রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন

শৈত্যপ্রবাহ-ঘন কুয়াশায় দুর্ভোগ উত্তরের মানুয়ের

শৈত্যপ্রবাহ-ঘন কুয়াশায় দুর্ভোগ উত্তরের মানুয়ের

এনপিনিউজ৭১/ স্টাফ রিপোর্টার/১৯ ডিসেম্বর ২০১৯

দেশের উত্তরের রংপুর বিভাগ জুড়ে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। সেই সাথে শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় দুর্ভোগ বাড়ছে। ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দুর্ঘটনা এড়াতে দিনের বেলা লাইট জ্বালিয়ে চালাতে হচ্ছে যানবাহন। চলতি মাসেই একটি শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় বিপাকে পড়ছেন ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষেরা।

আজ বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে শীতের কারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন তিস্তা, ধরলা, ব্রক্ষপুত্র, যমুনা, করতোয়া নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলসহ হিমালয়ের নিকটবর্তী জনপদ পঞ্চগড়, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রামসহ উত্তরের রংপুরের বিভাগের ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষ। তারা গরম কাপড়ের অভাবে রয়েছেন। এরইমধ্যে অনেকে শীতজনিত সর্দি-কাশি, নিউমেনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই অঞ্চলে তাপমাত্রা একটু বেশি কমে। বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বোচ্চ তামমাত্রা ১৮ দশমিক ৫ সেলসিয়াস। তবে এ মাসের শেষের দিকে শৈত্যপ্রবাহ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

শীতের শুরুতে রাতের তাপমাত্রা কম থাকলেও সকালে সূর্য ওঠায় তেমন শীত অনুভূত হয়নি। তবে গত কয়েকদিন আবহাওয়া পাল্টে গেছে। সেভাবে সূর্যের দেখা মিলছে না। সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা। বিকাল থেকেই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইতে শুরু করে। রাতভর বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ে। আর ভোর থেকে চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকে। রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে মানুষের চলাচল কম। কুয়াশার জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে লোকজন ঘর থেকে বের হচ্ছেন কম। শীতের শুরুতেই তীব্র শীত পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন গরিব লোকজন। কাজে যেতে না পারায় পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। খরড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছেন না ঘর থেকে। শীত নিবারণের জন্য স্বল্প আয়ের মানুষজন ভিড় করছেন পুরনো কাপড়ের দোকানে।

রংপুর নগরীর রিকশা চালক ইউনুস আলী বলেন, ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে মানুষের চলাচল কম। অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে রিকশা চালানো যাচ্ছে না।
পঞ্চগড় শহরের মসজিদপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস জানান, পঞ্চগড় হিমালয়ের খুব কাছাকাছি জেলা। এ কারণে এখানে প্রতি বছর তুলনামুলক শীতের প্রকোপ বেশী হয়। তবে এবার খুব শীত আগের সব রেকর্ড ভেঙ্গে যাবে। যা গত কয়েকদিন ধরে দেখছি। আগে সকাল সকাল সূর্য দেখা যেত। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, শীতজনিত কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা সবেচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালের বহিঃবিভাগে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।
রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, শীত মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকমের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রংপুর জেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে ৪৬০ পিস, প্রত্যেক পৌরসভায় ৪৬০ পিস ও রংপুর সিটির প্রত্যেক ওয়ার্ডে ২০০ পিস করে মোট ৪১ হাজার ৮৮০ পিস কম্বল ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। আরও কম্বলের বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এনপি৭১/মেহি


© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এনপিনিউজ৭১.কম
Developed BY Rafi It Solution