শুক্রবার, ২৫ Jun ২০২১, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন

সাব-রেজিষ্টারের-বিরুদ্ধে ১০ ধরণের অনিয়মের অভিযোগ; পীরগঞ্জে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে কবর থেকে জমি রেজিষ্ট্রি

সাব-রেজিষ্টারের-বিরুদ্ধে ১০ ধরণের অনিয়মের অভিযোগ; পীরগঞ্জে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে কবর থেকে জমি রেজিষ্ট্রি

রংপুরের পীরগঞ্জে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে মৃত্যু ব্যক্তির জমি লিখে নেয়ার ঘটনায় তোলপাড়। এ ঘটনায় রংপুর কোর্টে মামলা করেছে এক ভোক্তভোগী পরিবার। এদিকে সাব রেজিষ্টার শামসুজ্জামান সর্দারের বিরুদ্ধে দলিল সম্পাদনে ১০ ধরণের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর ব্যক্তির দলিল সম্পাদন, ভূয়া দাখিলা-খাজনা রশিদে দলিল সম্পাদন, দলিল প্রতি ১৩’শ টাকা বাধ্যতামূলক ঘুষ গ্রহণ, শ্রেণী পরিবর্তন করে সরকারের প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি, নকল নাবিশে ২’শ ৪০ টাকার স্থলে ৫’শ টাকা গ্রহণ, এক দলিলে একাধিক মৌজায় অতিরিক্ত ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ, বন্টননামা/অছিয়তনামা/পাওয়ার অব অ্যাটনী দলিলে জমির কম বেশির উপর সরকারী ফি স্ট্যাম্প ব্যতিরেকে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ, অফিস ত্যাগের পরে পিয়নের মাধ্যমে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ টি দলিলে ৫ থেকে ২০ হাজার ঘুষ গ্রহণ,জমি বিক্রেতাকে মারধরসহ ১০ ধরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ৩ দলিল লেখক ও ৩ নকল নাবিশকে নিয়ম-বহিভূত ভাবে সাময়িক বরখাস্ত করেন সাব-রেজিষ্টার শামসুজ্জামান সর্দার। সাব-রেজিষ্টারসহ দোষীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা রেজিষ্টার ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন।
মৃত্যু ব্যক্তির দলিল সম্পাদনে সরেজমিনে দেখাগেছে পীরগঞ্জ উপজেলার জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামের মৃত্যু তবিজ উদ্দিনের পুত্র আব্দুল কাদের মিয়ার ভাই আব্দুল জলিল মন্ডল ৩১ শে ডিসেম্বর হার্ড অ্যাটাক করায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। জলিল মন্ডল ১ লা জানুয়ারী ২০১৯ রাত্রি ৯.৫০ ঘটিকায় রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করে। ২ই জানুয়ারী পীরগঞ্জের জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামে বাড়িতে তার জানাযা শেষে দাফন কার্য্য সম্পূন্ন হয়।
এদিকে ৩ জানুয়ারী ২০১৯ ইং তারিখে পীরগঞ্জ সাব-রেজিষ্টি অফিসে ৬৩/১৯ নং দলিল মূলে মৃত্যু জলিলের পালক পুত্র ইদ্রিস আলী আমোদপুর ও জাহাঙ্গীরাবাদ দুই মৌজায় ৩ একর ২৮ শতক জমির দলিল সম্পাদন করেন। আমোদপুর মৌজায় দলা ৪৮৬৫ টাকা, ডাঙ্গা ৪৪৮১ টাকা, ভিটা ২৯০০ টাকা এবং জাহাঙ্গীরাবাদ মৌজায় দলা ৮৩৪৬ টাকা ডাঙ্গা ১১৩৮৮ টাকা ভিটা ৩০৩৫ টাকা সরকারী নির্দ্ধারিত মূল্য ধার্য্য থাকার পরেও। জমি গ্রহিতা ইদ্রিস আলী ,দলিল লেখক, ও সাব-রেজিষ্টার যোগ সাজস করে জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে মূল্য কমে ১১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকায় জমি রেজিষ্ট্রি সম্পাদন করেন। সেখানে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয় এক লক্ষ ৮ হাজার টাকা। আর এই দলিল সম্পাদনে সাব-রেজিষ্টার শামসুজ্জামান সর্দার ঘুষ গ্রহণ করেন ৫০ হাজার টাকা। এ ভাবে তিনি পীরগঞ্জ সাব-রেজিষ্টি অফিস থেকে প্রতিদিন ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা বাড়তি আয় করে থাকেন বলে ভোক্তভোগীরা বলেন।
এ ঘটনায় নিহত আব্দুল জলিলের ভাই কাদের বাদী হয়ে পীরগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রট আমলী আদালতে সব-রেজিষ্টার শামসুজ্জামান সর্দার, দলিল লেখক মোতাব্বের হোসেন, জাল দলিল গ্রহিতা ইদ্রিস আলীসহ ৬ জনকে আসামী করে পি আর ১৯/১৯ নং মোকদ্দমা করেন। বিচারক তদন্তভার পীরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জকে ন্যাস্ত করেন। পীরগঞ্জ থানার এস আই সাদ্দাম হোসেন তদন্ত করে ঘটনার প্রাথমিক সত্যাতা পান এবং তা আদালতে উপস্থাপন করেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী অব্দুল কাদের মিয়া বলেন, মৃত্যু ব্যক্তির কবর থেকে উঠে এসে দলিল করে দিতে পারে তা আমার জানা ছিল না। হাসপাতাল ও চেয়ারম্যান থেকে আমার ভাইয়ের মৃত্যু সাটিফিকেট সংগ্রহ করে কোর্টে মামলা করেছি। মামলার বিচার চলছে। সাব-রেজিষ্ট্রিার শামুজ্জামান সর্দার, দলিল লেখক মোতাব্বের হোসেন ও আমার ভাইয়ের পালক পুত্র ইদ্রিস আলী মিলে একটি ভূয়া দলিল সম্পাদন করে আমাদের প্রতি অ-বিচার করেছেন।
ইদ্রিস আলীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, জলিল মন্ডল আমার খালু তিনি আমাকে ছোট থেকে লালন পালন করেছে। তিনি অসুস্থ্য হলে আমিই তাকে দেখা শুনা করেছি। তিনি তার মৃত্যুর আগেই আমাকে তার স্থাবর অ-স্থাবর দিয়ে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিষ্টার শামসুজ্জামান সর্দারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি েেকান ভাবেই ঘুষ দূনীর্তি ও অনিয়মের জড়িত নই। অনেকের স্বার্থ হাসিলের না হওয়ায় আমার উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে আমার সন্মান ক্ষুন্য করছে।


© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah