শনিবার, ১৯ Jun ২০২১, ০৯:২২ অপরাহ্ন

সৈয়দপুরে ঐতিহাসিক ট্রেন গনহত্যা দিবস পালন

সৈয়দপুরে ঐতিহাসিক ট্রেন গনহত্যা দিবস পালন

শাহজাহান আলী মনন/ নীলফামারী ১৩ জুন

নীলফামারীর সৈয়দপুরের ইতিহাসের নির্মম ও হৃদয়বিদারক দিন ১৩ জুন। ঐতিহাসিক ট্রেন গনহত্যা দিবস হিসেবে পরিচিত এ দিনটি প্রতিবারের মত এবারও আনুষ্ঠানিকতার পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৩ জুন বিকাল ৫ টায় গনহত্যার স্মৃতি বিজড়িত স্থান গোলাহাট বদ্ধভূমির অম্লান চত্বরে পুষ্পমাল্য অর্পণ, শহীদদের স্মরণে সনাতন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা, আলোচনা সভা ও মোমবাতি প্রোজ্জ্বলনের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নারী সংসদ সদস্য রাবেয়া আলীম। বিশেস অতিথি ছিলেন নীলফামারী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাসিম আহমেদ, আওয়ামীলীগের উপজেলা সভাপতি শ্রমিক নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র আখতার হোসেন বাদল, সাধারন সম্পাদক ও শহীদ পরিবারের সন্তান মহসিনুল হক মহসিন, সাংবাদিক নিজু কুমার আগারওয়াল প্রমূখ।
আয়োজক কমিটির আহবায়ক ও সৈয়দপুর হিন্দু কল্যান পরিষদের সাধারন সম্পাদক সুমিত কুমার আগারওয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিগুলো সঞ্চালনা করেন শহীদ সন্তান সাংবাদিক এম আর আলম ঝন্টু। অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর খোলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এম আর আলী টুটুলসহ ১৩ জুনের গনহত্যার শিকার শহীদ পরিবারের সন্তান, প্রজন্ম ‘৭১ ও আওয়ামীলীগের উপজেলা ও পৌর কমিটির নেতাকর্মীবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের এই দিনে  সৈয়দপুর শহরের সংখ্যালঘু হিন্দু ও মাড়োয়ারী সম্প্রদায়ের নারী, পুরুষ ও শিশুদের নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় রেলওয়ে স্টেশনে জড়ো করা হয়। পরে তাদের একটি বিশেষ ট্রেনে তুলে নিয়ে গিয়ে শহরের উপকণ্ঠে গোলাহাট এলাকায় প্রায় ৪৫০ নারী-পুরুষ ও শিশুকে ট্রেনের মধ্যে নির্মমভাবে হত্যা করে হানাদার পাকবাহিনী। এসময় শিশুদের রেললাইনে আছড়ে এবং নারী ধর্ষণ করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। রাজাকার বিহারী নেতা এজাহার ও কাইয়ুম খানের পরিকল্পনায় ও প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় ৪০/৪৫ জনের ঘাতক দল এ নারকীয় হত্যাযঙ্গ চালায়। অমানবিক এ জঘন্যকান্ডকে হানাদার বাহিনী নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন খরচাখাতা’। মুক্তিযুদ্ধকালীন সৈয়দপুর শহরে সংঘটিত সর্ববৃহৎ ও লোমহর্ষ গণহত্যা এটি পরবর্তীতে এই বর্বর হত্যাযজ্ঞের স্থানটি সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিতি। যেখানে স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৫ বছর পর স্মৃতি অম্লান তৈরি করা হয়েছে।৷
এনপি৭১


© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah