শুক্রবার, ২৫ Jun ২০২১, ০৬:০১ অপরাহ্ন

সৈয়দপুরে প্রধান শিক্ষকের উত্যক্তের শিকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা

সৈয়দপুরে প্রধান শিক্ষকের উত্যক্তের শিকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা

এনপিনিউজ৭১/ স্টাফ রিপোর্টার/শাহজাহান আলী মনন/৪ মার্চ রংপুর 

প্রধান শিক্ষকের অশ্লীল আচরণ ও উত্যক্তের শিকার হয়েছে স্কুলের মেয়ে শিক্ষাথীরা। বিশেষ করে শাস্তি দেওয়ার নামে শরীরে হাত দেওয়ার ঘটনায় চরম আতঙ্কে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। এনিয়ে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের অভিযোগ নিয়ে স্কুলসহ আশেপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর জবাবদিহিতার মুখে প্রধান শিক্ষক ছুটির নামে প্রতিষ্ঠান থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ফলে এলাকাজুরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

জানা যায়, দীর্ঘ দিন থেকে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান দুলু প্রায়ই ক্লাস নেওয়ার সময় মেয়ে শিক্ষার্থীদের শরীরে হাত দেয়। অনেক সময় আপত্তিকর স্থানেও হাত দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মাঝে মাঝেই এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে স্কুলটির পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রীরা স্কুলের সহকারী মহিলা শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি জানায়। এতে স্কুল জুড়ে ঘটনাটি নিয়ে বেশ আলোড়ন দেখা দেয়। পরে অন্যান্য ক্লাসের মেয়েরাও এ ব্যাপারে অভিযোগ করে। এক পর্যায়ে আশে পাশের লোকজনের মাঝেও বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে এ ব্যাপারটি ছড়িয়ে পড়ে।
গত শনিবার এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ওই প্রধান শিক্ষকের কাছে এহেন ঘটনার বিষয়ে জবাবদিহি করতে গেলে প্রধান শিক্ষক কৌশলে পালিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি আর স্কুলে আসছেন না। এমনকি ছুটি নেওয়ার নামে নিয়মিত ডিউটি করা থেকেও বিরত রয়েছে। ফলে এ ঘটনায় সৈয়দপুর উপজেলা জুড়ে চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি যে শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের পিতার মতো দেখাশোনা করবেন। মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলবেন। তিনিই যদি মেয়ে শিশুদের প্রতি এহেন কুদৃষ্টি রাখেন এবং তার দ্বারাই যদি শিক্ষার্থীরা যৌন নিগ্রহের শিকার হন তাহলে কার কাছে সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য পাঠাবো?

এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে সরেজমিনে বোতলাগাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। সহকারী শিক্ষকরা জানান, তিনি ২ দিনের ছুটি নিয়েছেন বলে আমরা জানি। কিন্তু তারপর থেকে তিনি আর স্কুলে আসেননি। উপজেলা শিক্ষা অফিসে বলে ছুটি বৃদ্ধি করেছেন কিনা তা তাদের জানা নেই। এসময় তারা আরও বলেন, হেড স্যারের আচরণে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তবে আসলে কি হয়েছে তা আমরা জানিনা। হয়তো শিক্ষার্থীদের মাথায় বা হাতে-ঘাড়ে হাত দিয়ে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে পছন্দ হয়না। এর বেশি আর কিছু বলতে তারা অস্বীকৃতি জানান।

উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ এলাকায় প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান দুলুর বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী জানান, তিনি সকালে উপজেলা শিক্ষা অফিসে গেছেন। তারপর আর কিছু জানিনা। পরে প্রধান শিক্ষকের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেন কিন্তু আমি রংপুর মেডিকেলে আছি বলেই সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কল কেটে দেন। পরে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আর মোবাইল রিসিভ করেন নাই।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহজাহান আলী মন্ডলের অফিসে গেলে তিনি ছুটিতে থাকায় তার সাক্ষাত না পেয়ে তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে সহকারী শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়ার বিষয়টি সঠিক। তবে তিনি পিতৃসুলভ মনোভাব নিয়েই তিনি গলা ও ঘাড়ে হাত দিয়েছেন মাত্র। উচ্চতার মাপ নেওয়ার সময় এবিষয়টি অন্যান্য শিক্ষকের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা হয়েছে। তিনি ছুটির আবেদন করলেও এখনও মঞ্জুর হয়নি। শিক্ষা অফিসার ছুটিতে থাকায় বিষয়টি ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। আমি প্রধান শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছি। যাতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে না হয়।

এনপি৭১/শাহজাহান আলী মনন/ নীলফামারী/মেহি


© All rights reserved © 2020-21 npnews71.com
Developed BY Akm Sumon Miah