মঙ্গলবার, ১৫ Jun ২০২১, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন

সৈয়দপুরে পাইকারী কাঁচাবাজার নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগী স্বার্থান্বেষীরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত- সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা

সৈয়দপুরে পাইকারী কাঁচাবাজার নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগী স্বার্থান্বেষীরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত- সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা

শাহজাহান আলী মনন/ নীলফামারী ১৪ জুন

নীলফামারীর সৈয়দপুর পাইকারী কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।রোববার ১৪ জুন বেলা ১২ টায় শহরের বাইপাস সড়ক সংলগ্ন সমিতির নিজস্ব বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সমিতির উপদেষ্টা আলহাজ্ব আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল। পৌর কাঁচাবাজার নিয়ে সৃস্ট ঘটনা নিয়ে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন সভাপতি মিজানুর রহমান লিটন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল মোহাম্মদ আজম। বক্তব্য রাখেন ইকু গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম, সাংবাদিক এম আর আলম ঝন্টু, ফয়েজ আহমেদ প্রমুখ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সংঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি মোস্তফা মারুফ বিন কবির, সহ সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শাহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক বজলার রহমান বাবলুসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সভাপতি মিজানুর রহমান লিটন জানান, দীর্ঘ ৫০ বছর যাবত পাইকারী কাঁচামাল (সবজি আড়ৎ) ব্যবসায়ীরা। প্রথমে এটি শহরের শহীদ ডাঃ জিকরুল হক সড়ক সংলগ্ন আজিমুদ্দিন হোটেলের পিছনে রেলওয়ে কোয়াটারের আশে পাশে গড়ে ওঠে এই বাজার। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে শহরের শহীদ তুলশীরাম সড়কস্থ নয়াবাজার এলাকায় বিশেষ পল্লী উচ্ছেদ হলে সেখানে সম্প্র্রসারিত হয় এটি। এস্থানে পৌর পরিষদের নিজস্ব ১২ শতক, খাস জমি ৩ শতক এবং ৩৬ শতক ব্যক্তিমালিকানা জমি। এই বাজারটি ও আগের রেলওয়ে বাজারটি শহরের আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠায় এবং দোকান মালিকরা ২ বছর পর পর ভাড়া বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাছাড়া গাড়ী পার্র্কিং ও প্রবেশ সুযোগ না থাকায় মালামাল লোড আনলোড করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভ্যানভাড়া দিতে হয় এবং মালামালও নষ্ট হয়। সে সাথে ব্যস্ততম শহীদ তুলশীরাম সড়কে সৃষ্টি হয় চরম যানজট। এতে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিপূূর্ণ এ সড়কে চলাচলকারীরাসহ শিক্ষার্থী, বিমানযাত্রী ও অফিসগামী নানা পেশার মানুষ বিড়ম্বনার শিকার হয়। এখানকার ব্যবসায়ী, যানবাহনের জটলায় সৃৃষ্ট যানজটের কারণে পুরো শহরে দেখা দেয় বিশৃৃঙ্খল পরিস্থিতি। এতে উত্তরবঙ্গের এ বৃৃহৎ আড়তটিতে সৈয়দপুরের বাইরে থেকে আসা পাইকারী ব্যবসায়ীরা যেমন দিন দিন বিমুখ হয়ে আশে পাশের বাজারগুলোতে ছুটছেন তেমনি স্থানীয় কৃষক ও চাষীরা তাদের উদপাদিত সবজি তথা কাঁচামাল বিক্রির ক্ষেত্রে ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে করে আমাদের এ বাজারের ঐহিত্য নষ্ট হতে বসেছে। তাছাড়া এই বাজারের মধ্যস্থলেই রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বাজারের শোরগোলের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়াতেও বিঘœ ঘটে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ বাজারে ভীড় থাকায় শহরজুড়ে বিরাজ করে অস্থিতিশীল অবস্থা।
সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল মোহাম্মদ আজম বলেন, দীর্ঘ দিনের এ সমস্য সমাধানের লক্ষ্যে দুই বাজারের সকল ব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে বিগত ২০০৮ সালে ৯৬ জন সদস্য নিয়ে সৈয়দপুর পৌর পাইকারী কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতি গঠন করা হয়। সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সৈয়দপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী অনুযায়ী শহরকে যানজটমুক্ত করতে ও সুষ্ঠু নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা করার লক্ষ্যে এবং ব্যবসায়ীদের অন্যান্য সকল সমস্য সমাধানে নিজস্ব অর্র্থায়নে ২০১২ সালে ১১২ শতক জমি ক্রয় করা হয় সৈয়দপুর-রংপুর বাইপাস সড়ক সংলগ্ন মিস্ত্রিপাড়া সেপটি ট্যাংক এলাকায়। পরবর্র্তীতে সেখানে ২০১৫ সালে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যাংক ঋন নিয়ে নির্মান করা হয় প্রায় শতাধিক দোকান। যা লটারীর মাধ্যমে সমিতির সদস্যদের মধ্যে পজেশন হিসেবে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে নতুন জায়গায় বাজারটি স্থানান্তর করা হয়নি কিছু মধ্যস্বত্বভোগী স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির ষড়ষন্ত্রের কারণে।

