ধর্মীয় বিধান অনুসারে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এনপি৭১


© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah