রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন

৫ মাস অপেক্ষার পরও বেরোবিতে ভর্তি হতে পারছেন না সোমালিয়ার ৪ শিক্ষার্থী

৫ মাস অপেক্ষার পরও বেরোবিতে ভর্তি হতে পারছেন না সোমালিয়ার ৪ শিক্ষার্থী

স্কলারশিপ হিসেবে টিউশন ফি ও আবাসিক সুবিধা পাওয়ার সব শর্ত পূরণের পরও ৫ মাস অপেক্ষা করেও রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছেন না আফ্রিকা মহাদেশের সোমালিয়ার চার শিক্ষার্থী। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অনুরোধে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে এসে এখন তারই অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অসহযোগিতার কারণে উচ্চশিক্ষা না নিয়েই নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। এতে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে বিদেশিদের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হলো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, স্কলারশিপ হিসেবে টিউশন ফি ও আবাসিক সুবিধা পাওয়ার সব শর্ত পূরণ করে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে আসেন আফ্রিকা মহাদেশের সোমালিয়ার চার শিক্ষার্থী আহমেদ মুহাম্মদ (রাষ্ট্রবিজ্ঞান, মাস্টার্স), শাফি আহমেদ (সিএসই, অনার্স), আব্দুল ফাতাহ (সিএসই, অনার্স) ও আব্দুর রহমান (ফিন্যান্স, বিবিএ)।
বিষয়টি জানতে পেরে ওই চার শিক্ষার্থীকে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অনুরোধ করেন ভিসি ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। ভিসির অনুরোধে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হয়ে ওই মাসের শেষের দিকে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য রংপুর আসেন তারা। ভিসির রেফারেন্সে তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া চলমান আছে জানিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ১০১নং কক্ষে অবস্থান করতে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু বাস্তবতা হলো ৫ মাস অতিবাহিত হতে চললেও এখন পর্যন্ত তারা ভর্তি হতে পারেন নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ১০১নং রুমে গিয়ে দেখা যায়, ওই রুমে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন বিদেশি চার শিক্ষার্থী। রুমটিতে কোনো সিলিং ফ্যানের ব্যবস্থা নেই। রুমের সামনে ময়লার স্তুপ ও জঙ্গল। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে মশায় পূর্ণ হয়ে উঠে রুমটি। এছাড়া, রুমটি বেসিন, বাথরুম ও টয়লেটের সাথে লাগানো। প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ আসছে সেখানে।
এমন পরিস্থিতিতে গত তিনদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়াকে সাথে নিয়ে ভর্তির সর্বশেষ অবস্থা জানতে ওই চার শিক্ষার্থীর পক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স করতে আসা সোমালিয়ান শিক্ষার্থী আহমেদ মুহাম্মদ যান ভিসির সাথে দেখা করতে। কিন্তু ভিসি তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এ ব্যাপারে তার কিছুই করার নেই।
ভিসির সাথে সাক্ষাত শেষে সোমালিয়ান শিক্ষার্থী আহমেদ মুহাম্মদ বলেন, ভাইস চ্যান্সেলর ইজ নট এ গুড পার্সন। আমি তার সাথে সাক্ষাত করতে গেলে তিনি কিছুই করতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। অথচ আমাদেরকে স্কলারশিপসহ পড়াশুনা করার সুযোগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখানে আনা হয়েছে। গত ৫ মাসেও আমাদের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। আর, তিনি এখন বলছেন আমাদের জন্য কিছুই করতে পারবেন না। তাই রমজানের আগে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমি সাক্ষাত করতে গেলে ভাইস চ্যান্সেলর আমার সাথে পশুর মত আচরণ করেন এবং তার চোখের সামনে থেকে চলে যেতে বলেন।
অপর শিক্ষার্থী শাফি আহমেদ বলেন, আমাদেরকে যে রুমে রাখা হয়েছে সে রুমে পশুকেও রাখা হয় না। আমরা বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে এসেছিলাম। পরে অনুরোধ করে আমাদেরকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। আসার পাঁচ মাস পরেও আমাদের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়নি। এমনকি ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কোনো সম্ভাবনাও নেই। ইতোমধ্যে কিছু করতে পারবেন না জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে যেতে বলেছেন ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ।
এ ব্যপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে সাথে নিয়ে আমি ভিসির কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। ভিসি তাদের জন্য কিছুই করতে পারবেন বলে জানিয়ে দেন। তুষার কিবরিয়া বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে এ ধরনের আচরণ করা দুঃখজনক। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য বিশ্বব্যাপী রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় তথা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।
এ ব্যাপারে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. তুহিন ওয়াদুদ জানান, ভিসি সোমালিয়ানদের অনুরোধ করে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আনলেন সোমালিয়ানদের। কিন্তু এখন তিনি তাদের সাথে খারাপ আচরণ করছেন। পাঁচ মাসেও তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় নি। তারা দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দেশে এবং বিদেশে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ন হবে। অবিলম্বে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি তার।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের সহকারী প্রশাসক তাবিউর রহমান বলেন, তাদের ভর্তির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে ক্লিয়ারেন্স না আসায় ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে না। আবাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে সর্বোচ্চ সুবিধা দেয়ার চেষ্টা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, এটি একাডেমিক বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল বিষয়টি দেখবে।
এ বিষয়ে জানতে ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর মোবাইলে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।


© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এনপিনিউজ৭১.কম
Developed BY Rafi It Solution