এমতাবস্থায় করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ১১ এপ্রিল উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি, পৌর পরিষদ, থানা প্রশাসন যৌথ উদ্যোগে শহরে জনসমাগম এড়াতে পাইকারী কাঁচা বাজার এখানে স্থানান্তর করেন। বিগত ৩ মাস যাবত অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে এখানে বাজার পরিচালিত হচ্ছে। এমতাবস্থায় ১ জুন সরকার লকডাউন শিথিল করার প্রেক্ষিতে নয়াবাজারের পূর্বের স্থানের সেই মধ্যসত্বভোগী স্বার্থান্বেষী মহল আবারও শহরের ভিতরে কাঁচাবাজার পূনঃস্থাপনের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উপজেলা প্রশাসনসহ পৌর কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গৃহিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাজার স্থায়ীভাবে বাইপাস সড়কে পরিচালনার ঘোষণা প্রদানের বিরুদ্ধে গত ১১ জুন বৃহস্পতিবার গুটি কয়েক ব্যবসায়ী যারা পৌরসভার নিজস্ব জমি ও খাস জমি দখল করে বিনা পয়সায় ব্যবসা করছেন এবং দোকানমালিকরা ভাড়াটিয়া লোকজনকে দিয়ে সাদা কাপড় পড়ে বিক্ষোভ করেছে। এই আন্দোলনের সাথে প্রকৃত পাইকারী কাঁচামাল ব্যবসায়ী বা আড়তদার কেউ জড়িত নেই। আমরা বাইপাস সড়কের নিজস্ব জমিতে নির্মিত আমাদের নিজেদের দোকানেই ব্যবসা পরিচালনা করতে চাই। এখানে আমরা এই বৈশ্বিক মহামারী করোনার মধ্যে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব ও অন্যান্য স্বাস্থ্যনীতি মেনে অত্যন্ত খোলামেলা পরিবেশে ব্যবসায়ীক কার্যক্রম চালাতে পারছি। যা নয়াবাজারের ওই আড়তে কোন দিন কল্পনাও করা যায়না। গুটি কয়েক ব্যক্তির ষড়যন্ত্রের কারণে সৈয়দপুরের বৃহস্তর জনগোষ্ঠীর জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে পারিনা। বিশেষ করে সমিতির সদস্য ব্যবসায়ীদেরকে আাবারও ওই জায়গায় নিয়ে গিয়ে মধ্যস্বত্বভোগী গোষ্ঠীটার হাতে জিম্মি হতে দিবনা।

প্রয়োজনে নিয়মতান্ত্র্রিক আন্দোলণের মাধ্যমে পূর্র্বের মতই সকল ষড়যন্ত্রকে নস্যাত করে আমরা আামাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি সৈয়দপুর শহরকে সম্প্রসারিত করা ও শহরের ভিতরের পরিবেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগকে সহযোগিতা করবো। এক্ষেত্রে প্রশাসনসহ সংবাদকর্মী ও সৈয়দপুরের সচেতন জনগণের সহযোগিতা কামনা করছি।

এসময় ইকু গ্রুপের চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির নেতা আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম ব্যবসায়ীদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আর কোনভাবেই পাইকারী কাঁচামাল বাজার এখান থেকে স্থানান্তর করতে দেয়া হবেনা। কারণ আমরা সৈয়দপুরকে যানজটমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের একটি সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কাঁচামাল বাজার আবার নয়াবাজারে গেলে শহরটা চরম জঞ্জালপূর্র্ন্ই থেকে যাবে। এসময় উপস্থিত সংবাদকর্র্মীরাও ঘিঞ্জি পরিবেশের পরিবর্তে বাইপাস বাজারের পরিবেশ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সৈয়দপুরের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ব্যবসায়ীদের ন্যয়সঙ্গত কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এনপি৭১


© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah